ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ |
২৮ °সে
|
বাংলা কনভার্টার
walton

একাউন্ট, মূল্য এবং লেনদেনের পরিমান সব কিছু বেড়ে যাওয়ায়, মাইলস্টোন ফিগার শক্তিশালী হবার লক্ষণ

২০২১ সালে ১ ট্রিলিয়ন ডলার রেকর্ড করেছে মোবাইল মানি ইন্ডাস্ট্রি প্রসেস

২০২১ সালে ১ ট্রিলিয়ন ডলার রেকর্ড করেছে মোবাইল মানি ইন্ডাস্ট্রি প্রসেস
২০২১ সালে ১ ট্রিলিয়ন ডলার রেকর্ড করেছে মোবাইল মানি ইন্ডাস্ট্রি প্রসেস

৩০ মার্চ জিএসএমএ তার ১০ম বার্ষিক ‘মোবাইল মানি শিল্পের অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন’ প্রকাশ করেছে। এতে প্রকাশ করা হয় যে, ২০২১ সালে মোবাইল মানি ব্যবহার ও গ্রহণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে এ বছর ১ ট্রিলিয়ন ডলার বার্ষিক রেকর্ড হয়েছে। দেখা গেছে এ শিল্পে নিবন্ধিত একাউন্টের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা ২০২০ সাল থেকে ১৮ শতাংশ বেড়ে বিশ্বব্যাপী ১.৩৫ বিলিয়নে পৌঁছেছে। প্রতি ঘন্টায় ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের পরিমাণ ৫ বিলিয়নের বেশি হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চালিকাশক্তি ছিলো মার্চেন্ট (বণিক) পেমেন্ট, যা এক বছরে প্রায় দ্বিগুণ। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ঝুকিপূর্ণ ব্যক্তি- বিশেষ করে মহিলাদের জন্য মোবাইল মানি কীভাবে অর্থ লেনদেন ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভূক্তির মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে।

মার্চেন্ট পেমেন্ট-এর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য

২০২১ সালে মোবাইল মানি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন এবং নগদ-ইন/নগদ-আউট লেনদেনের ক্ষেত্রে বৈচিত্রময় প্রভাব বিস্তার করেছে। এটি বর্তমানে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে (এলএমআইসি) মানুষ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইকোসিস্টেমে লেনদেনের বৃদ্ধি, বিশেষ করে মার্চেন্ট পেমেন্ট, আন্তজা‍র্তিক রেমিটেন্স, বিল পেমেন্ট এবং বাল্ক ডিসবারসমেন্ট; ইত্যাদি ক্ষেত্রে আন্ত:চলনযুক্ত লেনদেন ও বিশ্ব মোবাইল মানি লেনদেনের মিশ্রনে এর গুরুত্ব আরো বেড়েছে।

মার্চেন্ট পেমেন্ট ২০২১ সালে ‘মোবাইল মানি’ শিল্প বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। মার্চেন্ট পেমেন্টের মূল্যমান এখন প্রায় দ্বিগুণ, প্রতিমাসে লেনদেন প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। সেবাপ্রদানকারীরা জানাচ্ছেন যে, তারা তাদের প্লাটফর্মে ব্যবসাগুলোকে আরো প্রণোদনা দিয়ে আকৃষ্ট করতে পারেন, যেমন দক্ষ রিমোর্ট অনবোর্ডিং প্রক্রিয়া। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, Safaricom-এর M-PESA কোম্পানিগুলোকে কেনিয়াতে অনলাইন নিবন্ধনের অনুমতি দেয়া শুরু হয়েছে, যার ফলে দেখা গেছে ১৮ শতাংশের বেশি নতুন ব্যবসায়ি স্বেচ্ছায় অনবোর্ডিং করেছেন।

“২০২১ হলো সেই বছর, যখন মোবাইল মানি বি-টু-বি (বিজনেস টু বিজনেস) পরিষেবায় বৈচিত্র আনা শুরু করেছে। প্রথাগত ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পরিবার বা বন্ধুর কাছে অর্থ পাঠানো) লেনদেনের বাইরে এ শিল্প এখন ছোটোখাটো ব্যবসাগুলোকে আরো দক্ষতার সাথে পরিচালনা করতে এবং গ্রহককে আরো ভালো পরিষেবা দিতে সক্ষম হচ্ছে।“ বলেছেন ম্যাক্স কুভেলিয়ার, হেড অফ মোবাইল ফর ডেভেলপমেন্ট, জিএসএমএ।

আর্থিক ক্ষেত্রে নারীদের অর্ন্তভূক্তি বৃদ্ধি মোবাইল মানি বিশ্বের সবচেয়ে ঝূকিপূর্ণদের, বিশেষ করে নারীদের জন্য আর্থিক ক্ষেত্রে অন্তভূ‍র্ক্ত হবার একটি চালিকা শক্তি। মোবাইল মানি নারীকে তার অর্থের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে এবং প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করবার ক্ষমতা দিচ্ছে। এছাড়াও, জিএসএমএ গ্লোবাল এডপশন সার্ভেতে দেখা যায়, ৪৪ শতাংশ সাড়াপ্রদানকারীরা এখন ক্রেডিট, সঞ্চয় বা বীমা পণ্য অফার করে, যা সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য তাদের জীবিকা ও ভবিষ্যত বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে।

মোবাইল মানি একাউন্টের মালিকানার ক্ষেত্রে দেখা যায়, লিঙ্গ ব্যবধান কেনিয়াতে ৭ শতাংশ ও পাকিস্তানে ৭১ শতাংশে পৌঁছেছে- তারপরও নির্যতিত জনগণের কাছে এর উপকার পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনও বেশকিছু বাঁধা রয়েছে।

মোবাইলের মাধ্যমে অর্থ ব্যবহারের জন্য একটি মোবাইল ফোনের মালিক হওয়া জরুরী। এ ক্ষেত্রে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে মোবাইল ফোনের মালিক নারীর সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় ৭ শতাংশ কম। সামগ্রিকভাবে, পুরুষদের তুলনায় ১৪৩ বিলিয়ন কম নারী, একটি মোবাইল ফোনের মালিক। এছাড়াও মোবাইল মানি সেবাগ্রহণে অতিরিক্ত বাঁধার মধ্যে রয়েছে মোবাইল মানি সম্পর্কে সচেতণতার অভাব এবং এটি ব্যবহারের প্রাসঙ্গিকতা, জ্ঞান ও দক্ষতার ঘাটতি।

যদিও প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে মোবাইল মানি ব্যবহারে কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবুও লিঙ্গ ব্যবধান কমাতে আরো অনেক কাজ করা প্রয়োজন। এইসব সাফল্যের গল্প থেকে শিক্ষা নিয়ে সমস্যা সমাধাণ করতে এবং বিদ্যমান লিঙ্গ বৈষম্য যাতে আরো প্রকট না হয়, সেজন্য নীতিনির্ধারক, বেসরকারি খাত, দাতা ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন, বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারীর শিক্ষাকে কাজে লাগানো প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।

মোবাইল মানি’র মাধ্যমে মানবিক সহায়তা, ইউটিলিটি এবং কৃষি সমাধাণে সম্পৃক্তি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২২ সালে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন এমন লোকের সংখ্যা ২৭৪ মিলিয়নে উন্নীত হবার পূর্ভাবাস দেওয়া হয়েছে। অনুদান দেওয়া ও সাহায্য পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘মোবাইল মানি’ ক্রমান্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। তাই মানবিক সহয়াতা গ্রহণকারী ও দাতাদের জন্য বিতরণ ব্যবস্থাকে আরো দক্ষ ও সচ্ছ করে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে হবে।

জাতীসংঘের শরনার্থী সংস্থা ২০২০ সালে ১০০টি দেশে ৭০০ বিলিয়ন ডলার নগদ মূল্য সহায়তা (সিভিএ) পাঠিয়েছে। তারা ৪৭টি দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট প্রোগ্রাম স্থাপণ করেছে, যার মধ্যে ১৫টি দেশ মোবাইল মানি ব্যবহার করে। মোবাইল মানি’র মাধ্যমে সিভিএ (নগদ মূল্য সহায়তা)-র ডিজিটাইজেশ এজেন্সির মর্যাদা বৃদ্ধি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে উত্‌সহিত করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ‘মোবাইল মানি’ মৌলিক ইউটিলিটি পরিষেবা এবং কৃষিসেবা সমাধানে সম্পৃক্ত হতে সহায়তা করে। এবং তা নিশ্চিত করতে মোবাইল শিল্প ও মানবিক খাতকে অবশ্যই একসাথে কাজ করে যেতে হবে, যাতে করে ডিজিটাল অর্ন্তভূক্তি ও আর্থিক অর্ন্তভূক্তিকে আরো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

আরো বিস্তারিত জানতে, মোবাইল মানি সংক্রান্ত ২০২২ স্টেট অফ দ্য ইন্ডাস্ট্রি রিপোর্ট ডাউনলোড করুন: https://www.gsma.com/sotir/ জিএসএমএ’র প্রোগ্রামের আরো তথ্য এখানে রয়েছে: www.gsma.com/mobilemoney.

১ ট্রিলিয়ন ডলার,মোবাইল মানি
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়