ঢাকা | শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮ |
২৭ °সে
|
বাংলা কনভার্টার

ডিএসইর মোবাইল অ্যাপ নিবন্ধন বন্ধ ,বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি

ডিএসইর মোবাইল অ্যাপ নিবন্ধন বন্ধ ,বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি
ডিএসইর মোবাইল অ্যাপ নিবন্ধন বন্ধ ,বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি

পুজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রযুক্তির ওপর জোর দিলেও ‘অদক্ষ’ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তাতে বাঁধ সাধছে। কর্মকর্তাদের দক্ষতার অভাবে প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তিতে খুব একটা এগুতে পারেনি। বরং ক্ষেত্র বিশেষে উল্টো পিছিয়ে গেছে।

দেশ স্বাধীনের আগে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এখনো পর্যন্ত ডিজাস্টার রিকভারি (ডিআর) সাইট করতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির তথ্য সম্ভার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। আইটি সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে প্রতিষ্ঠানটি থেকে সব তথ্য হারিয়ে যেতে পারে।

এ দিকে মহামারি করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতিতে অনলাইন লেনদেনের ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এই অনলাইন লেনদেনের প্রসার ঘটাতেও প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিএসই।

পুঁজিবাজারে অনলাইনে লেনদেনের ক্ষেত্রে ডিএসইর চালু করা একমাত্র মাধ্যম মোবাইল অ্যাপ। ২০১৬ সালের ৯ মার্চ বেশ ঘটা করেই ‘ডিএসই মোবাইল’ নামে একটি অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন চালু করে ডিএসই। এর পর একে একে পাঁচ বছর কেটে গেলেও অ্যাপটি বিনিয়োগকারী বান্ধব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হয়নি। উল্টো মহামারি করোনাকালে বিনিয়োগকারীদের নতুন করে মোবাইল অ্যাপ নিবন্ধন দেয়াই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ডিএসইর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর থেকেই বিনিয়োগকারীদের মোবাইল অ্যাপ নিবন্ধন দেয়া বন্ধ রেখেছে ডিএসই। প্রায় অর্থবছর ধরে নিবন্ধন দেয়া বন্ধ রাখা হলেও এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের কোনো তথ্যই জানায়নি ডিএসই কর্তৃপক্ষ। অবশ্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিবন্ধন দেয়া বন্ধ রাখলেও ডিএসইর কর্মকর্তারা তাদের পছন্দের কিছু বিনিয়োগকারীকে বিশেষ ব্যবস্থায় নিবন্ধন দিচ্ছেন।

মোবাইল অ্যাপে নতুন নিবন্ধন দেয়া বন্ধ রাখার কারণ হিসেবে ডিএসইর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইতোমধ্যে মোবাইল অ্যাপের ধারণ ক্ষমতার থেকে বেশি বিনিয়োগকারীকে নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। ফলে নতুন নিবন্ধন দিতে সমস্যা হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে অ্যাপের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। এই কাজ শেষ হলে বিনিয়োগকারীদের আবার নতুন করে নিবন্ধন দেয়া হবে।

ডিএসইর মোবাইল অ্যাপের নিবন্ধন ও লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরের শুরুতে ডিএসইর মোবাইল অ্যাপে নিবন্ধিত বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ৩৪৪ জন। যা ১১ মে এসে দাঁড়ায় ৬৪ হাজার ৩১৬ জনে।

নতুন নিবন্ধন দেয়া বন্ধ রাখার পরও অ্যাপে নিবন্ধিত বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ার কারণ হিসেবে ডিএসইর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মোবাইল অ্যাপে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নতুন করে নিবন্ধন দেয়া না হলেও, ভিআইপি কিছু বিনিয়োগকারীকে নিবন্ধন দেয়া হচ্ছে। এছাড়া যারা আগে নিবন্ধন নিয়ে রেখেছেন, কিন্তু দীর্ঘ দিন নিষ্ক্রিয় ছিলেন তাদের অনেকেরটা এখন সক্রিয় করা হচ্ছে। এ কারণে হালনাগাদ তথ্যে অ্যাপে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেড়েছে বলে উঠে এসেছে।’

এদিকে একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিনিয়ত বিনিয়োগকারীরা মোবাইল অ্যাপের নিবন্ধন নেয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কিন্তু ডিএসই থেকে নিবন্ধন দেয়া বন্ধ রাখায় তারা বিনিয়োগকারীদের মোবাইল অ্যাপের নিবন্ধন দিতে পারছেন না। এতে অনেক সময় বিনিয়োগকারীরা অসন্তুষ্ট হচ্ছেন।

এ বিষয়ে একটি ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মোবাইল অ্যাপের নতুন নিবন্ধন আজ দেব, কাল দেব এমন করে মাসের পর মাস পার করে দিচ্ছে ডিএসই। কিন্তু ডিএসইর অদক্ষ জনবলের কারণে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। যার জন্য সাফার করতে হচ্ছে আমাদের। কিছু কিছু বিনিয়োগকারী মনে করছে, আমরাই হয় তো ইচ্ছা করে তাদেরকে মোবাইল অ্যাপের নিবন্ধন দিচ্ছি না। বাস্তবতা হলো- মোবাইল অ্যাপের নিবন্ধনের পুরোটাই ডিএসইর হাতে।’

ডিএসই মোবাইল,ডিএসই,মোবাইল অ্যাপ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়