ঢাকা | শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮ |
২৯ °সে
|
বাংলা কনভার্টার

জার্মান রাষ্ট্রদূতের কারখানা পরিদর্শন

‘বাংলাদেশের সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ওয়ালটন’

‘বাংলাদেশের সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ওয়ালটন’
ওয়ালটনের রেফ্রিজারেটর উৎপাদন কারখানায় জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহল্টস, ডেপুটি হেড অব মিশন কনস্টানজা জেরিংগার, ওয়ালটন হাই-টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম মুর্শেদসহ অন্যরা

ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহল্টস বলেছেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ণ হয়েছে। বাংলাদেশের এ সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ওয়ালটন। তারা হাই-কোয়ালিটি পণ্য তৈরি করছে। জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওয়ালটন পণ্য রপ্তানি করছে। ওয়ালটন কারখানার কর্মপরিবেশ ও বিশাল কর্মযজ্ঞ দেখে আমি মুগ্ধ। বৃহস্পতিবার (৩ জুন ২০২১) গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাই-টেক কারখানা পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন জার্মান রাষ্ট্রদূত। সে সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকায় জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন কনস্টানজা জেরিংগার। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে তারা বাংলাদেশে তৈরি ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন শিল্পের অভাবনীয় অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।

কারখানা কমপ্লেক্সে জার্মান প্রতিনিধিদলকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম মুর্শেদ।

সে সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হুমায়ূন কবীর ও আলমগীর আলম সরকার, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ইউনিটের (আইবিইউ) প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড কিম, নির্বাহী পরিচালক কর্নেল (অব.) শাহাদাত আলম, উদয় হাকিম, ইউসুফ আলী, প্রধান বিপণন কর্মকর্তা ফিরোজ আলম, নির্বাহী পরিচালক আমিন খান, শাহজাদা সেলিম, ইয়াসির আল ইমরান, রাকিব উদ্দীন, ওয়ালটনের ইউরোপীয়ান মার্কেট হেড তাওসীফ আল মাহমুদ, ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রেজাউল ইসলাম মিনার প্রমুখ।

জার্মান রাষ্ট্রদূত এবং ডেপুটি হেড অব মিশন প্রথমে ওয়ালটন কারখানায় বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং জার্মানিতে ওয়ালটন পণ্যের রপ্তানি ও কার্যক্রমের ওপর নির্মিত ভিডিও ডক্যুমেন্টারি উপভোগ করেন। এরপর জার্মান প্রতিনিধিদল ওয়ালটনের বিশ্বমানের রেফ্রিজারেটর উৎপাদন প্রক্রিয়া সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে যান। পর্যায়ক্রমে অতিথিরা ওয়ালটনের কম্প্রেসর, এলইডি টেলিভিশন, এলজিপি-এলডিপি, মাদারবোর্ড উৎপাদন এবং প্রোডাক্ট ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে জার্মান রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, ওয়ালটনের লক্ষ্য বেস্ট কোয়ালিটি প্রোডাক্ট তৈরি করা। সেজন্য তারা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও মেশিনারিজে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে। যার বেশিরভাগই জার্মানির। ওয়ালটন কারখানার কর্মপরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর। তারা বিভিন্ন ম্যাটেরিয়াল পুনঃব্যবহার করছে। যা খুবই ইমপ্রেসিভ। গেøাবাল ব্র্যান্ড হয়ে ওঠার সব যোগ্যতা ও সামর্থ ওয়ালটনের রয়েছে।

ডেপুটি হেড অব মিশন কনস্টানজা জেরিংগার বলেন, ওয়ালটন কারখানার সুযোগ-সুবিধা, দক্ষ কর্মী, কাজের ধরণ সব কিছু দেখে আমি অবিভ‚ত। এখানে সব কিছুই অত্যন্ত গোছানো। আমি ওয়ালটনের সাফল্য কামনা করছি।

ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম মুর্শেদ বলেন, জার্মানিকে বলা হয় ‘ফাদার অব টেকনোলজি’। জার্মান রাষ্ট্রদূত এবং ডেপুটি হেড অব মিশনের ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শন আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার। জার্মানিকে ঘিরে ইউরোপে ওয়ালটনের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। ওয়ালটনের গেøাবাল বিজনেস পরিচালিত হবে ইউরোপ তথা জার্মানি থেকে। আমাদের প্রত্যাশা এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

এ বিষয়ে তাওসীফ আল মাহমুদ বলেন, ইউরোপের বিজনেস হাব জার্মানি। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক সম্পর্ক খুবই সুদূঢ়। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৬০ শতাংশ আসে ইউরোপ থেকে। যার কেন্দ্রে রয়েছে জার্মানি। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে তৈরি ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য ইউরোপের বাজারে অন্যতম রপ্তানি খাত হয়ে উঠেছে। ইউরোপে বাংলাদেশে তৈরি ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্যের বাজার বৃদ্ধিতে জার্মানি তথা ঢাকার জার্মান দূতাবাস ব্যাপক সহায়তা করছে।

তিনি জানান, ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড, কমপ্ল্যায়েন্স এবং সোশাল রিকোয়ারমেন্ট মেনে পণ্য তৈরি করছে ওয়ালটন। জার্মানিকে কেন্দ্রে রেখে এ খাতে ইউরোপের বাজার টার্গেট করেছে ওয়ালটন। বর্তমানে ইউরোপের ১০টি দেশে ওয়ালটনের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। চলতি বছর ইউরোপের আরো ১০টি দেশ ওয়ালটনের রপ্তানির আওতায় আসছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বমানের প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনে ওয়ালটন একটি প্রশংসিত নাম। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৭ শতাধিক একর জায়গাজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে ওয়ালটনের অত্যাধুনিক কারখানা। আন্তর্জাতিক মান ও স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে ফ্রিজ, টিভি, এসি, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, হোম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্স, লিফটসহ বিভিন্ন উচ্চমানের পণ্য তৈরি হচ্ছে।

উৎপাদনের পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের গবেষণা ও উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক ব্যবসা ইউনিটসহ বিভিন্ন বিভাগ গড়ে উঠেছে। ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ লেখা বুকে নিয়ে ওয়ালটনের তৈরি আন্তর্জাতিক মানের পণ্য যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশি পণ্য দিয়ে এবার বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে ওয়ালটন। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ডের কাতারে জায়গা করে নেয়ার টার্গেট নিয়েছে বাংলাদেশী এই প্রতিষ্ঠান।

ওয়ালটন,জার্মান রাষ্ট্রদূত
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়