শিরোনাম

সোমবার, ডিসেম্বর 18, 2017 - বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির নির্বাচন ১০ মার্চ | সোমবার, ডিসেম্বর 18, 2017 - ইন্দোনেশিয়ার ইউএসএম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঊদ্যোক্তা বিষয়ে বক্তব্য দিলেন মোঃ সবুর খান | সোমবার, ডিসেম্বর 18, 2017 - মোবাইল ডেটা ব্যবহারে এগিয়ে গ্রামীণফোন | সোমবার, ডিসেম্বর 18, 2017 - বিদেশ থেকে এখন ৮টি মোবাইল ফোন আনা যাবে | রবিবার, ডিসেম্বর 17, 2017 - গুগল-ফেসবুকের বিজ্ঞাপনে ডলার পাচার-রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার | রবিবার, ডিসেম্বর 17, 2017 - রাইড শেয়ারিং সার্ভিস ‘ডাকো’র প্রথম যাত্রী আশরাফুল | রবিবার, ডিসেম্বর 17, 2017 - বাংলাদেশে এলো মোবাইল এ্যাপস ‘ফ্ল্যাশট্যাগ’ | রবিবার, ডিসেম্বর 17, 2017 - আগামী বছর ঢাকায় আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা : রাশেদ খান মেনন | রবিবার, ডিসেম্বর 17, 2017 - ‘ল্যাপটপ ফর অল’ ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে এটুআই ও সিঙ্গারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক | শুক্রবার, ডিসেম্বর 15, 2017 - শুরু হলো আসুস আরওজি জেফ্রাস গেমিং ল্যাপটপের প্রি-বুকিং |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াতে অভিবাসনে স্কিলড বাড়ানো দরকার
কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াতে অভিবাসনে স্কিলড বাড়ানো দরকার

কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াতে অভিবাসনে স্কিলড বাড়ানো দরকার

saleh-reza2

ভিসা ইনকর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালেহ রেজা

বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিকরা বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশগুলোতে বসবাস শুরু করে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা হচ্ছে বাংলাদেশীদের প্রথম দিকের পছন্দের দেশ। মধ্য প্রাচ্যেও আমাদের দেশের প্রচুর লোকবল কাজ করছে তবে তারা সেখানের ইমিগ্রেন্ট হতে হচ্ছে না। সরাসরি ইমিগ্রেন্ট হওয়া সমম্ভব একমাত্র অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাতেই। এই দেশেগুলোতে বৈধভাবে প্রবেশের জন্য রয়েছে কিছু নিয়ম যা সককেই মেনে চলতে হয়। আস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় ইমিগ্রেশনের জন্য একজন আবেদনকারীর কেমন যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন ও আবেদন করতে হলে কোন ধাপগুলো পার হতে হয় তা নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন। বিষটি নিয়ে কথা হয় ভিসা ইনকর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালেহ রেজার সঙ্গে।

চাকরি, বসবাস, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা যে কোনো ক্যাটাগরিতে অস্ট্রেলিয়া সবার পছন্দের শীর্ষের দেশ। অস্ট্রেলিয়া স্কিল মাইগ্রেশন টেম্পরারি ওয়ার্ক ভিসা, স্টুডেন্ট, ফ্যামেলি, ভিজিটর যে কোনো ভিসা আপনি নিতে পারেন আপনার পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী। ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, ব্যাংকার,নার্স, আইটি এক্সপার্ট, মার্কেটিং ও এনজিও কর্মীসহ অনেক পেশার লোকজন অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী অভিবাসন নিতে পারে। আবার নিউজিল্যান্ড ও কানাডাতেও নির্দিষ্ট সময় পরপর স্কিলড মাইগ্রেশন ক্যাটাগরিতে ড্র অনুষ্ঠিত হয়। বছরে প্রায় কয়েক হাজার পরিবার এ প্রোগ্রামের আওতায় নিউজিল্যান্ড ও কানাডাতে স্থায়ী নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন। এই ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশিরাও নিউজিল্যান্ড ও কানাডাতেস্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ নিতে পারেন।

স্কিলড মাইগ্রেশন ক্যাটাগরি সম্পর্কে ও এই আবেদনের শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা সম্পর্কে সালেহ রেজা বলেন, ‘কানাড ও অস্ট্রেলিয়াতে প্রবেশের জন্য একজন আবেদনকারীকে প্রথমেই তার বাংক অ্যাকাউন্টে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা জমানত দেখাতে হয়। এর পর শুরু হয় অন্য ধাপগুলো। স্কিলড টেস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই ধাপে উত্তীর্ণ না হলে অন্য ধাপগুলোতে অংশগ্রহণ করা যায় না। ইমিগ্রেশনের ব্যাপারে যেকোনো দেশই হোক তারা ইংলিশের ওপর বেশ গুরুত্ব দেয়। এ ক্ষেত্রে স্কিলড টেস্টে একজন আবেদনকারীকে ১০ এর মধ্যে ৭ পেতে হয়।’

এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন। নিউজিল্যান্ডে সম্ভাব্য পেশার মধ্যে রয়েছে জেনারেল প্র্যাকটিশনার, প্যাথলজিস্ট, সাইকোথেরাপিস্ট, সোনোগ্রাফারসহ আরো কিছু খাত। ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ অন্য দেশগুলো থেকে অনেক পিছি রয়েছে। এবিষয়ে সালেহ রেজা বলেন, ‘ আমাদের দেশের মানুষরা অন্যদেশের তুলনায় ইংরেজিতে অনেক দূর্বল। ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বিষয়ে যখন কোনো দেশে আমন্ত্রন জানানো হয় তথন তারা কয়েকটি বিষয়ে বেশ গুরুত্ব দেন। ইংরেজি হলো তাদের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে কানাডাতে অ্যাপ্লাই করতে হলে প্রার্থীকে ইংলিশ স্কিলড টেস্টে কমপক্ষে ৬ পেতে হয়। আইটি পেশার জন্য স্কিলড থাকতে হবে ৪.৫ থেকে ৫ এবং বিজনেস সম্পর্কিত প্রার্থীদের জন্য স্কিলড থাকতে হবে ৬.৫ থেকে ৭ পয়েন্ট।’

saleh-rezaইমিগ্রেশনের জন্য আবেদন করতে আবেদনকারীর বয়স সীমা ২৮- ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। সেই সাথে আবেদনকারীর ব্যাচেলর বা মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করার পর অন্তত ২-৩ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলে আবেদন করা যাবে। এক্ষেত্রে যে বিষয়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হল, ইংরেজিতে বেশ ভালো মানের দক্ষতা। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া উভয় দেশেরই যেহেতু মূল ভাষা ইংরেজি, তাই দুইটি দেশই ইংরেজির দক্ষতার উপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়। এক্ষেত্রে দক্ষতা প্রমানের জন্য আবেদনকারীকে আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে এবং প্রতিটি ব্যান্ডে ন্যূনতম ৬.০ স্কোর পেতে হবে। আবেদনকারী বিবাহিত হয়ে থাকলে তার স্বামী/ স্ত্রীকেও ভাষাগত দক্ষতা প্রমাণের জন্য আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়, তবে এক্ষেত্রে ন্যূনতম ৪.৫-৫ স্কোর পেলেই তা যথেষ্ট বলে জানান সালেহ রেজা।
ইমিগ্রেশন আরো বাড়াতে কী করণীয় সে সম্পর্কে সালেহ রেজা বলেন,‘ বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইংরেজি ভাষাকে আরো গুরুত্ব দেয়া হলে ইমিগ্রেশনের এই অবারিত সুযোগ গ্রহণ করা বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য সহজ হবে। এছাড়া সবাই যাতে উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহী হয়, সে বিষয়ও লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।’
আমাদের দেশ থেকে কানাডা বা অস্ট্রেলিয়াতে লোকবল কম বিনিয়োগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে সালেহ রেজা জানান, আমাদের দেশ ব্যতীত অন্য দেশগুলোতে লোকবল প্রবেশ ও প্রতিহতের জন্য লোকাল অফিস রয়েছে। এই অফিসগুলোই যাবতীয় ব্যবস্থা করে দেয় বিনিময়ে সে একটি ফি নিয়ে নেয়। দূর্ভাগ্য হলেও শত্য যে, আমাদের দেশে এমন কোনো অফিস নেই। পার্শবর্তী দেশ ভারতেও এমন ব্যবস্থা চালু রয়েছে বলেও জানান সালেহ রেজা।

cকানাডা ও অস্ট্রেলিয়াতে নার্সের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। প্রচুর চাহিদা থাকাতেও আমাদের দেশের নার্সরা যেতে পারছে না। যখন কোনো নার্সকে বলা হয় – তুমি যদি যেতে চাও তাহলে তোমাকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ থেকে ১৫ লাক্ষ টাকা দেখাতে হবে বা তোমার যাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রসেস এ ১৫ লক্ষ টাকা খরচ হবে তখন সে আর উৎসাহিত হচ্ছে না। অন্যদিকে স্কিলড এ তারা অনেক পিছিয়ে আছে। ঐ দেশগুলোতে অন্য দেশগুলো থেকে যারা প্রবেশ করার জন্য আবেদন করছে তাদের স্কিলড আমাদের দেশের নার্সদের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিযোগীতায় গিয়েও হেরে যাচ্ছে আমাদের দেশের নার্সরা।
আবার অনেক সময় বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। অনেকেই কম অভিজ্ঞাতা থাকলে তা বাড়িয়ে বেশি বানিয়ে উপস্থাপন করে। অভিজ্ঞতার বিষয়ে তারা যখন যাচাই বাছাই করে তখন অনেকেই বাদ পরে যায়। কারণ, অনেকেই এ বিষয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেয়।
কোনো আবেদনকারী যদি কানাডাতে আবেদন করেন তাহলে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই বাছাই শেষে যে মার্ক দেওয়া হয় শিক্ষাগত যোগ্যতা তার মধ্যে একটি। আবেদনের বিভিন্ন বিষয় যাচায়ের জন্য তারা ফেসবুক, টুইটার , গুগল প্লাসসহ বিভিন্ন মাধ্যমের সহায়তা নেয়। আমাদের দেশ থেকে অনেক প্রার্থীই নিম্ম মানের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট গ্রহণ করে তা দাখিল করে। কানাডা বা অস্ট্রেলিয়া আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান যাচাই করে। অনেক সময় আমাদের দেশের নিš§ মানেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত সার্টিফিকেটের বিপরীতে দেওয়া নম্বর অন্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত সার্টিফিকেটের তুলতায় কম হয়। এ কারণেও বাংলাদেশীরা অনেক পিছিয়ে পরে বলে জানান সালেহ রেজা।
অনেকে আবার মেডিকেল টেস্ট রিপোর্টে অযোগ্য বলে বিবেচিত হন। দূরারগ্য ব্যধি হলে ঐ দেশগুলোতে প্রবেশ করা সম্ভব হয় না। প্রত্যেক ইমিগ্রেশন আবেদনকারীর জন্য শুধুমাত্র মেডিকেল সার্ভিসের জন্য৩৫’শ ডলার বাজে থাকে। মেডিকেল টেস্টে বাতিল হলে জমানতের সকল টাকা বাতিল বলে বিবেচিত হয়।
২০১৪ সালে বিভিন্ন পরীক্ষাতে এক’শ নম্বরের মধ্যে ৬৭ পেলেই তাকে উত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বর্তমানে ৮০ না পেলে তাকে উত্তীর্ণ হিসেবে ধরা হয়ে না।
এ পর্যন্ত ৬ থেকে ৭’শ বাংলাদেশী কানাডাতে প্রবেশ করে ইমিগ্রেশন করতে সক্ষম হয়েছে। আবেদন করেছিল ২ থেকে তিন হাজার প্রার্থী। যারাই মাইগ্রেশন এর সুবিধাগুলো পেয়েছেন তারা ওখানে প্রবেশের পর এক থেকে দেড় বছর সার্ভিস শেষে তা পেয়েছেন।
বর্তমানে ভিন্ন পেশার চাহিদা রয়েছে। হোটেল ম্যানেজমেন্ট ও ট্যুরিজম এর চাহিদা অনেক বেশি স্থপতি শিল্পকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ঐ দেশগুলোতে বলেও জানান সালেহ রেজা।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top