শিরোনাম

মঙ্গলবার, মার্চ 28, 2017 - সিটিআইটি ফেয়ার-২০১৭ কম্পিউটার মেলা শুরু বৃহস্পতিবার | মঙ্গলবার, মার্চ 28, 2017 - চালু হল ঘড়ি বিক্রয়ের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান টাকশাল | মঙ্গলবার, মার্চ 28, 2017 - আরও দ্রুত ডাউনলোড অপেরা মিনিতে | মঙ্গলবার, মার্চ 28, 2017 - স্মার্ট স্টুডেন্টস অ্যাপ বানালো ডিআইইউ’র শিক্ষার্থীরা | মঙ্গলবার, মার্চ 28, 2017 - সিইবিআইটি মেলায় ডিজিটাল রূপান্তরের অংশীদার হুয়াওয়ে | মঙ্গলবার, মার্চ 28, 2017 - বাংলাদেশে উন্মুক্ত হলো অপো সেলফি এক্সপার্ট এফ৩ প্লাস | শনিবার, মার্চ 25, 2017 - ঢাকায় রোজেন বারগার টেকনোলজিষ্টের পার্টনার্স নাইট | বৃহস্পতিবার, মার্চ 23, 2017 - উভয় পাশ স্ক্যান সুবিধার স্ক্যানার আনলো ইপসন | বৃহস্পতিবার, মার্চ 23, 2017 - প্রপার্টি ভাড়া ও কেনা-বেচায় বিপ্রপার্টি ডটকম | বুধবার, মার্চ 22, 2017 - স্বল্পমূল্যের ল্যাপটপ কিনতে সাবধান ! |
প্রথম পাতা / ক্যারিয়ার / ক্যাম্পাস / কুয়েট অনুষ্ঠিত হল ব্রেইন চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড আইডিয়া কার্নিভাল
কুয়েট অনুষ্ঠিত হল ব্রেইন চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড আইডিয়া কার্নিভাল

কুয়েট অনুষ্ঠিত হল ব্রেইন চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড আইডিয়া কার্নিভাল

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটাতে এবং গণিতের প্রকৃত সৌন্দর্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) অনুষ্ঠিত হয়েছে কুয়েট ব্রেইন চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড আইডিয়া কার্নিভালশুক্রবার (১৯ জুন) দিনব্যাপী কুয়েট ম্যাথ ক্লাব এবং কুয়েটিয়ান কিউবিস্টস ক্লাবের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়।

kuet

বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল ভবনের সেমিনার রুমে দ্বিতীয়বারের মতো এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল পৌনে নয়টা থেকে প্রতিযোগীদের টি-শার্ট সংগ্রহের মাধ্যমে শুরু হয় প্রতিযোগিতার মূল আনুষ্ঠানিকতা। সাড়ে নয়টা থেকে শুরু হয় প্রতিযোগিতার প্রথম পর্ব- ব্রেইন চ্যালেঞ্জ। শুরুতেই ছিলো সুডোকু চ্যালেঞ্জ। পেন্সিল পেছনের অংশ কামড়ে ধরে তিনটি সুডোকুর সমাধানে লেগে পড়ে প্রতিযোগীরা। ত্রিশ মিনিট পর শেষ হয় এই উত্তেজনা। শুরু হয় মাথা খাটানোর চমৎকার আরেকটি উপলক্ষ্য আইকিউ চ্যালেঞ্জ। যুক্তিভিত্তিক নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়ে অল্প সময়ের মাঝে সেগুলোর সমাধান বের করে আনাই ছিলো এই চ্যালেঞ্জের মূল লক্ষ্য।

সকাল ১০.৪০ মিনিটে শুরু হয় রুবিকস কিউব সমাধানের ওপর ওয়ার্কশপ। একটি রুবিকস কিউব কিভাবে সমাধান করতে হয় সেই বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রাথমিক ধারণা দেওয়াই ছিলো এই ওয়ার্কশপের মূল লক্ষ্য।

১১.৪০ মিনিট থেকে শুরু হয় প্রতিযোগিতার অন্যতম আকর্ষণ রুবিকস কিউব কনটেস্ট। রুবিকস কিউব মেলানোর খটখট শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো সেমিনার রুম। টানটান উত্তেজনায়, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে নির্ধারিত হয় প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন।

দুপুর সোয়া দুইটায় শুরু হয় উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনায় পরিপূর্ণ প্রতিযোগীতার দ্বিতীয় পর্ব-আইডিয়া কার্নিভাল। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে উদ্ভূত নানা সমস্যা এবং সেগুলোর বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানের পোস্টার প্রেজেন্টেশন নিয়ে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল ভবনের সেমিনার রুম।

শিক্ষকদের নানা প্রশ্ন এবং শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিদীপ্ত উত্তরগুলো ছিলো সত্যিই শোনার মতো।প্রতিযোগিতার অন্যতম আকর্ষণ ছিলো কুয়েটেরই তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশলী কাওসার ফারহাদের সুডোকুর অ আ ক খবইটির মোড়ক উন্মোচন। গণিতের এই চমৎকার, বুদ্ধিদীপ্ত পাজলটি নিয়ে লেখা বইটি যে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে এক অসাধারণ সংযোজন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিকাল পাঁচটায় শুরু হয় পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। উপস্থিত দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালিতে ক্ষণে ক্ষণেই জীবন্ত হয়ে উঠছিলো পুরো সেমিনার। যারা বিজয়ী হয়েছেন তারা হলেন-সুডোকু- এনামুল হাসান (১ম, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, ২য় বর্ষ), ইসতিয়াক আহমেদ (২য়, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, ১ম বর্ষ), রনি (৩য়, চর্ম প্রকৌশল, ৩য় বর্ষ), রেদওয়ান রাহাত (৪র্থ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড ম্যানেজমেন্ট, ২য় বর্ষ) এবং এস এম হাসনাত উল্লাহ (৫ম, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, ৩য় বর্ষ)।

সুডোকু প্রতিযোগীতায় ১ম পুরষ্কার বিজয়ী এনামুল হাসান রাহাত বলেন, যেকোনো ধরনের পাজল সমাধানে ছোটকাল থেকেই আমার আগ্রহ এবং সুডোকুর প্রতি ভালোবাসার সৃষ্টি। এই প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে এক অনন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আশা করি সংখ্যার এ যাদু সকলের মাঝেই ছড়িয়ে যাবে।

আইকিউ চ্যালেঞ্জ- ফজলে রাব্বি রাহিক (১ম, পুরকৌশল, ২য় বর্ষ), সামান্থা খান (২য়, যন্ত্র প্রকৌশল, ১ম বর্ষ), পলাশ (৩য়, যন্ত্র প্রকৌশল, ৩য় বর্ষ), মীর আসরাফ আলি রনক (৪র্থ, যন্ত্র প্রকৌশল) এবং আসিফুর রহমান রেজা (৫ম, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল)।

রুবিকস কিউব- ফুয়াদ হাসান সাব্বির (১ম, ২১.৯৪ সেকেন্ড,যন্ত্র প্রকৌশল), নাফিস শাহরিয়ার (২য়, ২৭.২৮ সেকেন্ড,তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল), আসিফুর রহমান রেজা (৩য়, ২৭.৫১ সেকেন্ড,তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল), রেদওয়ান রাহাত (৪র্থ, ৪৬.৫৮ সেকেন্ড,ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড ম্যানেজমেন্ট) এবং মীর আসরাফ আলি রনক (৫ম, ৬১.৩০ সেকেন্ড,যন্ত্র প্রকৌশল)।

আইডিয়া কার্নিভাল- অ্যাকুয়াফিনার (১ম; সিফাত হোসেন- তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, শারমিনা রহমান- তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, সাদমান সাকিব খান- তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল),  খুলনা অঞ্চলের পানি প্রচুর পরিমাণে লবণাক্ত। পানিতে লবণাক্ততা কমাতে তাদের আইডিয়াটি ছিল Relief from Salt: A method to separate water from a salt solution by electric field

ইনসেপশন (২য়; মোঃ সায়েম হোসেন-ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড ম্যানেজমেন্ট, শরীফ-আল-মাহমুদ – ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড ম্যানেজমেন্ট, তানযিরা উলফাত মোহনা- ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড ম্যানেজমেন্ট)। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে তাদের আইডিয়াটি ছিল A modified bus model for reducing the amount of damage caused by road accidents.

 

জলবায়ু সমস্যা ও পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে আইডিয়া প্রদান করে ৩য় হয়েছে পিটিআই (তানবিবুর রহমান বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কন্সট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট, নাফিউর রহমান- বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কন্সট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট, ইফফাত আরা- ইলেকট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং)।

 

অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার হিসেবে বই, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমাদ এবং গণিতের বিভাগের অধ্যাপক ড.মোহাম্মাদ আরিফ হোসেন।

 

প্রতিযোগিতাটির ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে ছিলো ইয়ুথ কার্নিভাল। এছাড়া নলেজ পার্টনার হিসেবে ছিলো জিরো টু ইনফিনিটি এবং স্পন্সর হিসেবে ছিলো সাহাটেক্স ও বাংলাদেশ সায়েন্স সোসাইটি

 

আয়োজনটি সম্পর্কে কুয়েট ম্যাথ ক্লাবের সভাপতি কাওসার ফারহাদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিভিত্তিক প্রতিযোগিতায় উৎসাহিত করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা শিক্ষার্থীদের সুডোকু বিশ্বকাপের পথ দেখাতে চাই, রুবিকস কিউব সমাধানে তাদের দক্ষতা বাড়াতে চাই। আরো চাই মেধার বিকাশ ঘটাতে।

জিরো টু ইনফিনিটি এর প্রচার সম্পাদক হাসিবুল আমিন হিমেল বলেনজানান, “ব্রেইন চ্যালেঞ্জ বা আইডিয়া কন্টেস্ট এর মাধ্যমে তরুনদের চিন্তাশক্তি জাগ্রত করে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির জন্য নতুন নতুন আইডিয়া সামনে নিয়ে আসে।”

ইয়ুথ কার্নিভালের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শাহিনুর আলম বলেন, “কোনো জাতির ওপরে উঠার জন্য দরকার বিভিন্ন সৃজনশীল আইডিয়ার। আর এর শুরুটা হয় শিক্ষাজীবন থেকেই। শিক্ষার্থীরা যাতে নানা ধরনের উদ্ভাবনামূলক আইডিয়া দিয়ে সমাজের চেহারা পাল্টে দিতে পারে সেজন্য আমাদের প্রচেষ্টা সবসময়ই অব্যাহত থাকবে।

 

বাংলাদেশ সায়েন্স সোসাইটির পরিচালক সুমন সাহা জানান, “ব্রেইন চ্যালেঞ্জ বা আইডিয়া কন্টেস্ট বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে প্রায়ই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কিন্তু আমাদের দেশ এই দিকে এখনও খুব বেশি অগ্রসর হতে পারেনি। কুয়েট ম্যাথ ক্লাব ও কুয়েটিয়ান কিউবিস্টকে অশেষ ধন্যবাদ জানাই এমন একটি আয়োজনের জন্য। আশা করি, এখন থেকে প্রতি বছর আরো বড় পরিসরে আয়োজনটি চলতে থাকবে।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top