শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, জুলাই 20, 2017 - উইপ্রোর সঙ্গে চুক্তির কথা স্বীকার করল গ্রামীণফোন | বৃহস্পতিবার, জুলাই 20, 2017 - লেনোভোর নতুন আর্কষন – আইডিয়াপ্যাড ৩২০ | বৃহস্পতিবার, জুলাই 20, 2017 - হজ্ব রোমিং প্যাকেজ চালু করল রবি | বৃহস্পতিবার, জুলাই 20, 2017 - অনলাইন প্রশিক্ষণ সেবা চালু করলো ক্রিয়েটিভ-ই-স্কুল | বৃহস্পতিবার, জুলাই 20, 2017 - ল্যাপটপের চার্জ বাড়ানোর উপায় সমূহ | বৃহস্পতিবার, জুলাই 20, 2017 - যেসব তথ্য ফেইসবুকে গোপন রাখা উচিত | বৃহস্পতিবার, জুলাই 20, 2017 - গুগলের মোবাইল সার্চ অ্যাপে পরিবর্তন | বুধবার, জুলাই 19, 2017 - আমারি ঢাকাতে ফ্রাইডে ব্রাঞ্চ | বুধবার, জুলাই 19, 2017 - ঢাকায় বিজনেস ইনোভেশন সামিট ও আইডিয়া চ্যালেঞ্জ | বুধবার, জুলাই 19, 2017 - আসুস নিয়ে এলো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী গেমিং ল্যাপটপ |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ খুবই সম্ভাবনাময়
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ খুবই সম্ভাবনাময়

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ খুবই সম্ভাবনাময়

anisবর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বিভিন্ন স্টার্টআপকে খুবই গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এর কারণ হলো এক সময় এসব স্টার্টআপগুলোই প্রযুক্তি বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে। ছোট ছোট এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে থাকে বিভিন্ন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান। এমনই একটি প্রতিষ্ঠান হলো সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটাল। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশেও প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশে ফেনক্সের বিনিয়োগ এবং আনুষঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে  কথা বলেছেন এর সিইও এবং জেনারেল পার্টনার আনিস উজ্জামান

বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই এখানকার স্টার্টআপগুলো দেখাশোনা করছি এবং ইতোমধ্যেই এখানকার তিনটি স্টার্টআপে বিনিয়োগ করেছি। এর মধ্যে দুটি স্টার্টআপের বিনিয়োগ ছিল সিড রাউন্ডের বিনিয়োগ। এখানকার স্টার্টআপগুলো যারা ভালো, তারা বেশ ভালো করছে এবং গ্রোথ রেটও বেশ ভালো। আমি দেখেছি একটি স্টার্টআপের সিইও যদি দক্ষ হয়, তাহলে সেই স্টার্টআপটি বেশ ভালো করে। এখানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে স্টার্টআপগুলোও আস্তে আস্তে উন্নতি করবে। একটা সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যা একটা বড় সমস্যা হলেও এখন এটিকে আশীর্বাদ বলা যেতে পারে। আমি মনে করি বাংলাদেশ যদি এই জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে পারে, তাহলে পুরো চিত্রই পাল্টে যাবে। এবং আমি বলতে চাই যে অবস্থার পরিবর্তন শুরু হয়েছে।
anis-fenoxস্থানীয় বিভিন্ন স্টার্টআপে বিভিন্ন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মের বিনিয়োগের করার পরিবেশ কতটা উপযুক্ত হয়েছে বলে আপনার মনে হয়?
ভিসির জন্য বাংলাদেশ এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমি মনে করি এখানে বিনিয়োগ করার জন্য যেসব স্ট্রাকচারের প্রয়োজন, তার সবই হয়েছে। এখানকার স্টার্টআপগুলো বিনিয়োগ সংক্রান্ত সবকিছুর ব্যাপারেই বেশ সচেতন। সবকিছু মিলিয়ে এখানে বিনিয়োগ করার জন্য বেশ অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। অনেক দেশেই বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করলেও সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সাড়া পাচ্ছে না। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এদিক থেকে বেশ বিনিয়োগবান্ধব বলা চলে। এখনও আমরা মনে করি আরও কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তবে সেগুলোও ধীরে ধীরে হয়ে যাবে বলেই আমার বিশ্বাস।
aanisবাংলাদেশে ফেনক্সের কার্যক্রম শুরুর পেছনে কোন বিষয়গুলো আপনাদের প্রভাবিত করেছিল?
বিনিয়োগ করার জন্য আমরা জনসংখ্যার ভিত্তিতে দশটি দেশকে বাছাই করেছিলাম যার মধ্যে বাংলাদেশও ছিল। তো এই দশটি দেশের মধ্যে আমরা পাকিস্তানের কথাও চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু সেখানকার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিনিয়োগের জন্য খুব একটা উপযুক্ত না হওয়ায় আমরা সেখানে বিনিয়োগ না করার সিদ্ধান্ত নেই। এ ছাড়া আমরা ব্রাজিলের কথাও চিন্তা করেছিলাম। তবে ল্যাটিন সংস্কৃতি সম্পর্কে আমাদের খুব বেশি ধারণা না থাকায় আমরা ব্রাজিলের চিন্তা বাদ দেই। আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার কথাও আমরা ভেবেছিলাম। তবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে যে দেশটিতে এখনও আরও অনেক অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। এর মধ্যেই আমরা বাংলাদেশের কথা চিন্তা করি। এখানকার জনসংখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর পাশাপাশি এখানে বর্তমানে প্রায় ৫ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের জিডিপি বেশ ভালোভাবেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের ভেতরের মানুষের কাছে অনেক সময়ই মনে হতে পারে যে বাংলাদেশ সেভাবে কোনো উন্নতি করছে না। কিন্তু আমরা যখন বাইরে থেকে দেখছি, তখন এসব পরিসংখ্যান দেখে আমাদের মনে হয়েছে যে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ একটি উপযুক্ত দেশ। দেশটির ভালো সম্ভাবনা রয়েছে যা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই।
কোনো প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে কোন দিকগুলোকে আপনারা অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন?
একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা প্রথমেই দেখি যে প্রতিষ্ঠানটির বয়স কত। যদি দেখি যে প্রতিষ্ঠানটি একেবারেই নতুন, তাহলে আমরা দেখি যে প্রতিষ্ঠানটি কে পরিচালনা করছেন এবং কারা কাজ করছেন। কারণ তাদের কর্মদক্ষতার উপরই নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানটি কতটা ভালোভাবে চলতে পারবে। আর প্রতিষ্ঠানটি যদি হয় পুরনো, তাহলে আমরা বিভিন্ন পরিসংখ্যানের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকি যার মধ্যে আছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মী সংখ্যা, আয় প্রভৃতি।
বাংলাদেশ ছাড়া আর কতটি দেশে ফেনক্সের বিনিয়োগ রয়েছে?
বর্তমানে আফ্রিকা ছাড়া বিশ্বের প্রায় অন্যান্য সব অঞ্চলেই ফেনক্সের বিনিয়োগ রয়েছে। জাপান, কোরিয়ায় আমাদের বিনিয়োগ রয়েছে। ইন্দোনেশিয়াতে আমাদের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। এ ছাড়া খুব শীঘ্রই ভারতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছি।
বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে কোন দিকগুলোতে আরও উন্নতি করা প্রয়োজন?
স্টার্টআপের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে আরও সহায়তা আসতে পারে বলে আমি মনে করি। কারণ বর্তমানে অনেক দেশেই ইনোভেশন এবং স্টার্টআপ কমিউনিটিকে গ্রো করার চেষ্টা চলছে। কারণ এর মাধ্যমে কিন্তু পুরো অর্থনীতিকে পাল্টে দেওয়া সম্ভব। কিছুদিন আগে ভারতেও ডিজিটাল ইন্ডিয়া চালু হয়েছে। স্টার্টআপগুলোকে সহায়তা দিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে দেশটির সরকার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্টার্টআপগুলোর জন্য একটি ফান্ড গঠনের পরিকল্পনা করছেন এবং আমাকেও তিনি সেখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা যদি এক ডলার বিনিয়োগ করি, তাহলে ভারত সরকার সেখানে এক ডলার বিনিয়োগ করবে। একইভাবে কাজ করছে সিঙ্গাপুরও। বাংলাদেশও এখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এখানে নিয়ে আসার জন্য এভাবে কাজ করতে পারে। এ ছাড়া সরকার স্টার্টআপগুলো সহায়তা করতে ইনকিউবেটর বা অ্যাকসেলারেটর চালু করতে পারে। বেসরকারিভাবে গ্রামীণফোন সম্প্রতি এটি শুরু করেছে। এখানে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এন্ট্রাপ্রেনারশিপ বা উদ্যোক্তা বিষয়টিকে পাঠ্য করার উদ্যোগ নিতে পারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সরকার চাইলে আরও একটি কাজ করতে পারে। তা হলো সাধারণ চাকুরীজীবীদের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া। অনেক চাকুরীজীবী আছেন যারা ছোট আকারে বিনিয়োগ করতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে সরকার তাদের জন্য বিশেষ কিছু সুযোগ করে দিতে পারে। যেমন, তারা যদি বিনিয়োগ করে, তাহলে আয়ের উপর কোনো কর দিতে হবে না। এই ধরনের কিছু উদ্যোগ যদি দেশে নেওয়া হয়, তাহলে স্টার্টআপের সংখ্যা নিঃসন্দেহে বাড়বে। আর পরবর্তী গুগল ফেসবুক যদি বাংলাদেশ থেকে বের হয়ে আসে, তাতেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা ছাড়াও বিভিন্ন স্টার্টআপকে অ্যাকসেলারেট করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা ফেনক্সের আছে কি?
আমরা এখনও সেভাবে বড় কোনো উদ্যোগ নিতে পারিনি। তবে আমরা এখানে স্টার্টআপগুলোর জন্য একটি বিনিয়োগ ফান্ড গঠনের জন্য কাজ করছি। এটা চালু হলে স্থানীয় বিনিয়োগকারীরাও এখানে বিনিয়োগ করতে পারবে। এখানকার স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top