শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - গাড়ি চালাতে এবার থেকে আর কোনও চাবির প্রয়োজন নেই! | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - বিজয়ী কাস্টমারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সিম্ফনি ঈদ অফার | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - বিশ্বব্যাপী সাইবার হামলায় ৬ মাসেই ক্ষতি ৪০০ কোটি ডলার | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - এইচটিসি স্মার্টফোন ব্যবসা কিনতে গুগলকে গুনতে হবে ১১০ কোটি ডলার | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - টাকা না পেলে টেলিটক মারা যাবে : ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - ইউনিক বিজনেস সিস্টেমস লিমিটেড পরিদর্শনে হিটাচি এক্সক্লুসিভ টিম | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী’র ‘অ্যাসোসিও ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এয়ারটেল’র ‘ইয়োলো ফেস্ট’ | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় নতুন দেশি অ্যাপ | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - ড্যাফোডিলে ‘সমন্বিত শিক্ষণ পদ্ধতিতে গুগল ক্লাসরুমের ব্যবহার’ শীর্ষক লেকচার সেমিনার অনুষ্ঠিত |
প্রথম পাতা / সাম্প্রতিক খবর / ফিচার পোস্ট / সবার আগে চাই দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড

সবার আগে চাই দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড

ইন্টারনেট এখন মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি হয়ে উঠছে প্রতিনিয়ত। তা আমরা মানি বা না
মানি, আমাদের কাজকর্মে আমরা সেটাকে প্রতিষ্ঠা করে চলেছি। এই যেমন কদিন আগে জানা গেল,
সরকার সারা দেশের ২০ হাজার ৫০০ বিদ্যালয়ে এজ মোবাইল মডেম দিচ্ছে, অর্থাৎ ইন্টারনেট সেবা
দিতে উদ্যোগ নিয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে প্রশ্ন অন্য জায়গায়। সবাই
কমবেশি জানেন, এজ মডেম হলো এখনকার ইন্টারনেটের সবচেয়ে কম গতির প্রতীক। অনেকে
বলবেন, আমাদের সারা দেশে দ্রুতগতির ইন্টারনেট নেই, তাই এ কাজটি করা হচ্ছে। কিন্তু আশ্চর্য
হলেও সত্য, এই বিদ্যালয়গুলোর একটি অংশ এমন সব জায়গায় অবস্থিত, যেখানে ইচ্ছে করলে
দ্রুতগতির ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করা সম্ভব। অনেক স্কুলে রয়েছে ল্যান্ডফোন এবং সেখানে রয়েছে
বিটিসিএলের এডিএসএল সংযোগের সুবিধা। অনেক স্থানেই আমাদের আইএসপিগুলো ব্রডব্যান্ডের
ব্যবস্থা করতে পারে। আর বেশ কিছু শহরে এখন ওয়াইম্যাক্সের সুবিধা রয়েছে।
এরই মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বরের প্রথম আলোয় ছাপা হয়েছে যুক্তরাজ্যে চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল
নেটওয়ার্ক চালুর খবর। পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, এই নেটওয়ার্ক মোবাইল ফোনে গ্রাহককে
দ্রুতগতির ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ করে দেবে। তার মানে কেবল ইন্টারনেট থাকাটা দরকার নয়,
দরকার ‘দ্রুতগতি’ বা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট।
মোবাইলের নানা ধরনের হিসাব-নিকাশ, গতি, দ্রুতগতি, নেটওয়ার্কে ঢোকার কায়দা ইত্যাদির ওপর
ভিত্তি করে মোবাইল-সেবাকে কয়েকটি প্রজন্মে ভাগ করা হয়। আমাদের দেশের মোবাইল-সেবা
দ্বিতীয় প্রজন্মের। মোবাইলেও ইন্টারনেট-সেবা চালু রয়েছে। দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইলে যেসব
মোবাইল ইন্টারনেট-সেবা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে জিপিআরএসের সর্বোচ্চ গতি হলো সেকেন্ডে ১১৫
কিলোবাইট এবং এজের সর্বোচ্চ ২৩৭ কিলোবাইট। তবে তা আদর্শ অবস্থায়। বাস্তবে এই গতি অনেক
কম।
মোবাইলের পরের প্রজন্মটি তৃতীয় প্রজন্ম। এই প্রজন্মে প্রযুক্তির হেরফের ঘটিয়ে সেকেন্ডে সর্বনিু
৪০০ কিলোবাইট থেকে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৯ মেগাবাইট (এক হাজার কিলোবাইটে এক মেগাবাইট)
পর্যন্ত গতি পাওয়া যায়। আমাদের অপারেটরদের প্রায় সবাই এই প্রজন্মে সহজে মাইগ্রেট করতে
পারবে, যার গতি হবে ১ দশমিক ৬ মেগাবাইট ডাউনলোড ও ৫০০ কিলোবাইট আপলোড!
আর যুক্তরাজ্যের যে খবরটি আমরা পড়লাম, সেটি হলো চতুর্থ প্রজন্মের। তাত্ত্বিকভাবে এতে ৩০০
মেগাবাইট পর্যন্ত গতির ইন্টারনেট সম্ভব। এর মধ্যে ২০০৯ সালে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে লং টার্ম
ইভালুয়েশন ঘরানার চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল ব্রডব্যান্ড চালু হয়েছে। এর গতি কমপক্ষে ১০০
মেগাবাইট।
এ তো গেল মোবাইল বা তারহীন ইন্টারনেটের কথা; আমাদের তারযুক্ত ইন্টারনেটের অবস্থা কেমন।
২০০৫ সালে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে আমরা দ্রুতগতির ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হলেও সাবমেরিন
কেবলের ক্ষমতার একটি ক্ষুদ্র অংশ আমরা ব্যবহার করতে পারছি। কেবল এই সরকারের আমলেই
প্রতি মেগাবাইট ব্যান্ডউইডথের দাম ৩৮ হাজার থেকে কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
আমাদের ইন্টারনেটকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য যে অবকাঠামো দরকার, সেটা সেভাবে গড়ে
তোলা হয়নি। ফলে একমাত্র বিটিসিএল ইচ্ছে করলেই দেশের বেশির ভাগ স্থানে এডিএসএল প্রযুক্তি
(টেলিফোন লাইনের ওপর দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ) ব্যবহার করে উচ্চগতির সুবিধা দিতে পারে।
তবে, ঢাকার বাইরে অধিকাংশ ডিজিটাল এক্সচেঞ্জ হওয়া সত্ত্বেও এই সেবা গ্রহণের হার খুবই কম।
এবং আমরা এও পরিষ্কার করে জানি, যেভাবে বিটিসিএল আমাদের সবাইকে টেলিফোন দিতে
পারেনি, সেভাবে তারা সবাইকে এডিএসএলের মাধ্যমে ইন্টারনেটও দিতে পারবে না। কাজেই
আমাদের ভরসা হলো বেসরকারি অপারেটর।
সাধারণ মানুষের কাছে ইন্টারনেট-সেবা পৌঁছতে হলে সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত বিতরণকারী
প্রতিষ্ঠান থেকে সংযোগ আইএসপি হয়ে আমাদের বাসাবাড়িতে আসে। মাঝখানে এনটিটিএন লাইসেন্স
পাওয়া প্রতিষ্ঠান আবার নতুন করারোপ করে। ফলে, প্রথম চোটেই আইএসপিদের মেগাবাইট-প্রতি
খরচ বাড়ে। আবার এই খাতে গোদের ওপর বিষফোড়া হলো ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর। অথচ
বিদ্যুতের ওপর মূসক কিন্তু ৫ শতাংশ! কয়েক বছর ধরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রায় সব সংগঠনসহ
সংশ্লিষ্ট প্রায় সবাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে মাথা ফাটিয়ে এই খাতের ভ্যাট শূন্য বা ন্যূনতম ৪
দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারেনি! অন্যদিকে মোবাইল ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন নামের এই প্রতিষ্ঠানটির নানামুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে
দেশে টেলিযোগাযোগ তথা ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসার ঘটার কথা। তবে নামের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ থাকার
কারণে কিনা জানি না, এটির কাজকে কখনো উন্নয়নের সমার্থক হিসেবে দেখা গেল না। সিঙ্গাপুরে এই
কাজ যে সংস্থাটি করে, সেটার নাম ইনফরমেশন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (আইডিএ)। ২০০৭ সালে
তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিটিআরসি আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংযোগ কাঠামোর
জন্য এক ‘অদ্ভুত’ জিনিস চালু করে। বিশ্বব্যাপী যেখানে ভয়েস, ডেটা এবং ভিডিওকে একীভূত করার
জোয়ার শুরু হয়েছে, সেখানে কৃত্রিমভাবে ভয়েস আর ডেটাকে আলাদা করার একটি ‘তরিকা’ বের
করা হয়। এই তরিকা মোতাবেক কাজ করতে গিয়ে দেশের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগে শুভংকরের
ফাঁক—ভয়েস ওভার আইপি বা ভিওআইপি বের হয়। এর পর থেকে আমাদের নিয়ন্ত্রণ কমিশন এই
ভিওআইপি বন্ধ করার জিহাদি ভূমিকায় নেমে পড়ে। ফলে অন্যান্য কাজ, যা বিটিআরসির করার
কথা, সেগুলোর জন্য তারা সময় কম পেতে থাকে। এর মধ্যে কিন্তু বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির বিশাল উল্লম্ফন
ঘটতে থাকে। মোবাইল যোগাযোগ দ্বিতীয় প্রজন্ম থেকে তৃতীয় প্রজন্ম হয়ে চতুর্থ প্রজন্মান্তরে প্রবেশ
করে। কিন্তু আমাদের বিটিআরসি থেকে যায় ভিওআইপি ঠেকানোর পুলিশি ভূমিকায়। ফলে ঝুলে যায়
দেশে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল-সেবা চালু করার কাজ।
এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কারণ,
ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে সরকার আইসিটি নীতিমালা, ২০০৯ এবং জাতীয় ব্রডব্যান্ড
পলিসি, ২০০৯ প্রণয়ন করে। কিন্তু অচিরেই বিটিআরসি তার পুরোনো পুলিশি কাজে ফেরত চলে যায়।
ফলে চার বছর হতে চললেও দেশে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল-সেবার কোনো সুরাহা হয়নি। ‘পাইলট’
করার নাম করে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটকের হাতে তৃতীয় প্রজন্মের লাইসেন্স তুলে দেওয়া হয়েছে, যাদের
মোট গ্রাহকের সংখ্যা সম্ভবত দেশে মোট মোবাইল গ্রাহকের ২ শতাংশও নয়! আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
হলো, তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ব্রডব্যান্ড সেবা এখন বিশ্বের অনেক দেশেই ব্যবহূত হচ্ছে। সেটির
তথাকথিত ‘পাইলট’ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে আমাদের যারা তারওয়ালা ইন্টারনেট সেবাদানকারী সংস্থা, তাদের পক্ষে গ্রামাঞ্চলে কিংবা
পিছিয়ে পড়া শহরগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে উচ্চগতির ইন্টারনেট-সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না খরচের
কারণে। অথচ, তৃতীয় প্রজন্মের ফ্রিকোয়েন্সি বিক্রি করে সেই টাকায় দেশের আনাচ-কানাচে
দ্রুতগতির ইন্টারনেট-সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া যেত।
একুশ শতকের একজন মানুষের পরিপূর্ণ বিকাশে ইন্টারনেটের কোনো বিকল্প নেই। অন্ন, বস্ত্র,
বাসস্থানের মতো ব্রডব্যান্ডও এখন মানুষের মৌলিক চাহিদা হিসেবে দেশে দেশে স্বীকৃতি পেতে শুরু
করেছে। আমাদের দেশেও যাদের ব্রডব্যান্ড আছে, তাদের বিকাশ যাদের ব্রডব্যান্ড নেই, তাদের চেয়ে
অনেক বেশি। সেই কারণে গণমানুষের চাহিদার বড় অংশজুড়ে ইন্টারনেট।
বিশ্বব্যাপী এ ব্যাপারটি এখন সর্বজনীন স্বীকৃতি পেয়েছে। আর তা পেয়েছে বলেই ইন্টারনেটে ওয়ার্ল্ড
ওয়াইড ওয়েবের জনক টিম বার্নাস লি একটি নতুন সূচক বের করছেন, যার মাধ্যমে দেশের এগিয়ে
যাওয়ার সক্ষমতা বের করা যায়। এর মাধ্যমে একটি দেশের ডিজিটাল হওয়ার প্রক্রিয়ার স্থান নির্ণয়
করা যায়। তাতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ পড়ে রয়েছে অনেক পেছনে। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে নেপালের
মতো দেশও আমাদের ছাড়িয়ে গেছে (৫২তম স্থানে)। অনেক এগিয়ে গেছে পাকিস্তান (৪৪), তার
থেকেও অনেক এগিয়ে গেছে ভারত (৩৩)। ইন্টারনেট ব্যবহার এবং সমাজ-রাজনীতিতে এর প্রভাবের
ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ৬১টি দেশের মধ্যে ৫৫তম। আর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে
আমরাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশ।
মানুষের নিজের বিকাশের এই চমৎকার হাতিয়ারটি কী করে সবার হাতে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটি
কি আমাদের নীতিনির্ধারকেরা কখনো দেখতে পাবেন না?
মুনির হাসান: সাধারণ স¤পাদক, বাংলাদেশ গণিত অলি¤িপয়াড কমিটি!

তার আগে চাই ব্রডব্যান্ডইন্টারনেট এখন মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি হয়ে উঠছে প্রতিনিয়ত। তা আমরা মানি বা না মানি, আমাদের কাজকর্মে আমরা সেটাকে প্রতিষ্ঠা করে চলেছি। এই যেমন কদিন আগে জানা গেল, সরকার সারা দেশের ২০ হাজার ৫০০ বিদ্যালয়ে এজ মোবাইল মডেম দিচ্ছে, অর্থাৎ ইন্টারনেট সেবা দিতে উদ্যোগ নিয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে প্রশ্ন অন্য জায়গায়। সবাই কমবেশি জানেন, এজ মডেম হলো এখনকার ইন্টারনেটের সবচেয়ে কম গতির প্রতীক। অনেকে বলবেন, আমাদের সারা দেশে দ্রুতগতির ইন্টারনেট নেই, তাই এ কাজটি করা হচ্ছে। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য, এই বিদ্যালয়গুলোর একটি অংশ এমন সব জায়গায় অবস্থিত, যেখানে ইচ্ছে করলে দ্রুতগতির ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করা সম্ভব। অনেক স্কুলে রয়েছে ল্যান্ডফোন এবং সেখানে রয়েছে বিটিসিএলের এডিএসএল সংযোগের সুবিধা। অনেক স্থানেই আমাদের আইএসপিগুলো ব্রডব্যান্ডের ব্যবস্থা করতে পারে। আর বেশ কিছু শহরে এখন ওয়াইম্যাক্সের সুবিধা রয়েছে। এরই মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বরের প্রথম আলোয় ছাপা হয়েছে যুক্তরাজ্যে চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক চালুর খবর। পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, এই নেটওয়ার্ক মোবাইল ফোনে গ্রাহককে দ্রুতগতির ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ করে দেবে। তার মানে কেবল ইন্টারনেট থাকাটা দরকার নয়, দরকার ‘দ্রুতগতি’ বা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট।মোবাইলের নানা ধরনের হিসাব-নিকাশ, গতি, দ্রুতগতি, নেটওয়ার্কে ঢোকার কায়দা ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে মোবাইল-সেবাকে কয়েকটি প্রজন্মে ভাগ করা হয়। আমাদের দেশের মোবাইল-সেবা দ্বিতীয় প্রজন্মের। মোবাইলেও ইন্টারনেট-সেবা চালু রয়েছে। দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইলে যেসব মোবাইল ইন্টারনেট-সেবা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে জিপিআরএসের সর্বোচ্চ গতি হলো সেকেন্ডে ১১৫ কিলোবাইট এবং এজের সর্বোচ্চ ২৩৭ কিলোবাইট। তবে তা আদর্শ অবস্থায়। বাস্তবে এই গতি অনেক কম। মোবাইলের পরের প্রজন্মটি তৃতীয় প্রজন্ম। এই প্রজন্মে প্রযুক্তির হেরফের ঘটিয়ে সেকেন্ডে সর্বনিু ৪০০ কিলোবাইট থেকে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৯ মেগাবাইট (এক হাজার কিলোবাইটে এক মেগাবাইট) পর্যন্ত গতি পাওয়া যায়। আমাদের অপারেটরদের প্রায় সবাই এই প্রজন্মে সহজে মাইগ্রেট করতে পারবে, যার গতি হবে ১ দশমিক ৬ মেগাবাইট ডাউনলোড ও ৫০০ কিলোবাইট আপলোড! আর যুক্তরাজ্যের যে খবরটি আমরা পড়লাম, সেটি হলো চতুর্থ প্রজন্মের। তাত্ত্বিকভাবে এতে ৩০০ মেগাবাইট পর্যন্ত গতির ইন্টারনেট সম্ভব। এর মধ্যে ২০০৯ সালে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে লং টার্ম ইভালুয়েশন ঘরানার চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল ব্রডব্যান্ড চালু হয়েছে। এর গতি কমপক্ষে ১০০ মেগাবাইট। এ তো গেল মোবাইল বা তারহীন ইন্টারনেটের কথা; আমাদের তারযুক্ত ইন্টারনেটের অবস্থা কেমন। ২০০৫ সালে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে আমরা দ্রুতগতির ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হলেও সাবমেরিন কেবলের ক্ষমতার একটি ক্ষুদ্র অংশ আমরা ব্যবহার করতে পারছি। কেবল এই সরকারের আমলেই প্রতি মেগাবাইট ব্যান্ডউইডথের দাম ৩৮ হাজার থেকে কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আমাদের ইন্টারনেটকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য যে অবকাঠামো দরকার, সেটা সেভাবে গড়ে তোলা হয়নি। ফলে একমাত্র বিটিসিএল ইচ্ছে করলেই দেশের বেশির ভাগ স্থানে এডিএসএল প্রযুক্তি (টেলিফোন লাইনের ওপর দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ) ব্যবহার করে উচ্চগতির সুবিধা দিতে পারে। তবে, ঢাকার বাইরে অধিকাংশ ডিজিটাল এক্সচেঞ্জ হওয়া সত্ত্বেও এই সেবা গ্রহণের হার খুবই কম। এবং আমরা এও পরিষ্কার করে জানি, যেভাবে বিটিসিএল আমাদের সবাইকে টেলিফোন দিতে পারেনি, সেভাবে তারা সবাইকে এডিএসএলের মাধ্যমে ইন্টারনেটও দিতে পারবে না। কাজেই আমাদের ভরসা হলো বেসরকারি অপারেটর। সাধারণ মানুষের কাছে ইন্টারনেট-সেবা পৌঁছতে হলে সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সংযোগ আইএসপি হয়ে আমাদের বাসাবাড়িতে আসে। মাঝখানে এনটিটিএন লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠান আবার নতুন করারোপ করে। ফলে, প্রথম চোটেই আইএসপিদের মেগাবাইট-প্রতি খরচ বাড়ে। আবার এই খাতে গোদের ওপর বিষফোড়া হলো ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর। অথচ বিদ্যুতের ওপর মূসক কিন্তু ৫ শতাংশ! কয়েক বছর ধরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রায় সব সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট প্রায় সবাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে মাথা ফাটিয়ে এই খাতের ভ্যাট শূন্য বা ন্যূনতম ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারেনি! অন্যদিকে মোবাইল ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন নামের এই প্রতিষ্ঠানটির নানামুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে টেলিযোগাযোগ তথা ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসার ঘটার কথা। তবে নামের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ থাকার কারণে কিনা জানি না, এটির কাজকে কখনো উন্নয়নের সমার্থক হিসেবে দেখা গেল না। সিঙ্গাপুরে এই কাজ যে সংস্থাটি করে, সেটার নাম ইনফরমেশন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (আইডিএ)। ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিটিআরসি আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংযোগ কাঠামোর জন্য এক ‘অদ্ভুত’ জিনিস চালু করে। বিশ্বব্যাপী যেখানে ভয়েস, ডেটা এবং ভিডিওকে একীভূত করার জোয়ার শুরু হয়েছে, সেখানে কৃত্রিমভাবে ভয়েস আর ডেটাকে আলাদা করার একটি ‘তরিকা’ বের করা হয়। এই তরিকা মোতাবেক কাজ করতে গিয়ে দেশের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগে শুভংকরের ফাঁক—ভয়েস ওভার আইপি বা ভিওআইপি বের হয়। এর পর থেকে আমাদের নিয়ন্ত্রণ কমিশন এই ভিওআইপি বন্ধ করার জিহাদি ভূমিকায় নেমে পড়ে। ফলে অন্যান্য কাজ, যা বিটিআরসির করার কথা, সেগুলোর জন্য তারা সময় কম পেতে থাকে। এর মধ্যে কিন্তু বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির বিশাল উল্লম্ফন ঘটতে থাকে। মোবাইল যোগাযোগ দ্বিতীয় প্রজন্ম থেকে তৃতীয় প্রজন্ম হয়ে চতুর্থ প্রজন্মান্তরে প্রবেশ করে। কিন্তু আমাদের বিটিআরসি থেকে যায় ভিওআইপি ঠেকানোর পুলিশি ভূমিকায়। ফলে ঝুলে যায় দেশে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল-সেবা চালু করার কাজ। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কারণ, ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে সরকার আইসিটি নীতিমালা, ২০০৯ এবং জাতীয় ব্রডব্যান্ড পলিসি, ২০০৯ প্রণয়ন করে। কিন্তু অচিরেই বিটিআরসি তার পুরোনো পুলিশি কাজে ফেরত চলে যায়। ফলে চার বছর হতে চললেও দেশে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল-সেবার কোনো সুরাহা হয়নি। ‘পাইলট’ করার নাম করে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটকের হাতে তৃতীয় প্রজন্মের লাইসেন্স তুলে দেওয়া হয়েছে, যাদের মোট গ্রাহকের সংখ্যা সম্ভবত দেশে মোট মোবাইল গ্রাহকের ২ শতাংশও নয়! আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ব্রডব্যান্ড সেবা এখন বিশ্বের অনেক দেশেই ব্যবহূত হচ্ছে। সেটির তথাকথিত ‘পাইলট’ করার কোনো প্রয়োজন নেই।অন্যদিকে আমাদের যারা তারওয়ালা ইন্টারনেট সেবাদানকারী সংস্থা, তাদের পক্ষে গ্রামাঞ্চলে কিংবা পিছিয়ে পড়া শহরগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে উচ্চগতির ইন্টারনেট-সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না খরচের কারণে। অথচ, তৃতীয় প্রজন্মের ফ্রিকোয়েন্সি বিক্রি করে সেই টাকায় দেশের আনাচ-কানাচে দ্রুতগতির ইন্টারনেট-সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া যেত।একুশ শতকের একজন মানুষের পরিপূর্ণ বিকাশে ইন্টারনেটের কোনো বিকল্প নেই। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের মতো ব্রডব্যান্ডও এখন মানুষের মৌলিক চাহিদা হিসেবে দেশে দেশে স্বীকৃতি পেতে শুরু করেছে। আমাদের দেশেও যাদের ব্রডব্যান্ড আছে, তাদের বিকাশ যাদের ব্রডব্যান্ড নেই, তাদের চেয়ে অনেক বেশি। সেই কারণে গণমানুষের চাহিদার বড় অংশজুড়ে ইন্টারনেট।বিশ্বব্যাপী এ ব্যাপারটি এখন সর্বজনীন স্বীকৃতি পেয়েছে। আর তা পেয়েছে বলেই ইন্টারনেটে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের জনক টিম বার্নাস লি একটি নতুন সূচক বের করছেন, যার মাধ্যমে দেশের এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বের করা যায়। এর মাধ্যমে একটি দেশের ডিজিটাল হওয়ার প্রক্রিয়ার স্থান নির্ণয় করা যায়। তাতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ পড়ে রয়েছে অনেক পেছনে। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে নেপালের মতো দেশও আমাদের ছাড়িয়ে গেছে (৫২তম স্থানে)। অনেক এগিয়ে গেছে পাকিস্তান (৪৪), তার থেকেও অনেক এগিয়ে গেছে ভারত (৩৩)। ইন্টারনেট ব্যবহার এবং সমাজ-রাজনীতিতে এর প্রভাবের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ৬১টি দেশের মধ্যে ৫৫তম। আর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আমরাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশ।মানুষের নিজের বিকাশের এই চমৎকার হাতিয়ারটি কী করে সবার হাতে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটি কি আমাদের নীতিনির্ধারকেরা কখনো দেখতে পাবেন না?

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top