অনলাইন সংস্করণ
১৮:২৪, ০৬ জুন, ২০২১
বাংলাদেশে প্রকৌশলী পেশাতে নারীদের অংশগ্রহণ একটা সময় বেশ কম ছিল। খুব কম সংখ্যক নারী পেশা হিসেবে প্রকৌশল বেছে নিতে চাইতেন। কিন্তু পরিস্থিতি এখন অনেক বদলে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল বিষয়গুলিতে ছাত্রীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রকৌশলের মেধাবী ছাত্রীরা যাতে সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই নিজেদের ভবিষ্যতের পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে পারে সেই জন্য বাংলালিংক নিয়েছে এক বিশেষ উদ্যোগ।
‘উইমেনটর’ নামের এক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রীদের দিচ্ছে পেশাগত দক্ষতা ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ।
গত বছরের নভেম্বর মাসে ‘উইমেনটর’-এর প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। আগ্রহী প্রার্থীদের সিভি যাচাই-বাছাই ও স্ক্রিনিং রাউন্ডের পর মোট ১০ জনকে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত করা হয়। এই বছরের জানুয়ারি থেকে তারা নিয়মিত বাংলালিংক-এর ৬ জন নারী প্রকৌশলীর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন। করোনা মহামারির কারণে মূলত অনলাইনের মাধ্যমেই চলছে এই কার্যক্রম। এটি শেষ হওয়ার পর অংশগ্রহণকারীদেরকে সার্টিফিকেট অফ কমপ্লেশন দেওয়া হবে।
এই প্রোগ্রামে নির্বাচিত তাসনিয়া ইসলাম রিফা ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির একজন ছাত্রী । এতে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এই ধরনের একটি সুযোগ পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের ব্যাপার। যেকোনো প্রকৌশল বিদ্যায় প্রায়োগিক দিকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত জীবনে কোন ধরনের প্রায়োগিক বিষয়গুলি প্রাধান্য পায় তা আমরা এই কর্মসূচির মাধ্যমে জানতে পারছি। এর পাশাপাশি কর্পোরেট সংস্কৃতি সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে পারছি আমরা।" বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলালিংক আরও কিছু কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করে থাকে। এগুলির মধ্যে রয়েছে লার্ন ফ্রম দ্যা স্টার্টআপ, ক্যাম্পাস টু কর্পোরেট ও অ্যাডভান্সড ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম। তবে বিশেষভাবে প্রকৌশলের ছাত্রীদের জন্য "উইমেনটর"-ই প্রথম উদ্যোগ।
এই বিষয়ে বাংলালিংক-এর চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড এডমিনিস্ট্রেশন অফিসার মনজুলা মোরশেদ বলেন, "দেশের অন্যতম একটি ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা প্রকৌশল পেশায় নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ দেখতে চাই। বাংলালিংক-এ নারী প্রকৌশলীরা দক্ষতার সাথে কাজ করে চলেছেন। তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রকৌশলের মেধাবী ছাত্রীরা যাতে নিজেদেরকে আরও বেশি দক্ষ করে তুলতে পারে সেই জন্য আমরা এই অভিনব কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। প্রথম পর্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে আমরা আনন্দিত।"
'উইমেনটর'-এর প্রথম পর্ব জুন মাসে শেষ হচ্ছে। জুলাই মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় পর্ব শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মনজুলা মোরশেদ।