ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১২ কার্তিক ১৪২৮ |
২৮ °সে
|
বাংলা কনভার্টার
walton

বাংলাদেশঃ সুইজারল্যান্ড এর জন্য একটি সম্ভাবনাময় আউটসোর্সিং গন্তব্য

বাংলাদেশঃ সুইজারল্যান্ড এর জন্য একটি সম্ভাবনাময় আউটসোর্সিং গন্তব্য
বাংলাদেশঃ সুইজারল্যান্ড এর জন্য একটি সম্ভাবনাময় আউটসোর্সিং গন্তব্য

গতকাল বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১ বিকাল ৪ ঘটিকায় বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এবং সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (এসবিসিসিআই) এর যৌথ উদ্যোগে একটি ওয়েবিনার এর আয়োজন করা হয়।

সৈয়দ আলমাস কবীর, সভাপতি, বেসিস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। ভার্চুয়াল এই ওয়েবিনার এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেনড. মোঃ জাফর উদ্দীন, সিনিয়র সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় । এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটালি শিউআখ্, রাষ্ট্রদূত, সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, বাংলাদেশ;মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি, বাংলাদেশ দূতাবাস, সুইজারল্যান্ড; মোঃ সিরাজুল ইসলাম, নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোঃ জাফর উদ্দীন, সিনিয়র সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উভয় দেশের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ দীর্ঘস্থায়ী এবং ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের বাণিজ্য সম্প্রসারণে বেসিস এর উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

তিনি বলেন, সুইজারল্যান্ড এবং বাংলাদেশ প্রায় পাঁচ দশক ধরে গভীর এবং ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। উভয় দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়নসহ অন্য ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত অনুসন্ধান করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, দুইদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক বিদ্যমান যা পরস্পরের জন্য লাভজনক। তিনি জানান উচ্চ সম্ভাবনাময় খাত হিসাবে বাংলাদেশী রফতানি নীতিতে আইসিটিকে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশের সুইজারল্যান্ড দূতাবাস এবং বাংলাদেশ দূতাবাস জেনেভা ভবিষ্যতে সম্মিলিত ভাবে আইসিটি খাতের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক ইনভেস্টরদেরকে আহ্বান জানান যেন তারা বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বিবেচনা করে এখানে আরো বেশি কাজ করতে আগ্রহী হন।

এছাড়া উভয় দেশের রাষ্ট্রদূত মহোদ্বয় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ইতিবাচক উন্নয়নকে স্বাগত জানিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করেন । এছাড়াও বাংলাদেশে বিদ্যমান ব্যবসায়ের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়। তারা বলেন কোভিড-১৯ মহামারি এবং সহজে ব্যবসা করা সংক্রান্ত কিছু বাধা সত্ত্বেও সুইস বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের বাজারে আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনা দেখছে এবং সুইজারল্যান্ড - বাংলাদেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমশ বাড়ছে। সুইস পরিসংখ্যান অনুসারে দুদেশের মধ্যকার বাণিজ্য ২০১০ সাল থেকে তিনগুণ বেড়ে গত বছর ৮৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে।

বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ নীতিমালা প্রণয়নের পর থেকে বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য একটি লাভজনক গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। সেইসাথে দক্ষ জনশক্তি নিয়ে বাংলাদেশ এখন আউটসোর্সিং এর জন্যেও একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের আইসিটি খাতের বিভিন্ন সক্ষমতার দিকে আলোকপাত করে তিনি সুইস বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং পরবর্তীতে সুইস আইটি কোম্পানিদের সাথে বিটুবি ম্যাচমেকিং সেশন, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সহ আরো বিভিন্ন ধরণের কার্যক্রমের আয়োজন করার ইচ্ছা পোষণ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে মুশফিকুর রহমান, সহ সভাপতি, বেসিস; বাংলাদেশের আইটি ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে একটি প্রেসেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য সম্মানিত বক্তাগণ তাঁদের বক্তৃতায় বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এবং সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (এসবিসিসিআই) কে এই ওয়েবিনার এর উদ্দ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সুইজারল্যান্ড এবং বাংলাদেশের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাণিজ্য সম্প্রসারণে এধরনের উদ্যোগ কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে বক্তাগণ প্রত্যাশা করেন। নকিব খান, সভাপতি, সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (এসবিসিসিআই); সাদ ওমর ফাহিম, সেক্রেটারি জেনারেল, সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসবিসিসিআই) এখানে বক্তব্য রাখেন এবং জনাব জুলিয়ান এ ওয়েবার, সিইও এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিকিউর লিংক সার্ভিসেস বিডি লিমিটেড (সেলিস) উক্ত ওয়েবিনারে একটি তথ্যবহুল উপস্থাপনা করেন।

উল্লেখ্য ৮২ টি বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠান এবং ২০ টি এসবিসিসিআই সদস্য প্রতিষ্ঠান এই ওয়েবিনার টিতে অংশগ্রহণ করেন। আশা করা যাচ্ছে যে, আগামীতে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক আরো কিছু উদ্দ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বেসিস, এসবিসিসিআই এবং দূতাবাস গুলোর সহযোগীতায় বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং এই খাত থেকে রপ্তানি আয় ও বিনিয়োগ বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

আউটসোর্সিং গন্তব্য
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়