ঢাকা | সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ |
৩২ °সে
|
বাংলা কনভার্টার
walton

প্রযুক্তি পণ্য তৈরি হলেও বাড়ছে না উৎপাদকের সংখ্যা

প্রযুক্তি পণ্য তৈরি হলেও বাড়ছে না উৎপাদকের সংখ্যা
প্রযুক্তি পণ্য তৈরি হলেও বাড়ছে না উৎপাদকের সংখ্যা

দেশে তৈরি হচ্ছে প্রযুক্তি পণ্য। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নামে তৈরি হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার (পিসি), অ্যান্টি-ভাইরাস,কাস্টমাইজড চ্যাটবট, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ইত্যাদি। এসব পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরে রফতানি হচ্ছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পণ্য বিদেশের মাটিতে দেশের জাতীয় পতাকা বহন করছে। সরকারের সঠিক নির্দেশনা ও প্রণোদনা ইত্যাদি যথাযথভাবে দেওয়া হলে এ খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ আসবে। উৎপাদন বেশি হবে।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, হার্ডওয়্যার পণ্যের উৎপাদনে দেশের আরও এগিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হার্ডওয়্যার পণ্য উৎপাদন করছে। সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক। প্রণোদনা, কর অবকাশ ইত্যাদিসহ অবকাঠামো তৈরিতে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দিলেও হার্ডওয়্যার উৎপাদনে প্রযুক্তি ব্যবসায়ীরা সেভাবে আগ্রহী হননি। যতটা আগ্রহ দেখা গেছে মোবাইল ফোন নির্মাতাদের।

দেশে ১৪টি প্রতিষ্ঠান মোবাইল ফোন তৈরির লাইসেন্স পেয়েছে। এরমধ্যে ১১-১২টি প্রতিষ্ঠান দেশে মোবাইল ফোন তৈরি করছে। এসব মোবাইল ফোন দেশের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরে রফতানি করছে। দেশে তৈরি ল্যাপটপও রফতানি হচ্ছে। এছাড়া দেশে তৈরি প্রযুক্তি পণ্যের মধ্যে রয়েছে ল্যাপটপ, কম্পিউটার (পিসি),ট্যাবলেট কম্পিউটার, মনিটর, র‌্যাম, মাদারবোর্ড, পেনড্রাইভ, মাউস, কি-বোর্ড সহ খুচরা যন্ত্রাংশ ইত্যাদি। এছাড়া দেশেই তৈরি হচ্ছে অ্যান্টি-ভাইরাস, কাস্টমাইজড চ্যাটবট, নজরদারি ক্যামেরা (সিকিউরিটি ক্যামেরা),ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের চিপ। দেশে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পও হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগোতে শুরু করেছে। অন্তত দুটি প্রতিষ্ঠান এ খাতে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

দেশে তৈরি প্রযুক্তি পণ্য নিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্য বিশ্বে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করছে। বাংলাদেশকে মানুষ উৎপাদক দেশ হিসেবে চিনতে শুরু করেছে। এটা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক। মেড ইন বাংলাদেশ পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের বাজার দখল করতে শুরু করেছে। এটা সবে শুরু। আমাদের অনেক দূর যেতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোন ও অন্যান্য প্রযুক্তি পণ্য তৈরিতে মেড ইন বাংলাদেশ পণ্যে অংশগ্রহণ সন্তোষজনক হলেও হার্ডওয়্যারে অংশগ্রহণ কম। শুধু একটি প্রতিষ্ঠান (ওয়ালটন) এটা তৈরি করছে। আরও প্রতিষ্ঠান এলে একটা প্রতিযোগিতা তৈরি হতো রফতানিও বাড়তো।’ এ ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতিকে (বিসিএস) দোষারোপ করেন। মন্ত্রী বলেন, ‘সমিতিতে ২০১৪ সালের পরে যোগ্য নেতৃত্ব এলো না। যোগ্য নেতৃত্ব থাকলে হার্ডওয়্যার উৎপাদনে আরও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসতো। বিসিএস ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাচ্ছে। অথচ সংগঠনটি দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদনে আসতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারবো। আমি বলবো, তারা এ কাজে ব্যর্থ হয়েছে।’ দেশে মোবাইল ফোন নির্মাতাদের মধ্যে কিউ কেউ বলছে, মেড ইন নয় মেক ইন বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলছি, মেড ইন বাংলাদেশ। মেক ইন বাংলাদেশ কথাটা ভুল। এটা হতে পারে না। হবে মেড ইন বাংলাদেশ।’

দেশীয় মোবাইল ফোন নির্মাতা সিম্ফনি মোবাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া শহীদ বলেন, ‘মেড ইন পণ্য (মোবাইল) দেশের বাইরে ভালো সাড়া ফেলেছে। আমরা সিম্ফনি মোবাইল ফোন নেপালে রফতানি করতে শুরু করেছি। আমরা সিম্ফনি নামেই মোবাইল ফোন রফতানি করছি। ফোনে লেখা থাকছে মেড ইন বাংলাদেশ। এটাই দেশের বাইরে আমাদের নতুন করে পরিচিতি এনে দেবে।’

ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিয়াকত আলী বলেন, ‘আমরা ল্যাপটপ ও কম্পিউটার (পিসি) এবং এ সংক্রান্ত সব যন্ত্রাংশ তৈরি করছি। সবকিছুতে লেখা থাকছে মেড ইন বাংলাদেশ। এটাই আমাদের গর্ব।’

জানা গেছে, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) কয়েক বছর আগে ৫টি আন্তর্জাতিক ল্যাপটপ ব্র্যান্ডের উৎপাদকদের এ দেশে ল্যাপটপ উৎপাদনের জন্য আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু নিয়মিত যোগাযোগের অভাবে বিষয়টা আর এগোয়নি। পরবর্তী সময়ে তথা ২০১৮ সালের শুরুর দিকে এ দেশের একটি মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অন্তত দুটি বিদেশি ল্যাপটপ ব্র্যান্ডকে তাদের কারখানায় ল্যাপটপ উৎপাদনের প্রস্তাব দিলেও ওই পক্ষ থেকে আর বিষয়টি এগোয়নি। সমস্যাটা কোথায় সেটা আর আলোতে আসেনি। ফলে দেশে প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বাড়েনি।

প্রযুক্তি পণ্য,উৎপাদকের সংখ্যা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়