মহামারিতেও সুদের হার ৯% কার্যকর করেনি ব্র্যাক - মুনাফা ৪৫৪ কোটি টাকা !

মহামারিতেও সুদের হার ৯% কার্যকর করেনি ব্র্যাক - মুনাফা ৪৫৪ কোটি টাকা !
মহামারিতেও সুদের হার ৯% কার্যকর করেনি ব্র্যাক - মুনাফা ৪৫৪ কোটি টাকা !

করোনাকালে রাষ্ট্রায়ত্ত ৫ ব্যাংকের লাভজনক থাকা ২১টি শাখা লোকসানে পড়েছে। ব্যাংকাররা বলছেন, করোনায় বাড়তি খরচ ও ব্যবসা কম হওয়ায় বেড়েছে লোকসানি শাখা।

ব্যাংকগুলোর ব্যয়ের অন্যতম বড় খাত হচ্ছে পরিচালন ব্যয়, আর পরিচালন ব্যয়ের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন।এই বেতনে ব্যাংকের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ থাকায় সিটি ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক এরিমধ্যে কর্মীদের বেতন কাটছে জুন ২০২০ সাল থেকেই।কোন কোন ব্যাংক ঢালাওভাবে সব কর্মীদের বেতন ৫%-৬% পর্যন্ত কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আবার কিছু ব্যাংক তাদের যেসব কর্মীদের বেতন ৩০ হাজার বা ৪০ হাজার টাকার ওপরে তাদের বেতনের ১০% থেকে ২৫% পর্যন্ত কাটছে বলে জানিয়েছে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক তাদের মিরপুর সহ অনেক শাখা বন্ধ করে দিয়েছে লোকসানের কারণে।

কিন্তু ব্র্যাক ব্যাংক ২০২০ সালে সমন্বিত নিট মুনাফা করেছে ৪৫৪ কোটি টাকা। গত ২১ এপ্রিল ২০২১ ব্র্যাক ব্যাংক যে বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে,তা পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।

২০২০ সালের এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঋণ ও বিনিয়োগের সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনায় পুরো ব্যাংকিং খাতের সুদ আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমে যায়। তা সত্ত্বেও ব্র্যাক ব্যাংক ৪ দশমিক ৬ শতাংশ নিট সুদের মার্জিনের মাধ্যমে বছরের শেষ করেছে।

গত তিন বছর ধরে উল্টোরথে চলছে ব্র্যাক ব্যাংকের কার্যক্রম। ২০১৮ সালে ব্র্যাক ব্যাংকের সম্পদের প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৯৮ শতাংশ। বিপরীতে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ ছিল নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধি। তবে পরের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে ব্যাংকটির সম্পদের প্রবৃদ্ধি ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ হলেও নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০১৯ সালে ব্র্যাক ব্যাংকের সমন্বিত কর-পরবর্তী মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ কমে ৪৫৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের ঋণ পোর্টফোলিওর ৪৫ শতাংশই এসএমই। পাশাপাশি ১৮ শতাংশ বিনিয়োগ আছে রিটেইল খাতে। এসএমই ও রিটেইলে দেয়া ঋণে ১৫-৩০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ আদায় করত ব্র্যাক ব্রাংক। ঋণের এ উচ্চসুদে লাগাম দিয়েছিল সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ধরনের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ এপ্রিল থেকে কার্যকর করার নির্দেশ দেয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ঋণে ব্যাংকগুলো ৯ শতাংশ সুদ কার্যকর করেছে সব ব্যাংক ।

কিন্তু ব্র্যাক ব্যাংক তা কার্যকর করে সেপ্টেম্বর ২০২০ থেকে!

এই নিয়ে মগবাজারের মোটর পার্টস ব্যবসায়ী আবু মুসা ভুইয়া জানান,আমার পরিবার ২০১৪ সালে একটি গাড়ী ক্রয়ের জন্য অটো লোণ নিয়েছিলাম। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করার পর আমরা বহুবার ব্র্যাক ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে,ফোনে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করি যে কেন ব্র্যাক ব্যাংক সুদের হার ৯% করছে না? অথচ আমার প্রতিবেশীকে আইএফএইসি ব্যাংক চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা সরকারের নির্দেশনা মতো ৯% সুদের হার কার্যকর করেছে।

আমি ব্র্যাক ব্যাংকে যোগাযোগ করলে এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত বলেছে আপনার লোণটি সেই শ্রেণিতে পড়ে না। জুনের পরে বলেছে ব্যাংকের সফটওয়্যার এর কাজ চলছে তাই ৯% করা যাচ্ছে না। অবশেষে সেপ্টেম্বর মাসে ৯% কার্যকর করে। তাহলে আমার প্রশ্ন মার্চ থেকে আগস্ট ২০২০ সালের মোট ৬ মাসে যে বাড়তি টাকা আদায় করলো ব্র্যাক ব্যাংক তা কি গ্রাহককে ফেরত দিবে না?

সেলিনা হোসেন নামে ব্র্যাক ব্যাংকের সব গ্রাহকও হোম লোণ সহ বিভিন্ন লোণ নিয়ে গত ৬ মাস ধরে এরকম অবস্থার শিকার হয়েছেন। অনেকে আবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ অভিযোগ দিয়েও কোন সুরাহা পাননি। অথচ সুদহার ৯ শতাংশ প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকই।

আর এভাবেই মহামারিতেও বেড়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের মুনাফা!

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ঋণ খেলাপি হওয়া ঠেকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২০ সালে এক সার্কুলার জারি করে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণের কিস্তি না দিলেও চলবে। কিস্তি না দিলে কেউ ঋণ খেলাপি করে দেবে না। আবার এই সময়ে ঋণের ওপর কোনো ধরনের দণ্ড সুদ বা অতিরিক্ত ফি আরোপও করা যাবে না। তবে যদি কেউ ঋণ শোধ করে নিয়মিত গ্রাহক হন, তাঁকে খেলাপি গ্রাহকের তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এই সময়ে কেউ কিস্তি শোধ দিলে ওই গ্রাহককে সুদ ছাড় দিতে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কিন্তু ব্র্যাক ব্যাংক ২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকেই গ্রাহকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক কিস্তি আদায়ের জন্য বিশেষ রিকভারি দল তৈরি করে যারা দিনে ১০ থেকে ১২ বার ফোন করে গ্রাহকদের হয়রানি করে। গ্রাহক ফোন না ধরলে তার বাসা বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়। যেহেতু করোনাভাইরাসের মহামারির করনে অনেকে বাসায়ই অবস্থান করতেন তখন ব্র্যাক ব্যাংকের রিকভারি দলের মানসিক যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে অনেকে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে ফ্ল্যাট,গাড়ী বিক্রি করে এককালীন ঋণের টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন।

এম আর মুকুল নামে একজন গ্রাহক তার ফেসবুকে কিখেছেন,এটি একটা মামলাবাজ ব্যাংক।, লোন দেওয়ার সময় মানুষের কাছ থেকে স্বাক্ষরিত খালি চেক রাখে,, পরে পঞ্চাশ হাজার পাওনা থাকলে খালি চেকে মনের মতো অংক বসিয়ে মামলা করে। ঢাকা কোর্টে টাকার মামলা যা আছে তার ৫০% এর বেশি ব্র্যাক ব্যাংকের আর সব প্রতিষ্ঠান মিলে ৫০% এর কম। এদের বড় দোষ যাকে তাকে লোন দেয়,, যার দুই লাখ টাকা পুঁজি আছে তাকে দশ লাখ দিয়ে দেয়।।

ব্র্যাক,ব্র্যাক ব্যাংক,সুদের হার ৯%
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়