নাটকীয় নিলাম যুদ্ধে শীর্ষস্থান ধরে রাখল গ্রামীণফোন

নাটকীয় নিলাম যুদ্ধে শীর্ষস্থান ধরে রাখল গ্রামীণফোন
সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার স্পেকট্রাম বিক্রি করলো বিটিআরসি

২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ৫ মেগাহার্টজ ব্লকের তরঙ্গ নিয়ে গ্রামীণফোন ও রবির মধ্যে তীব্র নিলাম যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত গ্রামীণফোনের (জিপি) জয় হয়েছে। প্রতি মেগাহার্টজ ৪৬.৭৫ মিলিয়ন ডলারে ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গের নিলামে জয় তুলে নেয় জিপি। সোমবার দুপুর দেড়টা থেকে এ ব্লকের নিলামে দর বাড়তে থাকে। রাত সাড়ে ৮টায় নিলাম যুদ্ধ শেষ হয়।

এর আগে সকালে ১৮০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গের সব ব্লক এবং ২১০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গের তিনটি ব্লক বিক্রি হয়। সেখানে বাংলালিংক সর্বোচ্চ ৯.৪ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ক্রয় করে। এছাড়া রবি ২.৬ মেগাহার্টজ আর গ্রামীণফোন ক্রয় করে সব মিলিয়ে ৫.৪ মেগাহার্টজ তরঙ্গ। তবে ২১০০ মেগাহার্টজ শেষে একটি ব্লকের নিলাম নিয়ে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মাঠে যুদ্ধ চালিয়ে যায় জিপি ও রবি। এ ব্লকের নিলাম প্রক্রিয়ার শুরুতে ডাক থেকে বাংলালিংক সরে যায়। বেলা ৪টার দিকে টেলিটকও সরে যায়। নিলামে অংশ নিলেও কোনো তরঙ্গ নেয়নি রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক।

ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সোমবার বেলা ১১টায় নিলামের শুরুতে ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ৭ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ তরঙ্গের মোট পাঁচটি ব্লকে নিলাম প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে দুটি ব্লক দশমিক ৪৪ মেগাহার্টজ তরঙ্গের এবং দুটি ব্লক ২ দশমিক ২ মেগাহার্টজ তরঙ্গের। প্রতিটি ব্লকের ভিত্তিমূল্য ছিল ৩১ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ২ দশমিক ২ মেগাহার্টজ তরঙ্গের দুটি ব্লক নিয়ে মোট ৪ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নেয় বাংলালিংক। রবি ২ দশমিক ২ মেগাহার্টজের একটি এবং দশমিক ৪৪ মেগাহার্টজের একটি নিয়ে মোট ২ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নেয়। আর গ্রামীণফোন নেয় একটি ব্লকে দশমিক ৪৪ মেগাহার্টজ তরঙ্গ।

নিলামে ভিত্তিমূল্যর ওপর কোনো দাম না ওঠায় সেই দামে অপারেটররা তরঙ্গ পেয়ে যায়। মোটামুটি এক ঘণ্টার মধ্যে প্রথম ধাপের নিলাম শেষ হয়। এতে ৭ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বিক্রি করে সরকারের আয় হয় ২২৯ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার।

এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ২০ মেগাহার্টজ ব্যবহারযোগ্য তরঙ্গ ৫ মেগাহার্টজ করে মোট চারটি ব্লকে বিক্রির জন্য নিলাম শুরু হয়। প্রতিটি ব্লকের ভিত্তিমূল্য ছিল ২৭ মিলিয়ন ডলার। বেলা দেড়টার দিকে প্রথম ব্লকে টেলিটক বাদে বাকি তিনটি অপারেটর ২৭ মিলিয়ন ডলার থেকে ডাক শুরু করে। টেলিটক সরে যাওয়ার পর ২৯ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত দরে থাকে তিন কোম্পানি। এরপর কেউ আর ডাক না বাড়ালে নিয়ম অনুসারে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক ৫ মেগাগার্টজ করে তরঙ্গ পায়। ১৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ সেখানে বিক্রি হয়ে যায়।

৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গের বাকি একটি ব্লকের নিলামে ২৭ মিলিয়ন ডলার থেকে ডাক শুরু হলে প্রথমে বাংলালিংক নিলাম থেকে সরে যায়। এরপর প্রতি ডাকে দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলার করে দর বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে ৩০ মিলিয়ন ডলারে গিয়ে থামার পর পৌনে ৩টায় দুপুরের খাবারের বিরতি দেওয়া হয়। পৌনে ৪টার দিকে আবার নিলাম প্রক্রিয়া শুরু হলে ৩০ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার থেকে দাম হাঁকা শুরু হয়। ৩০ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারে দাম উঠলে ১৬তম রাউন্ডে সরে দাঁড়ায় টেলিটক। বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ ব্লকের ফয়সালা হয়নি।

দেশের দুই শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি তখনও ডাক চালিয়ে যাচ্ছিল। তখন ৩০ নম্বর রাউন্ডে ৩৪ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলারের ডাক চলছিল। শেষ ব্লকের নিলামের ৩৩তম রাউন্ডে বিটিআরসির কমিশনার একেএম শহীদুজ্জামান দুই অপারেটরকে তরঙ্গের দাম বিষয়ে সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, দাম অনেক উচ্চতায় উঠে গেছে। ব্যাপক চড়া দাম অপারেটর ও জাতির জন্য ভালো হবে না। এত দামে তরঙ্গ কিনে ব্যবসা সফল হওয়া যাবে কি না, সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

কমিশনারের এ কথা বলার পরও ২৬টি রাউন্ড পেরিয়ে যায়। জিপি ও রবি দাম হাঁকানো চালিয়ে যায়। অবশ্য উপস্থিত অংশীজনদের কেউ কেউ বলছেন, চড়া দামে তরঙ্গ যে অপারেটরই কিনুক না কেন, তা গ্রাহকদের পকেট থেকেই যাবে।

এ নিলামে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারসহ অপারেটরদের নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নিলামে চারটি টেবিলের মধ্যে ১ নম্বর টেবিলে রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক, ২ নম্বর টেবিলে বাংলালিংক, ৩ নম্বরে গ্রামীণফোন এবং ৪ নম্বর টেবিলে অপারেটর রবি রয়েছে। বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল আলম নিলাম পরিচালনা করেন।

বিটিআরসি
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়