শিরোনাম

বুধবার, সেপ্টেম্বর 20, 2017 - ৩ দিন বন্ধ থাকবে প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল | বুধবার, সেপ্টেম্বর 20, 2017 - ডিসেম্বরের মধ্যে ফোর-জি চালু:তারানা হালিম | বুধবার, সেপ্টেম্বর 20, 2017 - ভিসা কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য বাগডুম ডটকম নিয়ে এলো দারুণ অফার | বুধবার, সেপ্টেম্বর 20, 2017 - দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারী ব্যাকআপ দিবে আইটেল পি ১১ স্মার্টফোন | বুধবার, সেপ্টেম্বর 20, 2017 - ভিসা এবং এসএসএলকমার্জ শুরু করলো অনলাইন ধামাকার দ্বিতীয় রাউন্ড | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - প্রতিশ্রুতিশীল প্রযুক্তি বিষয়ক স্টার্টআপের খোঁজে সিডস্টারস ওয়ার্ল্ড | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - ফেইসবুকে কাউকে বন্ধু করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - ম্যার্শম্যালো এখনো শীর্ষে | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - দীর্ঘক্ষণ ব্যাটারি ব্যাকআপ দেবে ওয়ালটনের নতুন ফোন | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - হ্যাকারের হানায় ঝুঁকিতে সিক্লিনার ব্যবহারকারীদের ডিভাইস |
প্রথম পাতা / Uncategorized / ঔষুধ রপ্তানির বাজার বিশাল হচ্ছে-বাংলাদেশের জন্য খুলে যাচ্ছে সুবর্ণ দুয়ার

ঔষুধ রপ্তানির বাজার বিশাল হচ্ছে-বাংলাদেশের জন্য খুলে যাচ্ছে সুবর্ণ দুয়ার

গার্মেন্টস শিল্পের মত ঔষুধ রপ্তানির মাধ্যমে ক্রমে বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দুয়ার খুলে যাচ্ছে বাংলাদেশের জন্যে। জেনেরিক ঔষুধ উত্পাদন ও রপ্তানি করে এই অভূতপূর্ব সফলতার দিকে এগোচ্ছে এই শিল্পটি। বেশকিছু সুবিধা থাকার কারণে বাংলাদেশে ঔষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে একচ্ছত্র বাজার ধরতে সক্ষম হবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

অরিজিনেটর ও জেনেরিক এই দুধরনের ঔষুধ বিশ্ব জুড়ে উত্পাদন হয়ে আসছে। এর মধ্যে ইন্ডিয়া চীন, ব্রাজিল প্রথম দিকে প্যাটেন্ট আইন না মেনে অরিজিনেটর ঔষুধ বিভিন্ন নামে উত্পাদন ও বাজারজাত শুরু করলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। কেননা ২০ বছরের আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানি একই ধরনের ঔষুধ জেনেরিক হিসেবে উত্পাদন করতে পারে না। যার ফলে ১৯৯৪ সালে ডব্লিউটিও’র নিয়ম অনুযায়ী এসব দেশ টিআরআইপিএস চুক্তিতে সই করলে নকল করে একই মানের ঔষুধ উত্পাদন বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু গরীব বিশ্বে ঔষুধের আকাশ ছোঁয়া দাম হবার আশংকায় এলডিসিভুক্ত ৫০টি দেশ ২০০৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জেনেরিক ঔষুধ উত্পাদনের ক্ষমতা পায়। যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ফলে এদেশে জেনেরিক ঔষুধ উত্পাদনের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়। পক্ষান্তরে ৫০টি এলসিডিভুক্ত দেশ ছাড়াও জাতীয় জরুরি অবস্থায় যেকোনো দেশ থেকে ঔষুধ আমদানি করতে পারার আইন চালু করে। যার ফলে বাংলাদেশ এই ৫০টি দেশ ছাড়াও সহজে ইউরোপ আমেরিকার মার্কেট ধরার সুযোগ পায়।

ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে শ্রমিকদের মধ্যে ওয়াইলড কলার লোকদের বেশি বেতন দিয়ে থাকে। বাকীদের জন্যে সাধারণ বেতন কাঠামো রয়েছে। যেখানে ওয়াইলড কলার লেবারদের এদেশে বেতন ২১-২৫ হাজার টাকার মধ্যে, সেখানে প্রতিবেশি দেশ ইন্ডিয়ায় একই শ্রেণীর ওয়াইলড লেবারের বেতন ১-২ লাখ রুপি এবং ইউরোপীয়ান দেশগুলোতে ২-২.৫ হাজার ইউরো। ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি সেটআপ করতে মেশিনারীজের দাম একই হবার কারণে সব দেশেই স্থাপনা খরচ প্রায় সমান। কাজেই এটি পরিষ্কার যে একই ধরনের ঔষুধ উপাদন খরচ এদেশে বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে অনেক কম। ফলে বাংলাদেশ সবচেয়ে কম মূল্যে ঔষুধ উত্পাদন ও তা বিদেশে রপ্তানি করতে পারছে। অন্যদিকে ঔষুধ উত্পাদনের জন্যে শক্তি উপকরণ হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস যার মূল্য বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় এদেশে তিন গুণ কম।

ঔষুধ রপ্তানির জন্যে তিনটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। এক্ষেত্রে ফ্যাক্টরী স্থাপন, রপ্তানির জন্য রেজিস্টেশন, ঔষুধের নাম রপ্তানিকৃত দেশে রেজিষ্ট্রেশন। এ জন্যে প্রায় দু’বছর সময় ব্যয় হয়। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঔষুধ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকোফার্মা গত বছর ১১টি নতুন দেশে ঔষুধ রপ্তানি করেছে এবং এবছর আরো ১৫টি দেশে তাদের ঔষুধ রপ্তানি শুরু হবে। নব্বই’র দশকের শেষের দিকে তাদের রপ্তানি বাজারে প্রবেশ করার পর স্কয়ার, স্কায়েফ, অপসোনিন প্রভৃতি বড় প্রতিষ্ঠান ঔষুধ রপ্তানি শুরু করে। এখন বড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির পাশাপাশি ছোটো প্রতিষ্ঠানগুলো এ রপ্তানি বাজারে প্রবেশ করছে। অভ্যন্তরীণ মার্কেটের চেয়ে রপ্তানিতে প্রায় ২০ গুণ দাম বেশি পাবার কারণে বেশিরভাগ কোম্পানি রপ্তানিতে যাচ্ছে। গবেষকরা মনে করছে অতিমাত্রায় রপ্তানি টার্গেট থাকলে উত্পাদনকারীরা অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্যে উত্পাদন বন্ধ করে দিতে পারে যেটি দেশি মার্কেটে ঔষুধের অভাব সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ঔষুধের মার্কেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার আর এই খাতে শুধু ২০০৪-০৬ সালে বিনিয়োগ হয়েছে ২০০০ কোটি ডলার। এদেশে মোট ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির সংখ্যা ১৫৪টি যেখানে মোট বিনিয়োগ প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি ডলার। প্রতি বছর ৩০০-৩৫০ কোটি টাকার ঔষুধ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিদেশী কোম্পানির মধ্যে নোভার্টিস সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করছে। দেশি কোম্পানির মধ্যে বেক্সিমকোর রপ্তানির পরিমাণ বেশি।

ঔষুধ রপ্তানি নিয়ে বাংলাদেশ ঔষুধ শিল্প সমিতির সেক্রেটারী জেনারেল নাজমুল হাসান বলেছেন, জেনেরিক ঔষুধ উত্পাদন রপ্তানিতে বাংলাদেশের জন্য কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। আর এদেশে ভালো মানের ঔষুধ বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে কম মূল্যে উত্পাদন করা যায়। যে কারণে এদেশের গার্মেন্টস শিল্পের পর সবচেয়ে বড় রপ্তানি আয় আসতে পারে ওষুদ রপ্তানি করে। তিনি বলেন, এই শিল্প খাতে আরো বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত। একই সাথে যে রপ্তানি সুযোগ এসেছে সবারই এই সুযোগ গ্রহণ করে এদেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে একাত্ম হওয়া উচিত।

ড় মঞ্জুর মোর্শেদ

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top