শিরোনাম

বুধবার, সেপ্টেম্বর 20, 2017 - ৩ দিন বন্ধ থাকবে প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল | বুধবার, সেপ্টেম্বর 20, 2017 - ডিসেম্বরের মধ্যে ফোর-জি চালু:তারানা হালিম | বুধবার, সেপ্টেম্বর 20, 2017 - ভিসা কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য বাগডুম ডটকম নিয়ে এলো দারুণ অফার | বুধবার, সেপ্টেম্বর 20, 2017 - দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারী ব্যাকআপ দিবে আইটেল পি ১১ স্মার্টফোন | বুধবার, সেপ্টেম্বর 20, 2017 - ভিসা এবং এসএসএলকমার্জ শুরু করলো অনলাইন ধামাকার দ্বিতীয় রাউন্ড | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - প্রতিশ্রুতিশীল প্রযুক্তি বিষয়ক স্টার্টআপের খোঁজে সিডস্টারস ওয়ার্ল্ড | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - ফেইসবুকে কাউকে বন্ধু করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - ম্যার্শম্যালো এখনো শীর্ষে | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - দীর্ঘক্ষণ ব্যাটারি ব্যাকআপ দেবে ওয়ালটনের নতুন ফোন | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - হ্যাকারের হানায় ঝুঁকিতে সিক্লিনার ব্যবহারকারীদের ডিভাইস |
প্রথম পাতা / সাম্প্রতিক খবর / টাকা ওঠাতে চার্জ বেশি নিচ্ছে বিকাশ
টাকা ওঠাতে চার্জ বেশি নিচ্ছে বিকাশ

টাকা ওঠাতে চার্জ বেশি নিচ্ছে বিকাশ

bkashদ্রুত টাকা লেনদেনের সুবিধা থাকায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন বাড়ছে। বর্তমানে দেশের ১৭টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। আর টাকা লেনদেনে প্রতিটি ব্যাংকেরই সার্ভিস চার্জ ভিন্ন। তবে লেনদেনে গ্রাহকদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সার্ভিস চার্জ আদায় করছে শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী ব্র্যাক ব্যাংকের ‘বিকাশ’। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পরের অবস্থানে রয়েছে ডাচ-বাংলা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ‘রকেট’। তবে টাকা তোলার ক্ষেত্রে রকেটের তুলনায় বিকাশের চার্জ বেশি।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিকাশের মাধ্যমে বুথ থেকে টাকা উত্তোলনে এক হাজার টাকার জন্য চার্জ নেওয়া হয় ২০ টাকা। আর বুথ থেকে অর্থ উত্তোলনে রকেটে চার্জ নেয়া হয় প্রতি হাজারে ৯ টাকা। বিকাশের বুথ থেকে ১৫ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে চার্জ নেওয়া হয় ৩০০ টাকা। অন্যদিকে রকেটের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা উত্তোলনে চার্জ নেওয়া হয় ১৩৫ টাকা। আর এই অর্থ উত্তোলনে রকেটের তুলনায় বিকাশে প্রায় ১৬৫ টাকা চার্জ বেশি গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের, যেটি গ্রাহকদের সঙ্গে এক ধরনের অর্থ জালিয়াতি বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অধিক চার্জের বিষয়ে বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এক্ষেত্রে তিনি বিকাশের জনসংযোগ বিভাগে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

পরে বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম এ প্রসঙ্গে শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বিকাশের বর্তমানে যে চার্জ আছে, অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় সেটি খুব বেশি নয়। রকেটে বুথের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন এবং নগদ জমা রাখার সময় দুই ধাপে টাকা কেটে নেওয়া হয়। যেটি রকেটের তুলনায় সামান্য অর্থাৎ ০.০৫ শতাংশ। এই মুহূর্তে বিকাশের যে চার্জ চলমান রয়েছে, তা বর্তমানে কমানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।’

তিনি বলেন, ‘বিকাশের মাধ্যমে এখন বিভিন্ন রকম বিলসহ মানুষের ব্যক্তিগত লেনদেনও পরিশোধ করা যায়। গ্রাম থেকে শুরু করে দেশে প্রায় সবারই এখন বিকাশ অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যে কারণে কাউকে এখন ক্যাশ টাকা হাতে দিতে হয় না। বিকাশের মাধ্যমেই সব রকম লেনদেনের সুবিধা রয়েছে।’

রিটেইলারদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, নগদ জমা ও নগদ টাকা উত্তোলনে রকেটের তুলনায় বিকাশের মাধ্যমে লেনদেনে ব্যয় বেশি হলেও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকরা বেশি লেনদেন করে বিকাশের মাধ্যমে। বিকাশের মাধ্যমে নগদ জমা বা নগদ উত্তোলনে মোবাইল থেকে বা বুথ থেকে একই রকম হারে অর্থাৎ হাজারে ২০ টাকা চার্জ নেওয়া হয়। অন্যদিকে রকেটের মাধ্যমে মোবাইল থেকে নগদ জমা বা উত্তোলনের সময় চার্জ নেওয়া হয় ১৮ টাকা। অন্যদিকে বুথ থেকে নগদ জমা বা উত্তোলনের জন্য চার্জ নেওয়া হয় ৯ টাকা। অর্থাৎ বুথ থেকে অর্থ লেনদেনে রকেটের চেয়ে হাজারে ১১ টাকা বেশি নিচ্ছে বিকাশ।

অন্যদিকে বিকাশের মাধ্যমে কোনো গ্রাহকের পার্সোনাল বা এজেন্ট নাম্বারে রিটেইলারের দোকানে হাজারপ্রতি টাকা উত্তোলনে চার্জ নেওয়া হয় ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। একই পদ্ধতিতে রকেটের মাধ্যমে প্রতি হাজারে টাকা উত্তোলনের জন্য চার্জ নেওয়া হয় ১৮ টাকা। এ হিসাবে রকেটের তুলনায় ১০ হাজার টাকা উত্তোলনে বিকাশে বেশি নেওয়া হচ্ছে ৫ টাকা।

চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ধরনের নির্দেশনাকে বিতর্কিত ও গ্রাহকবান্ধব নয় বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখ্যপাত্র শুভঙ্কর সাহা শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অর্থ লেনদেনের ওপর প্রায় দুই শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ নেয়া হচ্ছে, যা হাজারে প্রায় ২০ টাকা। এটা অনেক বেশি। এই সেবার চার্জ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যে তা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে দেশের ১৭টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। এ সেবা নিয়ে বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘মোবাইল ব্যাংকিং একটি সীমিত ব্যাংকিং সেবা। তবে এখন ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) বেড়ে গেছে। এর মাধ্যমে অনিয়ম বেড়েছে। অনেকে মোবাইলের মাধ্যমে মুক্তিপণ ও জোর করে টাকা আদায় করছে। এসব অনিয়মের কারণে আমরা এ সেবা আরও সীমিত করেছি।’

সম্প্রতি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনিক লেনদেন সীমা কমানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী দৈনিক একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ দুইবারে ১৫ হাজার টাকা নগদ জমা এবং ১০ হাজার টাকা নগদ উত্তোলন করতে পারবেন।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইড লাইনে কোথাও সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। গাইড লাইনে ৭-এর ৪ নাম্বারে বলা আছে, সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক। বর্তমানে সার্ভিস চার্জ সব ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের একই, অর্থাৎ ১.৮৫ ভাগ যা ১০০ টাকায় এক দশমিক ৮৫ টাকা, বা ১০ হাজার টাকায় ১৮৫ টাকা। আবার রিটেইলাররা এর থেকেও অতিরিক্ত দুই ভাগ আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২.৫০ ভাগ বেশি নিচ্ছে। যে হারে সার্ভিস চার্জ আদায়ের নামে অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে জাতিকে ভোগাবে ও প্রান্তিক অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেবে।’

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top