শিরোনাম

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - দেশের সবচেয়ে বড় গেমিং প্লাটফর্ম ‘মাইপ্লে’ চালু করলো রবি | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - রাজধানীতে টেকনোর আরও নতুন দুইটি ব্র্যান্ড শপের শুভ উদ্বোধন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীতে ল্যাপটপ মেলা | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - জরুরি সেবা ৯৯৯ এর উদ্বোধন করলেন জয় | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - নতুন অ্যাপ ‘ফাইলস গো’ চালু করেছে গুগল | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বাজারে এলো শাওমির নতুন দুই ফোন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বিশ্ব বিখ্যাত পাঁচ রাঁধুনি রোবট | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - সনি’র দুর্দান্ত এক আপকামিং ফোনের তথ্য ফাঁস | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - বিসিএস এর ২৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত |
প্রথম পাতা / স্থানীয় খবর / টানা অবরোধে স্থবির প্রযুক্তি পণ্যের বাজার
টানা অবরোধে স্থবির প্রযুক্তি পণ্যের বাজার

টানা অবরোধে স্থবির প্রযুক্তি পণ্যের বাজার

টানা হরতাল-অবরোধে থমকে গেছে দেশের প্রযুক্তি পণ্যের বাজার। বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারক থেকে খুচরা ব্যবসায়ীসহ এ খাতে সংশ্লিষ্ট ৪০ হাজার পরিবার। প্রযুক্তি ব্যবসায় জড়িত পাঁচ সহস্রাধিক ব্যবসায়ী আগামী দিনের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। লিখেছেন ইমদাদুল হক
আগে যখন দিনে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করতাম, এখন তা ১০ থেকে ২০ হাজার টাকায় এসে ঠেকেছে। হরতাল-অবরোধের পাল্লায় পড়ে আমাদের মতো মধ্যম সারির আমদানিকারক এবং ব্যবসায়ীরা চরম সংকটে আছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কর্মচারীদের বেতন দেওয়া সম্ভব হবে না। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে অনেকেই বাধ্য হবে_ বলছিলেন সোর্স এজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত ঘোষ। সুব্রত ঘোষের হাহাকার যেন পুরো প্রযুক্তি পণ্য ব্যবসায়ীদের প্রতিধ্বনি হয়ে উঠেছে।
দেশের সবচেয়ে বড় কম্পিউটার বাজার রাজধানীর বিসিএস কম্পিউটার সিটি, এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্লান সেন্টার, আল্পনা প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাসের মতো পাইকারি বাজার হরতাল-অবরোধে অনিয়মিতভাবে খোলা থাকছে। ক্রেতাশূন্য বাজারে বিক্রি নেই বললেই চলে। আর রাজধানীর বাইরের কম্পিউটার দোকান অধিকাংশ দিনই বন্ধ থাকছে।

BCSCITY
ক্রেতা না থাকায় প্রযুক্তি ব্যবসা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন অনেক ব্যবসায়ী। সময়মতো ব্যাংকের দেনা পরিশোধ করতে না পারা এবং নতুন প্রান্তিকে প্রিন্সিপাল কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে পণ্যের অর্ডারের চাপ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন আমদানিকারকরা। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোও এলসি খোলার ঝুঁকি এড়িয়ে চলছে। সব মিলিয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে প্রবৃদ্ধির হারে এগিয়ে থাকা দেশের বিকাশমান প্রযুক্তি খাত। ঢাকার প্রযুক্তি বাজারগুলো ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের শুরু থেকেই প্রযুক্তিবাজারে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। গত তিন মাসে এ পরিস্থিতি ভয়ানক রূপ ধারণ করেছে। আমদানি-নির্ভর ব্যবসায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিক্রি কমেছে ৫৩ শতাংশের ওপর। এর মধ্যে গত তিন মাসে ব্যবসায় পতন ঘটেছে ৭৫ ভাগের মতো। এ সময়ে ২০ হাজার কোটি টাকার এই বাজার নেমে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকায়। পণ্য আমদানি নেমে এসেছে ৫০ শতাংশের বেশি। পোর্টে পণ্য আটকে থাকায় আর্থিক লোকসানের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে পণ্য সংকট। এই ফাঁকে কোনো কোনো পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা বিভিন্ন পণ্যে বাড়তি দাম রাখছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। অভিযোগ মিলেছে মনিটর, হার্ডডিস্ক, মাদারবোর্ড তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গিগাবাইট এবং আসুসের মাদারবোর্ডে গত সপ্তাহের তুলনায় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা দাম বেড়েছে। কোথাও কোথাও হার্ডডিস্কের দামও আগের চেয়ে বেশি। এক টেরাবাইটের বহনযোগ্য হার্ডডিস্ক আগের তুলনায় ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কম্পিউটারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের মধ্যে খুচরা পর্যায়ে পেনড্রাইভ, মাউস, কিবোর্ডের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। তবে ল্যাপটপ বা র‌্যামের দাম সপ্তাহ ব্যবধানে অপরিবর্তিত আছে।
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসা খাতের সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোস্তাফা জব্বার জানান, ‘আমাদের প্রযুক্তিবাজার পুরোটাই আমদানি-নির্ভর। গত চার মাসে ৭০ শতাংশ আমদানি কমেছে। হরতাল-অবরোধের কোপানলে পড়ে দৈনিক বিক্রিও কমেছে ৮০ শতাংশের ওপর। এখানে একরকম স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে।’ তিন বলেন, ‘আমরা এতদিনে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যে উন্নতির একটি পথ তৈরি করেছিলাম, যে লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছিলাম, এ অবস্থা চলতে থাকলে তা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। দেশে প্রযুক্তি পণ্যের অন্যতম শীর্ষ আমদানিকারক কম্পিউটার সোর্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএইচএম মাহফুজল আরিফ জানান, বিক্রি নাই। আমদানি করা পণ্য বন্দরে আটকে আছে। নানামুখী ব্যবসায় প্রণোদনা দিয়ে বকেয়া আদায়ের চেষ্টা করেও কূল-কিনারা পাচ্ছেন না। চেক বাউন্স এখন নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রিন্সিপাল কোম্পানি এবং ব্যাংক উভয়েরই চাপে আছেন তারা।
কম্পিউটার সোর্সের পরিচালক এইউ খান জুয়েল বললেন, গত ছয় মাসে আমরা ৬০ কোটি টাকার মতো ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছি। চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে আছে প্রায় ৫০ কোটি টাকার পণ্য। ব্যবসায় দেনা ৩০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সব মিলিয়ে রুদ্ধশ্বাস সময় পার করছি।
প্রযুক্তি পণ্যের অন্যতম আমদানিকারক স্মার্ট টেকনোলজি বিডির প্রধান নির্বাহী মোহাম্মাদ জহিরুল ইসলাম বলেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আমাদের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বিক্রি কমেছে। ওভার ডিউ ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে তিন গুণ। ৫ থেকে ৭ গুণ বেড়েছে পোর্ট ডেমারেজ। এখন সময়মতো কর্মচারীদের বেতন দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রিন্সিপ্যাল কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে পণ্য আমদানির চাপ, ব্যাংকে টাকা পরিশোধের তাড়া তো আছেই। অথচ বেচাকেনা যেমন কমেছে, তেমনি পাওনা টাকাও সময়মতো মিলছে না। তাই চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সমাধান না হলে এ ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়বে।

আরেক আমদানিকারক গ্গ্নোবাল ব্র্যান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আনোয়ার বলেন, আমরা যারা আমদানি করি, তাদের প্রত্যেকেরই লেটার অব ক্রেডিট [এলসি] করা থাকে, যার কারণে পণ্যের ঘাটতি নেই। তবে আমরা ক্রেতাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আমদানি করে থাকি। এমন পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিবাজারে বেচাকেনা কম থাকায় আমাদের পণ্যগুলো মজুদ অবস্থায় পড়ে আছে। আমদানিকারকদের প্রত্যেকেরই ব্যাংক থেকে ২০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া আছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের দেউলিয়া হয়ে যেতে হবে। ঢাকার বাইরে এই হার ৮০ শতাংশের মধ্যে। রায়ানস আইটি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ হাসান জুয়েল বলেন, অব্যাহতভাবে হরতাল-অবরোধের কারণে আমরা ব্যবসায়ের কৌশল পরিবর্তন করেছি। অনলাইন এবং টেলিফোনে বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছি। এখন ঢাকায় শপগুলো নিয়মিত খোলা রাখছি। ফলে নভেম্বরের তুলনায় চলতি মাসে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। এ অবস্থায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বেচাকেনা হচ্ছে। তবে ঢাকার বাইরে ব্যবসা বন্ধ আছে বললেই চলে। আল্পনা প্লাজার শরীফ অ্যান্ড সন্স কম্পিউটার সিস্টেমের স্বত্বাধিকারী শরীফ রাফসানজানি বলেন, প্রতিদিন যেখানে এক থেকে দেড় লাখ টাকা বিক্রি করতাম, এখন তা হাজারে নেমে গেছে। ডিসেম্বর ক্লোজিং, কিন্তু বেচাকেনা নেই। হাতে নগদ অর্থের অভাব। আবার দীর্ঘদিন পণ্য আটকে থাকায় ওয়ারেন্টি সময় নিয়েও দেখা দিচ্ছে জটিলতা। বেসিস সভাপতি এবং দেশের শীর্ষ ই-কমার্স প্লাটফর্ম এখনই ডট কমের প্রধান নির্বাহী শামীম আহসান জানান, অবরোধের কারণে অনলাইনে পণ্যের বাড়তি চাহিদা তৈরি হলেও পরিবহন সমস্যায় পণ্য ক্রেতার কাছে সময়মতো পৌঁছানো যাচ্ছে না। এতে ই-কমার্স সংশ্লিষ্টরাও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। পাশাপাশি সফটওয়্যারের বিক্রিও কমেছে। দেশের বাইরে থেকে সফটওয়্যারের ক্লায়েন্ট আসার কথা থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতায় তারা সফর স্থগিত করেছেন। এটি আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প সম্পর্কে সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি যত দ্রুত স্বাভাবিক হয়, সমগ্র অর্থনৈতিক সেক্টর তথা গোটা দেশের জন্য তত মঙ্গল।

 

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top