শিরোনাম

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - প্রতিশ্রুতিশীল প্রযুক্তি বিষয়ক স্টার্টআপের খোঁজে সিডস্টারস ওয়ার্ল্ড | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - ফেইসবুকে কাউকে বন্ধু করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - ম্যার্শম্যালো এখনো শীর্ষে | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - দীর্ঘক্ষণ ব্যাটারি ব্যাকআপ দেবে ওয়ালটনের নতুন ফোন | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - হ্যাকারের হানায় ঝুঁকিতে সিক্লিনার ব্যবহারকারীদের ডিভাইস | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল রিয়ালিটি শো “বাংলালিংক নেক্সট টিউবার” | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - ড্যফোডিল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের বৃত্তিপ্রাপ্তদের সংবর্ধনা | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - এইচপি’র মাল্টিফাংশন কপিয়ার বাজারে | সোমবার, সেপ্টেম্বর 18, 2017 - টিভি বাংলাদেশ নিয়ে এসেছে সনির আকর্ষণীয় সব নতুন মডেলের টেলিভিশন | সোমবার, সেপ্টেম্বর 18, 2017 - স্মার্টফোনের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে যেসব গ্যাজেট |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / ট্যাক্সি ক্যাব নিয়ে শুভ’র নতুন উদ্যোগ চলো
ট্যাক্সি ক্যাব নিয়ে শুভ’র নতুন উদ্যোগ চলো

ট্যাক্সি ক্যাব নিয়ে শুভ’র নতুন উদ্যোগ চলো

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে ট্যাক্সি সেবাকে ঘিরে গড়ে উঠছে বিভিন্ন স্টার্টআপ। এসব স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত ট্যাক্সি সেবা আরও সহজ করতে কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে এগিয়ে আছে উবার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপ এবং সম্প্রতি ভারতেও প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম বিস্তৃত করতে শুরু করেছে। লিখেছেন শাহাদাত হোসেন
ট্যাক্সি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের দিক থেকে এশিয়াও পিছিয়ে নেই। এই অঞ্চলে এখন বেশ কয়েকটি ট্যাক্সি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত সব থেকে এগিয়ে আছে দুই হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েটের ‘গ্র্যাবট্যাক্সি’ যার বাজারমূল্য বর্তমানে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি। বর্তমানে এর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করছেন প্রায় ৩৮ লাখ মানুষ। চীনেও বেশ এগিয়েছে এই খাত। দেশটিতে এই ব্যবসায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছেন বিনিয়োগকারীরা। উবারও জোরদার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চীনের বাজার দখল করতে যদিও সেখানে এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছে সেদেশের প্রতিষ্ঠান ডিডি কুয়াইডি। ভারতের অবস্থাও প্রায় একইরকম। দেশটিতে রয়েছে ওলা এবং ট্যাক্সি ফর শিওর নামের দুইটি স্টার্টআপ। তবে উবারও এখানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু যেখানে একজন যাত্রী সরাসরি ট্যাক্সির ব্যবস্থা করতে পারছেন, সেখানে এই ‘অনলাইন টু অফলাইন’ সিস্টেম ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ছে কেন? এর সহজ উত্তর হলো—এশিয়ার অনেক অঞ্চলেই ট্যাক্সি সেবার মান ততটা উন্নত নয়। সেইসাথে আছে খরচের তারতম্যও। আর ট্যাক্সি চালকের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন থেকেই যায়। তবে ট্যাক্সি অ্যাগ্রিগেটর প্রতিষ্ঠানগুলো ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে এই সমস্যাগুলোর সমাধান দেওয়ার মাধ্যমে ট্যাক্সি সেবা দিতে কাজ করে যাচ্ছে।
shuvo-chalo
বাংলাদেশেও সম্প্রতি এমনই ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেছে ‘চলো’ নামের একটি স্টার্টআপ। এর প্রতিষ্ঠাতা দেওয়ান শুভ বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই আছেন তথ্যপ্রযুক্তির পীঠস্থান সিলিকন ভ্যালিতে। তিনি বলেন, ‘আমার অফিসের কাছেই উবারের অফিস। তারা ৬০ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। আর বর্তমানে এই সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি।’ মূলত উবারের কার্যক্রম দেখেই নিজ দেশে এমন একটি উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ওয়েবভিত্তিক ব্যবসায় তার রয়েছে এক দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা। তিনি আরও জানান, উচ্চশিক্ষার জন্য কয়েক বছর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে তার স্নাতকোত্তর শেষ করে সিলিকন ভ্যালির একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন। একটি স্টার্টআপ কীভাবে পরিচালনা করতে হয়, সে সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনই ছিল এই চাকরির লক্ষ্য। তিনি বিশ্বাস করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে উদ্যোক্তাদের জন্য অনেক সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি জানান, রাজধানীতে বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি মানুষ বাস করলেও এখানে ট্যাক্সি পাওয়া খুবই দুরূহ এবং ঝামেলার ব্যাপার। আর পুরো ব্যাপারটিকেই আরও সহজ এবং ঝামেলাবিহীন করাই তার লক্ষ্য। আর এজন্য তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী জনগোষ্ঠীকে। তিনি জানান, বর্তমানে কেবল ঢাকাতেই আছেন প্রায় ২ লাখ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী যা সামনের দিকে আরও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
ট্যাক্সি সরবরাহ করার ক্ষেত্রেও দেওয়ান শুভ কিছুটা অভিনব উপায় অবলম্বন করছেন। ব্যক্তি পর্যায়ের গাড়ির মালিকদের পরিবর্তে তিনি বেছে নিয়েছেন রেন্ট-এ-কার ইন্ডাস্ট্রিকে। ইউরোপ বা আমেরিকায় রেন্ট-এ-কার থেকে নেওয়া গাড়ি নিজে চালালেও এখানে সেরকম না। রেন্ট-এ-কার থেকে নেওয়া গাড়ি চালানোর জন্য চালকও সাথে দেওয়া হয়। আর বিভিন্ন সময় দেখা যায় রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ীদের অনেক গাড়ি অলস পড়ে আছে, সেইসাথে গাড়ির চালকও। এ ধরনের গাড়ি এবং সেগুলোর চালককে স্বল্প দূরত্বের জন্য ব্যবহার করে চলো।
দেওয়ান শুভ বলেন, ‘এক্ষেত্রে কয়েকটি সুবিধা আছে। প্রথমত, তারা যেহেতু একই প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছে, তারা অভিজ্ঞ এবং পেশাগত। স্থানীয় রাস্তাঘাট এবং সেখনাকার বিভিন্ন সংক্ষিপ্ত পথের খবরও তাদের ভালোই জানা থাকে যা ঢাকার মতো ট্রাফিক জ্যামের শহরে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া এখানে আরও একটি বড় সুবিধা হলো ভাড়া আগে থেকেই নির্ধারণ করা থাকে। ট্যাক্সি সেবায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। প্রায়ই এই বিষয়টি নিয়ে যাত্রীর সাথে চালকের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে থাকে। কিন্তু আগে থেকে নির্ধারণ করা থাকায় এখানে দর কষাকষির ঝামেলা থাকে না।’
নিরাপত্তার দিক থেকেও চলো বেশ কঠোর নিয়ম মেনে চলে। এখানে যাত্রী এবং চালক, উভয়ের নিরাপত্তাকেই খুবই গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। একজন চালককে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পূর্বেই তার সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ-খবর নিয়ে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়। এ ছাড়া যাত্রী বহন করার সময় সবগুলো গাড়িই জিপিএস মনিটরিং সিস্টেমের আওতায় থাকে। ফলে একজন যাত্রীও নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করতে পারেন। এই বিষয়ে দেওয়ান শুভ বলেন, ‘আমরা প্রতিযোগিতার ব্যাপারে চিন্তিত নই।
গ্রাহকদের সন্তুষ্টির মাধ্যমে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এর মধ্যেই চলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। উন্নত গ্রাহকসেবার কারণে ধীরে ধীরে যাত্রীদের মধ্যেও বাড়ছে চাহিদা।’ বর্তমানে রেন্ট-এ-কার প্রতিষ্ঠানসমূহ চলোর সাথে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছে। ফলে চলোর সম্ভারে থাকা গাড়ির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।এতে করে গ্রাহকদের জন্য সবসময়ই গাড়ি পাওয়া সহজ হবে বলে মনে করেন শুভ।
বর্তমানে অন-ডিমান্ড সার্ভিসের ক্ষেত্রে গাড়ি পৌঁছাতে ১০ মিনিট সময় নিয়ে থাকে চলো। চলোর মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করেই দেখে নেওয়া যাবে গাড়ির অবস্থান। আর সে হিসেবে গাড়ির জন্য অনলাইনেই ফরমায়েশ দেওয়া যাবে। তবে চাইলে আগে থেকেও বুকিং দিয়ে রাখা যাবে। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই চালক গাড়ি নিয়ে যাত্রীর কাছে হাজির হয়ে যাবে। সম্প্রতি চলো চালু করেছে ‘এয়ারপোর্ট পিকআপ’ নামের আরেকটি সেবা। এই সেবাটি পেতে কেবল ফ্লাইটের তথ্য চলোর কাছে পাঠিয়ে দিলেই হবে। সময়মতো গাড়ি হাজির হয়ে যাবে এয়ারপোর্টে।
চলোতে বিনিয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান দেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল। প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি এখানে বিনিয়োগ করেছে (সিড ক্যাপিটাল) ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।
সিরিজ এ রাউন্ডে ফেনক্স অংশগ্রহণ করতে পারে বলেও জানিয়েছেন শুভ। বর্তমানে চলোর সেবা কেবল ঢাকা এবং আশেপাশের কয়েকটি জেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে খুব শীঘ্রই চট্টগ্রামে এই সেবাটি চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন দেওয়ান শুভ। এর পাশাপাশি বাইক সার্ভিস এবং কুরিয়ার সেবাও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top