শিরোনাম

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বাজারে এলো শাওমির নতুন দুই ফোন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বিশ্ব বিখ্যাত পাঁচ রাঁধুনি রোবট | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - সনি’র দুর্দান্ত এক আপকামিং ফোনের তথ্য ফাঁস | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - বিসিএস এর ২৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - ‘জিপি লাউঞ্জ’ উদ্বোধন করল গ্রামীণফোন | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - ল্যাপটপ মেলায় আই লাইফের ফ্রী গিফট! | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - শপ আপের নতুন অ্যাড প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - গ্লোবাল ব্র্যান্ড নিয়ে এলো এস সিরিজের নতুন অষ্টম প্রজন্মের নোটবুক | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - অ্যান্ড্রয়েডে আসছে আইফোনের জনপ্রিয় গেম | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - জিপি ওয়াওবক্স ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা আনল পাঠাও |
প্রথম পাতা / সাম্প্রতিক খবর / ফিচার পোস্ট / ডিজিটাল সরকারের শেষ বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের প্রত্যাশা

ডিজিটাল সরকারের শেষ বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের প্রত্যাশা

আমাদের জাতীয় বাজেটে জাতীয় আইসিটি নীতিমালার প্রতিফলন থাকবে এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু এ পর্যন্ত যে কয়টি জাতীয় বাজেট আমরা পেয়েছি, এর প্রতিটিতেই আমাদের জাতীয় আইসিটি নীতিমালা উপেক্ষিত হয়েছে। এমন ধারাবিহকতার মধ্য দিয়ে আগামী ১ জুলাই শুরু হবে নতুন অর্থবছর ২০১৩-১৪। আসছে ৬ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন আহবান করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের সূত্রমতে, বর্তমান সরকারের শেষ বাজেটের আকার হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) হবে ৬৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার। আর সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হবে ৫৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ শতাংশ।  জাতীয় বাজেটের সাথে আমরা পাব নতুন অর্থবছরের আইসিটি বাজেট। নিশ্চয়ই আইসিটি খাতের সংশ্লিষ্টজনেরা গত বছরের তুলনায় এবার প্রত্যাশা করছেন আরো অধিকতর অনুকূল একটি আইসিটি বাজেট। তথ্যপ্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাজেটে যেন জাতীয় আইসিটি নীতিমালায় উল্লেখিত এডিপির ৫ শতাংশ ও রাজস্ব বাজেটের ২ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়। চলতি অর্থবছরের বাজেটের মতো এবারও যেন তাদের হতাশ হতে না হয়।

বর্তমান সরকারের শেষ বাজেটে প্রত্যাশা এবং বিগত চারটি বাজেটে আইসিটি খাতের অবস্থান মূল্যায়ন নিয়ে কথা হয় দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং সংগঠনের প্রধানদের সাথে। আলাপকালে তাদের অধিকাংশই বর্তমান সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা অনেক কিন্তু বিগত সময়ে প্রত্যাশার তুলনায় প্রাপ্তিতে তৃপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন।

ফাহিম মাশরুর

আইসিটি খাতের বাজেট ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর সভাপতি ফাহিম মাশরুর বললেন, বর্তমান সরকার ডিজিটাল দেশ গঠনের অঙ্গিকার নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সেই জন্য এই সরকারের কাছে আমাদের দাবিও ছিলো অনেক বেশী। এই সরকারের আমলে বিগত ৪টি বাজেটের আইসিটি খাতে আমাদের খুব বেশী ভালো কিছু পাইনি।

আসছে অর্থবছরের বাজেটের প্রত্যাশা জানতে চাইলে ফাহিম মাশরুর বলেন, প্রথমেই চাইবো আমাদের আইসিটি পলিসি-২০০৯ অনুযায়ী প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের ৫% আইসিটি উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা হোক। আর বাজেটে আমাদের প্রধান দাবি হচ্ছে, আমাদের আইসিটি উন্নয়ন কতৃপক্ষ তৈরি করা।এটা দীর্ঘদিনের দাবি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমেদরে সেই দাবি পূরণ হয়নি। আইসিটি প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নয়নের জন্য ৭০০ কোটি টাকার একটি তহবিল ছিলো। সেটাও তৈরি করা হয়নি। আইসিটি পলিসিতে তহবিলের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। আমরা চাই এই তহবিলটা গঠন করা হোক। সরকার যদি সম্পূর্ণ টাকা মানে ৭০০ কোটি টাকা নাও দিতে পারে, প্রাথমিকভাবে এর শতকরা ১০ ভাগ মানে ৭০ কোটি টাকা দিয়ে কাজ শুরু করা যেতে পারে। এটা বাজেটে আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া। এছাড়া দেশে অনলাইন ব্যবসা বা ই-কমার্স বাড়াতে আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য ই-কমার্সের সব লেনদেনে মূসক প্রত্যাহার জরুরি। এবারের বাজেটে সফটওয়্যার ও আইটি সার্ভিস খাতে যে সাড়ে চার ভাগ ভ্যাট আছে, ইন্টারনেট ব্যবহারে যে ১৫% ভ্যাট আছে, তা প্রত্যাহার করার আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে বলে আশা করছি। পাশাপাশি যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরকারকে বছরে ৫০ লাখ টাকা কিংবা তার বেশি ভ্যাট দিয়ে থাকে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে অবিলম্বে ভ্যাট ব্যবস্থাপনা অটোমেশনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

মোস্তাফা জব্বার

সরকারের গত চার বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অবস্থান মূল্যায়ণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বেশ কিছু অগ্রগতি আছে, তবে যতটা আশা করেছি ততটা হয় নাই। আইসিটি ক্ষেত্রে সরকারের যে পরিমান বিনিয়োগ করা দরকার, বিশেষ করে অবকাঠামোতে সেটা তারা করে নাই। আমি উদাহরণ দিয়ে বলতে পারি, আমাদের হাইটেক পার্কের কাজ এখন ভালো ভাবে শুরু হয় নাই। জনতা টাওয়ারের কাজ এখনও শুরু হয় নাই। অবকাঠামো ক্ষেত্রে আমাদের আরো ভালো ভাবে কাজ করা উচিত। সরকারের চার বছরের অবশ্যই কিছু সাফল্য আছে। সবচেয়ে বড় সাফল্যটা হলো তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সরকার যে পরিমাণ হার্ডওয়্যার ক্রয় করেছে, সে পরিমাণ সফটওয়্যার ক্রয় করে নাই। সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয় অনেক টাকা দিয়ে হার্ডওয়্যার ক্রয় করছে। সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন ক্রয়ে তাদের অনীহা। আমাদের সরকার বা মন্ত্রণালয় মনে করে শুধু হার্ডওয়্যার বা কম্পিউটার ক্রয় করলেই দেশ ডিজিটাল হয়ে যাবে। আমরা মনে করি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে অ্যাপ্লিকেশন অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাজেট প্রত্যাশা নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাজেটের প্রতিটি খাত তথ্য-প্রযুক্তির আওতায় আনতে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হবে আশা করি। বিশেষ করে ডিজিটাল প্রযুক্তির জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, সার্বজনীন সংযুক্তির নিশ্চয়তা প্রদান, ডিজিটাল যুগের উপযোগী মানব সম্পদ উন্নয়ন, ডিজিটাল সরকার প্রতিষ্ঠা, জনগনের জন্য প্রদত্ত সেবাকে ডিজিটাল করা ও ডিজিটাল জীবনধারা গড়ে তোলার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া হবে বলে প্রত্যাশা করি।

কিন্তু বিগত ৪ বছর ধরে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলছে। ফলে তার কাছে এই সেক্টর অবশ্যই গুরুত্ব পাবার কথা। কিন্তু এই মন্ত্রণালয়ের বর্তমান কাজের ধারায় আমি বাজেটে এর গুরুত্ব থাকবে বলে আশাবাদী হতে পারছিনা। মূলত একটি সমন্বয়হীন, থোক ও অস্থায়ি কর্মপন্থায় এই মন্ত্রণালয় চলছে। একে পরিকল্পিত পথে চালাতে হলে যথাযথ প্রকল্প প্রস্তাব থাকতে হবে। আমরা তেমন উদ্যোগ লক্ষ্য করছিনা।

ইন্টারনেটের ভ্যাট ডিজিটাল দেশের বড় বাধা উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, অর্থমন্ত্রী ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের বিষয়ে একমত হয়েছেন। সংসদীয় কমিটিসহ সবাই এই সুপারিশকে সমর্থন করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর থেকে শতকরা ১৫ ভাগ থেকে ১ শতাংশও ভ্যাট কমেনি, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা। তাই মুখ রক্ষা করার জন্য হলেও এবার ইন্টারনেটের ওপর অর্পিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা উচিত। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার লক্ষ্যে সরকারের যে উদ্যোগ ডিজিটাল ক্লাসরুমের জন্য যেসব সরঞ্জাম লাগবে তার ওপর ধার্য করা ভ্যাট প্রত্যাহার না করলে এর কাজের অগ্রগতি হবে না বলে আমি মনে করি।

আখতারুজ্জামান মঞ্জু

বিগত চার বছরের বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকারের দক্ষতা ও আন্তরিকতা মূল্যায়ণ করতে গিয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, সরকার বেশ কিছু কাজ করেছে। আমি এর গতি আরও বেশি হতে পারতো বলে মনে করি। কিন্তু মূলত সমন্বয়ের অভাব ও মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বের অভাবে আমরা সেই গতি অর্জন করতে পারিনি।

আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(আইএসপিএবি) সভাপতি  আখতারুজ্জামান মঞ্জু বলেন, দু:খজনক হলেও আজও আইসিটি পলিসি- ২০০৯ অনুযায়ী আমরা একটি কাঙ্ক্ষিত বাজেট পাইনি। ইন্টারনেট এর ব্যবহার বাড়ানো সাথে জড়িত নানা বিষয় বাজেটে এখনও ততটা গুরুত্বা পাচ্ছে না। কিন্তু তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ইন্টারনেটের প্রসারে বড় বাধা হচ্ছে এর ওপর অর্পিত শুল্ক। ফাইবার অপটিক কেবলের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার জরুরি। তা না হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ এটি। উপজেলাগুলোতে ইন্টারনেট প্রসারে ফাইবার অপটিক কেবলের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার জরুরি। আইপি ফোনসেটের ওপর ৬৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এ সময় বিষয়টা গ্রহণযোগ্য নয়।  আমরা আশা করছি, এবারের শেষ বাজেটে এসব সমস্যার সমাধান হবে। আমরা ক্যাশ টাকা চাই না, শুধু ইন্টারনেট সামগ্রীর ওপর ধার্য করা ভ্যাট প্রত্যাহার করলে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে ত্বরিতগতিতে এগোতে পারব। শহর ছেড়ে গ্রামেও শহরের মতো ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারব।

মোঃ মঈনুল ইসলাম

বাজেট প্রত্যাশা নিয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি সাবেক সভাপতি মোঃ মঈনুল ইসলাম বলেন, আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এ বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অর্থ্যাৎ বাজেটের প্রতিটি টাকার সুনিশ্চিত ব্যবহারের মাধ্যমে একে সফল করে তুলতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় আইসিটি শিল্পের উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় লোডশেডিং একটি নিত্যদিনের ব্যাপার। এ পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হবে এমনটা আশা করা যায় না। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ইউপিএস অথবা আইপিএস অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। উদাহরণস্বরূপ মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর এবং ল্যাপটপের সাহায্যে ডিজিটাল ক্লাসরুমে শিক্ষা দেওয়ার সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলে ল্যাপটপ চললেও প্রজেক্টর চলবে না ইউপিএস অথবা আইপিএস ছাড়া। অন্যদিকে, বর্তমানে দেশে ২ কেভিএ বা এর চেয়ে কম ক্ষমতাসম্পন্ন ইউপিএস উৎপাদনের হার খুবই নগণ্য। বলা যায়, প্রায় শতভাগ চাহিদা আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এমতাবস্থায় ২ কেভিএ বা তার চেয়ে কম ক্ষমতাসম্পন্ন ইউপিএস/আইপিএসগুলোকে এর চেয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইউপিএস/আইপিএসগুলোর মতো শুল্কমুক্ত করত একই শ্রেণীভুক্ত পণ্যের জন্য দ্বৈতনীতির অবসান হওয়া বাঞ্ছনীয়। উল্লেখ্য, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত জেনারেটরের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো শ্রেণীবিন্যাস নেই এবং এ পণ্যটি শুল্কমুক্ত। অথচ ইউপিএস অথবা আইপিএস পরিবেশবান্ধব।

তিনি আরও বলেন, মাইক্রোফোন, হেড ফোন, সিঙ্গেল লাউড স্পিকার- টেলিমেডিসিন, দূরশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়, যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এসব উপাদানের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা উচিত।

মুনির হাসান

মোঃ মঈনুল ইসলাম বলেন, ওয়েব ক্যাম আর কোনো বিলাসবহুল সামগ্রী নয়। এটি এখন একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য যন্ত্র। তাই এর ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা উচিত। তাছাড়া যেহেতু কুলিং ফ্যান ছাড়া একটি সিপিইউর কোনো কার্যকারিতা থাকে না, সেহেতু সিপিইউ কুলিং ফ্যান, ল্যাপটপ কুলার ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা উচিত। ল্যান ক্যাবল/ নেটওয়ার্ক ক্যাবল একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই এসব পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা এখন সময়ের দাবি। কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ফাইবার অপটিক থেকে ক্যাট-৫ ও ক্যাট-৬-এ রূপান্তরের নিমিত্তে ব্যবহৃত মিডিয়া কনভার্টার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতএব মিডিয়া কনভার্টারের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার না করলে ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি দাবি জানান, এসএফপি মডিউল, টার্মিনাল কানেক্টর কিট, কম্পিউটার ল্যান ইকুইপমেন্ট, মডেম, ইন্টারফেস কার্ড, সুইচ, হাব, রাউটার, এটিএ, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল, ইউটিপি ও কানেক্টরথ এসব পণ্য কম্পিউটার নেটওয়ার্কিংয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার, ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর ভ্যাট সর্বস্তরে প্রত্যাহার এবং ইন্টারনেটের মূল্য কমানো হোক। এতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, যা মূলত সামগ্রিক অর্থে দেশে কম্পিউটার ব্যবহার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের বিকাশ লাভ ও উন্নয়নে সহায়ক হবে।

বাজেট ভাবনা নিয়ে বালাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান বলেন, আইসিটি আসলে একটি ক্রসকাটিং ইস্যু। গত কয়েক বছর ধরে অন্যান্য সেক্টরের সঙ্গে আইসিটির মিথস্ক্রিয়াটা এক ধরণের একীভূত হয়েছে। এখন প্রায় সব ধরণের উন্নয়ন প্রকল্পে আইসিটির একটা ভূমিকা থাকে। কাজে, সেইভাবে আলাদা করে আইসিটি খাতে অর্থ বরাদ্দের একটা নির্দেশনা নাও পাওয়া যেতে পারে। তবে, আইসিটি কম্পোনেন্টগুলোকে আলাদা করতে পারলে দেখা যাবে আগের বছরের থেকে এখানে উপদান বেশিই হবে।

তিনি বলেন, যেহেতু এখনো আমাদের দেশে ফাউন্ডেশনের অনেক কাজ বাকী কাজে আলাদা একটা দৃষ্টি আমরা চাইবো। যেমন আবকাঠামো। ব্রডব্যান্ডের কথা যদি আমরা ধরি তাহলে ঢাকাকে বাদ দিলে বাংলাদেশ আসলে একটি গ্রাম। নানান কারণে গ্রামে ব্রডব্যান্ডের বিকাশ হচ্ছে না। আমি চাইবো এবারের বাজেটে ব্রডব্যান্ডের জন্য আলদা কিছু করা হোক। এবারের বাজেটে ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণের জন্য মাত্র ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হোক। এর থেকে মাত্র ৩০ কোটি টাকা খরচ করে দেশের কমপক্ষে ২০০টি স্থানে ৫ মেগাবিটের উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই জোন তৈরি করা যায়। এগুলোতে মাত্র এক থেকে দুই বছরের ব্যান্ডউইডথের খরচ সরকার দেবে। আমরা আনন্দের সঙ্গে মনে রেখেছি যে এই সরকারের আমলে প্রতি মেগাবিট ব্যান্ডউয়িডথের খরচ ৩৮ হাজার টাকা থেকে এখন ৪-৮ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। বিনামূল্যের ওয়াই-ফাই জোনগুলো যে ব্যবহারকারীদের তৈরি করবে তাতে পরবর্তী সময়ে ব্রডব্যান্ড অপারেটররা সেখানে হাজির হবেন। যেহেতু বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্রডব্যান্ড সংযোগের কাজ চলছে কাজে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আলাদা করে কোন উদ্যোগ না নিলোও হবে। তবে দেশের বড় বড় কলেজগুলোতে ব্রডব্যান্ড সংযোগের জন্য আর ২০ কোটি টাকা খরচ করা যেতে পারে। এই টাকাতে ঢাকা, তিতুমির, চট্টগ্রাম, ইডেন, সারদা সুন্দরী, বজ্রমোহন, আনন্দমোহন কলেজের মতো কলেজগুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হবে। আর ৩০ কোটি টাকা বিটিসিএলকে দিয়ে এখনও যে শহরগুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া কঠিন সেখানে সে অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সঠিক নেতৃত্ব ও যথার্থ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই কাজ কয়েক মাস সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ জনগণের একমাত্র ইন্টারনেট সেবা দানকারী মোবাইল কোম্পানিগুলোর ইন্টারনেট সেবার মূল্য অনেক। ২০০৭ সালে এক মেগাবিট ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ-এর দাম ছিল ৩৮ হাজার টাকা। সেই সময় মোবাইল ফোনের একটি জনপ্রিয় ইন্টারনেট সেবার মাসিক খরচ ছিল ভ্যাটসহ ৩৪৫ টাকা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই সময়ে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের দাম অনেক কমে মেগাবিট প্রতি সর্বোচ্চ ৮০০০ টাকা হয়েছে। কিন্তু সেই প্যাকেজের দাম এখনো ৩৪৫ টাকায় আছে। এ ব্যাপারে রেগুলেটরের তেমন কোন ভূমিকা দেখা যায় না। বাজেটে তাই এ কধরণের নির্দেশনা থাকা দরকার।

মুনীর হাসান বলেন, ইন্টারনেট সেবার মূল্য বেশি হওয়ার আর একটি কারণ হল ১৫% ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর। আমরা দেখেছি বিভিন্ন আইএসপি তাদের ব্যবহারকারীদের শেয়ারড একসেস দিয়ে থাকে। অর্থাৎ কোন কোন সময় ১ মেগাবিট ইন্টারনেট সেবা ৪জন ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু এই চারজনকেই ১৫% হারে ভ্যাট দিতে হয় যদিও আইএসপি তার আপস্ট্রিমে ১ মেগাবিটের দাম দিচ্ছে। এক্ষেত্রে ভ্যাটের হার কমিয়ে ৪.৫% করা হলে সেটি হয়তোবা যৌক্তিক একটা দিকে যেতে পারে।

তার মতে, বাজেটে আগামী দিনগুলোর একটি চবি থাকা দরকার। আমাদের একটি বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। আর এই জন্য দরকার কানেকটিভিটি। ঢাকার বাইরের গ্রামগুলোতে দ্রুতগতির ইন্টারনেট নিতে হলে দরকার থ্রি জি সেবা। এই নিয়ে যে পরিমান কথা আর আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে তাতে একটি মহাকাব্য লেখা যায়। কিন্তু আমাদের দরকার কাজ। আশকরি বাজেটে এই ব্যাপারে একটি নির্দেশনা থাকবে।

বর্তমানে টেলিকম অপারেটররা প্রতিদিনই ইউনিভার্সাল অবলিগেটরি ফান্ডে প্রায় এক কোটি টাকা জমা দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই টাকাটা সরাসরি ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে লাগানো দরকার। পর্তুগালের মতো দেশও তাদের ল্যাপটপ কারখানা গড়ে তুলেছে থ্রিজি লইসেন্সের টাকা দিয়ে। আমরাও সেরকম কিছু করতে পারি।

বর্তমান সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শক মুনীর হাসান বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুসারে আগামি ১০ বছরে কেবল চীনে সাড়ে আট কোটি চাকরি উদ্বৃত্ত হয়ে যাবে যা ছড়িয়ে পড়বে আশেপাশের দেশে। বিশ্বব্যাংকের ধারণা তার মধ্যে দেড়কোটি আমরা আমাদের দেশে নিয়ে আসতে পারবো। আর এই কাজগুলোর একটি বড় অংশই থাকবে তথ্যপ্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে। বাজেট এব্যাপারে দিক-নির্দেশণা থাকা উচিত।

তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিগত চারটি বাজেটের মূল্যায়ণ নিয়ে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে আইসিটি খাতে একটি ১০০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়েই তৈরি হয়েছে জাতীয় ডেটা সেন্টার, তিন হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব, সোলারচালিত ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্র, ডিজিটাল স্বাক্ষর ব্যবস্থা। কিন্তু আইসিটি পৃথক মন্ত্রণালয় হওয়ার পর এই বরাদ্দ গত বছর ৫০ কোটি টাকাতে নেমে এসেছে। এটি আবার ১০০ কোটি টাকা করা হোক। সেই সঙ্গে নতুন মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও থাকুক বাজেটে। পাশাপাশি আইসিটি শিল্পের কর অবকাশ সুবিধা আরো ৫ বছরের জন্য বাড়ানোর প্রস্তাব করেন তিনি।

বাজেট নিয়ে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সহ-সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছিল; তাই আমার বিশ্বাস বাজেটে তারা এই ব্যাপারে যথেষ্ট গুরুত্ব দেবে।

এক্ষেত্রে প্রথমেই তথ্যপ্রযক্তি খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন আলমাস কবির। তিনি বলেন, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ছাড়া আইসিটির বিকাশ সম্ভব নয়। সারা বাংলাদেশে এর উপকারিতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এটা অপরিহার্য। অবকাঠামো উন্নয়নের পরেই দক্ষ জনশক্তি তৈরীর দিকে মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। আলমাস কবির বলেন, এরপর আইসিটি কোম্পানীগুলোর কার্যক্রমে যে বিভিন্ন বাধাগুলো রয়েছে সেগুলো দূর করার ব্যবস্থা করা উচিত। এই যেমন- বাংলাদেশ ব্যাংক -এর কিছু নীতিমালার পরিবর্তন, ভ্যাট/ট্যাক্স-এর পরিমার্জন, বি,টি,আর,সি-র কিছু নীতিমালার পরিবর্তন ইত্যাদি। পাশপাশি ই-কমার্স-কে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে কিছু কিছু পদক্ষেপও নেওয়া অতি প্রয়োজনীয়।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইসিটি খাতকে কেন জাতীয় বাজেটে গুরুত্ব দেয়া উচিত জানতে চাইলে আলমাস কবির বলেন, আইসিটি’র বিকাশ ছাড়া একটি দেশের কোনভাবেই উন্নতি সম্ভব নয়। আইসিটি কাজে-কর্মে শুধু গতি এবং দক্ষতাই বাড়ায় না, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতাও আনে। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে যার খুবই প্রয়োজন। এছাড়া, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০,০০০ নতুন যুবক-যুবতী কর্মক্ষম হয়; কিন্তু, আমাদের সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সবাইকে চাকরী দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। তাই, এই জনশক্তিকে উপার্জনশীল করবার জন্য প্রয়োজন তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। আই,সি,টি-তে প্রশিক্ষণ নিয়ে এরা নিজেরাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরীযোগ্য হতে পারে, অথবা নিজেরাই ফ্রিল্যান্সিং-এর মাধ্যমে উপার্জন করতে পারে। ফ্রিল্যান্সিং করে বিদেশ থেকে হাজার হাজার ডলার কামাবার উদাহরণ অনেক রয়েছে।

সরকারের চার বছরের বাজেটে আইসিটি খাতের মূল্যায়ণ নিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। আমাদের জাতীয় আইসিটি পলিসি-তে জনশক্তি বৃদ্ধির জন্য ৭০০ কোটি টাকার বরাদ্দ আছে। কিন্তু, এখন পর্যন্ত কোন বাজেটে এর প্রতিফলন ঘটেনি। প্রতি বছর অন্তত এর ১০% বাজেট বরাদ্দ দিলেও দেশের অনেক উপকার হতো। আগেই বলেছি, ইনফ্রাস্ট্রাকচার বৃদ্ধি ছাড়া এই শিল্পের বিকাশ কখনই সম্ভব নয়। অথচ গত বাজেটে দেখা গেল, এর জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যে ফাইবার-অপ্টিক ক্যাবল, তার ওপর ডিউটি বসানো হলো! নেটওয়ার্কিং-এর জন্য দরকারী অন্যান্য সরঞ্জামের ওপরও ডিউটি বসানো হলো। ইন্টারনেট ও ডাটা পরিসেবার ওপর অযাচিত যে ১৫% ভ্যাট, তা-ও প্রত্যাহার করা হলো না! বাজেট দেখে মনে হয়েছিল, সরকার তাদের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর অঙ্গীকারের কথা বেমালুম ভুলেই গিয়েছিল!

বাজেট বরাদ্দ বা ‘সদিচ্ছা’-ই যথেষ্ট নয়, সঠিক ও দ্রুত বাস্তবায়নেরও প্রয়োজন রয়েছে মন্তব্য করে আলমাস কবির বলেন, সরকারের উচিত জনশক্তি উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দিয়ে অবিলম্বে বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আইসিটি বিষয়ক কোর্স চালু করা।

সরকারের শেষ বছরের বাজেট নিয়ে বেসিসের সাবেক সভাপতি মাহাবুব জামান বলেন, আইসিটি নীতিমালায় আইসিটি শিল্প উন্নয়ন তহবিল হিসেবে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি, এটি দুঃখজনক। তারপরও আমরা এ বছরের বাজেটে কমপক্ষে এর ১০ শতাংশের বরাদ্দ চাই। এছাড়া আইটি পার্ককে কার্যকর করার সুষ্ঠু নীতিমালা এ বছরের বাজেটেই থাকা উচিত। আইটি সেক্টরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ক্যাটাগরি নেই। এখন সরবরাহকারী বা কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করা হয়। অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মতো আইটি খাতেরও নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি দরকার। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি, ইন্টারনেট ব্যবহারে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমানো, তথ্যপ্রযুক্তিতে ব্যবহারিত সব জিনিসের ওপর অর্পিত ভ্যাট মওকুফ করতে হবে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সাবেক সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ খান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে এবারের বাজেট তথ্যপ্রযুক্তিবান্ধব হতে হবে।২২ ইঞ্চি থেকে ২৭ ইঞ্চি মনিটরের ওপর যে ভ্যাট আছে তা প্রত্যাহার করতে হবে। একইভাবে আইটি সেক্টর এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে যতগুলো আইটি প্রোডাক্ট আছে, সব ক’টির শুল্ক মুক্ত করতে হবে। আমি মনে করি, আমাদের কমিউনিকেশন্স বাড়ানোর জন্য শুল্ক মুক্ত করা জরুরি। আইসিটি পলিসিতে যে ৭০০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়ার কথা বিগত বাজেটে বারবার বলার পরও তা দেয়া হয়নি। এবার যেন ৭০০ কোটি টাকার শতকরা ১০ ভাগ বা ৭০ কোটি টাকা এবারের বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয়, সে ব্যাপারে সরকার যেন জোর দেয়।

বাজেট প্রত্যাশা নিয়ে সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ এ্রর সভাপতি তপন কান্তি সরকার বলেন, আমি মনে করি, যেহেতু এই সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ শ্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং এটা সরকারের এই মেয়াদের শেষ বাজেট তাই সরকার এই সেক্টরের উপর যথেষ্ট গুরুত্ব দেবে।

ন্যাশনাল ক্রেডিট এন্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড ব্যাংকের এই চিফ টেকনিক্যাল অফিসার মনে করেন, আইসিটি সেক্টরে ই-গর্ভনেন্স, ই-কমার্স, ই-শিক্ষা, ই-কৃষি, ই-স্বাস্থ্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং মহিলাদের ক্ষমতায়নের উপর গুরুত্ব দেয়া দরকার।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগীতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে আইসিটি এর উপর গুরুত্ব দেওয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই। তাছাড়া সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়ন করতে হলে বাজেটে আইসিটি সেক্টরকে গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক।

বর্তমান সরকারের বিগত চার বছরের বাজেটের মূল্যায়ণ করতে গিয়ে তপন কান্তি সরকার বলেন, আইসিটি খাতে সরকার যে গুরুত্ব দিয়েছে তা প্রতিশ্রুতির তুলনায় বাস্তবায়ন অত্যন্ত শ্লথ। তবে এটাও ঠিক যে, আইসিটি সেক্টরে রাতারাতি কিছু করা সম্ভব নয়। তবে যেটুকু হয়েছে তাতে মোটামুটি সন্তুষ্ট হলেও এই সরকারের কাছে জনগনের প্রত্যাশা অনেক বেশী ছিল। বলতেই হবে, আইসিটি সেক্টরের বরাদ্ধকৃত অর্থ আইসিটি মন্ত্রনালয় যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। এই ক্ষেত্রে আইসিটি মন্ত্রনালয়কে ৫ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়নে আরও বেশী সক্রিয় ও গতিশীল হতে হবে।

সরকারের শেষ বছরের বাজেট ভাবনা নিয়ে ইন্টারনেট সোসাইটি বাংলাদেশ-ঢাকা চ্যাপ্টার সভাপতি ড. সৈয়দ ফয়সাল হাসান বলেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত বর্তমান সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যথেষ্ঠ গুরুত্ব দিয়েছে। সুতরাং আশা করা যায়, আগামী বাজেটেও তারা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। তাছাড়া নির্বাচনের আগে যেহেতু এটা শেষ বাজেট সেহেতু এই বার জনগনের বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। কিন্তু আমার আশংকা রয়েছে পদ্মা সেতুর জন্য বরাদ্দ রাখতে গিয়ে এই সেক্টরটি কিছুটা কম গুরুত্ব পায় কিনা। আমাদের দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি সংস্কৃতিসহ সকল সেক্টরে এখন ইন্টারনেটের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ফয়সাল হাসানের মতে, বাজেটে ব্রডব্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরী করতে এই পর্যপ্তি বরাদ্দ থাকা উচিত।

তিনি বলেন, গত ২০০৯ সালে ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক একটি এস্টিমেট করেছিল যে ১০% ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশন বাড়লে বাংলাদেশের মত একটি দেশের জিডিপি ১.৬৮% বৃদ্ধি পেতে পারে। এখনকার বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্রডব্যান্ড একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং যে দেশটি ব্রডব্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচারে বিনিয়োগ করছে না সে দেশটির অনলাইন অর্থনীতি থেকে ছিটকে বেরিয়ে যাবার আশংকা রয়েছে। লক্ষ্যনীয় যে গত বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ব্রডব্যান্ড কমিশনের (২০১১ সালের পরিসংখান হতে তৈরী করা) একটি রিপোর্টে দেখা যায় বিশ্বের ১৭২টি দেশের মধ্যে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড এর রাঙ্কিং এ বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৯। যদিও এর পর আমাদের দেশের ব্রডব্যান্ড কিছুটা অগ্রগামী হয়েছে, তারপর বলা যায় যে আমাদের এক্ষেত্রে দ্রুত প্রসার ঘটাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা ব্রিজ করতে যে পরিমান বরাদ্দ প্রয়োজন তার ১০% দিয়েও ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ঢেলে সাজানো যায়। কেননা আমাদের দেশে জুড়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক। যেমন পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির রয়েছে প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার এর একটি ন্যাশনাল অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক যার বহুল অংশ বর্তমানে অব্যবহৃত রয়ে গেছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বিশ্বব্যাঙ্ক এর সহযোগিতায় একটি প্রকল্প পরিচালনা করছে যেটি এই পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির অপটিক ফাইবার নেটওয়ার্ক এর একটি অংশ ব্যবহার করে আমাদের সব বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে হাই স্পিড ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক এ কানেক্ট করবে। এই প্রজেক্ট যদি সম্পন্ন করা যায় তাহলে অতি সহজেই বাংলাদেশের সবকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক লক্ষ ছাত্র শিক্ষক ব্রডব্যান্ড সুবিধা পাবে। কিন্তু এই বছরে শেষ নাগাদ চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বব্যাঙ্ক ফান্ড দিবে, তারপর আর দিবে না সুতরাং এর পরও প্রজেক্টটি যাতে চালু থাকে এবং যাতে করে বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে হাই স্পিড ব্রডব্যান্ড ক্যাম্পাস নেটওয়ার্ক তৈরী করা যায় সেজন্য বাজেটে বরাদ্দ থাকলে খুব সহজেই দেশের ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশন বেড়ে যাবে। সাধারণত আইএসপি’রা ডিমান্ড নাই বলে রিমোট এলাকায় ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরী করতে চায় না। সেক্ষেত্রে সরকার যদি এমন ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরী করে যেটা সবাই শেয়ার করতে পারে তাহলে ইন্টারনেটের খরচ বহুলাংশে কমে যাবে। এই সব করার জন্য চাই কার্যকর ব্রডব্যান্ড পলিসি এবং রোডম্যাপ ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, ব্রডব্যান্ড ছাড়াও আর যে দিকে সরকার নজর দিতে পারে সেটা হলো আইসিটি শিক্ষা। আমাদের দেশের বেশিরভাগ কম্পিউটার সাইন্স বিভাগগুলোর সাথে ইন্ডাস্ট্রির রয়েছে বিশাল দুরত্ব। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যুগোপযোগী কম্পিউটার সাইন্স শিখা দিতে পারছে না। তাছাড়া আমাদের রয়েছে তীব্র শিক্ষক সংকট। এই সংকট মোকাবিলায় বাজেটে একটি বরাদ্দ রাখা যায়। কেননা আমরা যদি বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চাই তাহলে মানব সম্পদ উন্নয়নের কোনো বিকল্প নাই। এর আগের বাজেটগুলো যদিও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ হিসেবে বেশ কিছুটা বরাদ্দ ছিল, কিন্তু এই প্রজেক্টগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে খুব কমই হয়েছে।

তিনি বলেন, আর একটি বিষয় না বললেই নয় সেটা হচ্ছে আইপিভি৬। আমরা যদি আমাদের দেশের ইন্টারনেট ইনফ্রাস্ট্রাকচারকে গড়ে তুলতে চাই তাহলে আইপিভি৬ এর ডিপ্লয়মেন্ট যত দ্রুত করা যায় ততই ভালো। আইপিভি৬ এর কারিগরী প্রশিক্ষণ এবং ডিপ্লয়মেন্ট এর জন্য বাজেটে বরাদ্দ থাকলে দ্রুত আমরা এই নতুন টেকনোলজি ব্যবহার করতে পারব যা আমাদের দেশের ইন্টারনেটকে অনেক বেশি যুগোপযোগী করে তুলবে।

ফয়াসাল এর দৃষ্টিতে বাংলাদেশের তরুনদের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে রয়েছে অসীম আগ্রহ এবং পারদর্শিতা। আমাদের উচিত হবে এই তুরুণ প্রজন্মের হাতে আলাউদ্দিনের চেরাগ এর মত ইন্টারনেটের এক্সেস এবং কারিগরী প্রশিক্ষণ দেয়া। বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য জাতিসংঘের মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলগুলোকে বাস্তবায়িত করতে হলে আইসিটির কোনো বিকল্প নাই। কেননা এর মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অর্থনীতির মত মৌলিক খাতগুলোতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন নিয়ে আসতে পারি।

তিনি বলেন, বাজেটে বরাদ্দ থাকলেও আইসিটি শিক্ষা ক্ষেত্রে তেমন কোনো বরাদ্দ ছিল না। তাছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর ভ্যাট আরোপ করাও সরকাররের ডিজিটাল বাংলাদেশ শ্লোগান এর সাথে যায় না। তবে এর পেছনে বাজেটে বরাদ্দ থাকলেও পলিসি সেক্টরে আমাদের ভোক্তা পর্যায়ে   দুর্বলতা রখেছে। যদি পলিসিগুলো বাস্তবধর্মী এবং যুগোপযোগী হয় কেবেল মাত্র তখনই বাজেট বরাদ্দ সফলতা বয়ে আনবে। আগের বাজেটে অনেক বরাদ্দ থাকলেও দেখা গেছে তা ব্যবহারিত হয় নি।

বাজেট প্রত্যাশা নিয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. সৈয়দ আকতার হোসেন বলেন, গত কয়েকবছর ধরে, সংসদে বাজেট পেশ হওয়ার আগে আমরা সবসময় আইসিটি খাতে সরকারের বাজেট বরাদ্ধের অপেক্ষায় ভাবনায় থাকি। যদিও জানি গতানুগতিক ধারায় আইসিটি খাতের বাজেট কখনো আমাদের প্লাবিত করেনি। তবু এই সরকারের ডিজিটাল ভাবনা আমাদের মতো সাধারণ জনগনকে যথেষ্ট অনুপ্রানিত করেছে। সেই অনুপাতে জাতীয় বাজেটে আমরা শতকরা ১০-২০ ভাগ প্রতিফলন দেখেছি। কিন্তু প্রত্যাশা ৫০-৬০ শতাংশ। ফলে বলা যায়, গুরুত্বের জায়গায় খুব বেশি পরিবর্তন হয়তো আমরা দেখেবো না। তাছাড়া সরকারের শেষ বছরের বাজেটে এরকম প্রত্যাশাও একটু কঠিন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আইসিটি খাতকে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখেছে। সেই লক্ষ্যে জাতীয় আইসিটি নীতিমালাকে যুগোপযুগি করে তৈরি করা হয়েছে। এই পলিসিতে নির্দিষ্ট কতগুলো উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধিনে ৩০৬টি কাজের দিক-নির্দেশণা আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই আইসিটি নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য এ পর্যন্ত বাজেটে কোন দিক-নির্দেশনা আসেনি। আমি মনে করি, আইসিটি পলিসির সাথে সমন্বয় করে আইসিটি বাজেটকে যথোপযোগী করার মাধ্যমে সরকার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রম সফলতার দিকে নিয়ে যাওয়া খুবই সম্ভব।

তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা এই অধ্যাপক বলেন, আইসিটির সুবাদে বর্তমান বিশ্ব আজ ভিন্নমাত্রার অবিচ্ছিন্ন রূপরেখায় আবর্তিত। সামাজিক মাধ্যম ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলেছে। এই সময় ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রা অনেক বেগবান হওয়া দরকার। তথ্যপ্রযুক্তিতে সফল প্রয়োগ ঘটাতে হলে দরকার সমন্বিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতা। বাংলাদেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ এখনো দারিদ্রের সাথে যুদ্ধ করছে। আমাদের এই বৃহৎ জনবলকে দারিদ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সফল করতে প্রয়োজন তথ্যপ্রযুক্তি প্রয়োগ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে জাতীয় বাজেটে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত।

তিনি বলেন, সরকারের আইসিটি খাতের বাজেট এবং আইসিটি পলিসি এই দুটির সাথে সমন্বয় না থাকাতে, এ বাজেটের প্রকৃত মূল্যায়ন করা কঠিন। আমার মনে হয়, আমাদের এ রকম একটি বাজেট দরকার যা একটি নির্দিষ্ট ছকে আইসিটি পলিসির সময়োপযোগী বাস্তবায়নে অগ্রনী ভূমিকা রাখবে। আর এ জন্য বাজেট বরাদ্ধ, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে বাস্তব ভিত্তিক পরিকল্পনা থাকতে হবে।

বাজেট প্রত্যাশা নিয়ে ইল্যান্স-বাংলাদেশ’র কান্ট্রি ম্যানেজার সাইদুর মামুন খান বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি এবারের বাজেটে আইসিটি খাতের আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিৎ। কেননা গত ৩-৪ বছরে এই সেক্টরে বাংলাদেশ যে হারে উন্নতি করতে পেরেছে, এখনি আসলে সবচেয়ে ভালো সময় এই উন্নতি অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়ার এবং তার জন্য অবশ্যই যথেষ্ট বিনিয়োগ দরকার, সরকারি এবং বেসরকারিভাবে।

তিনি বলেন, আইসিটি সেক্টরের জন্য একটি সুষম বাজেট যদি তৈরি হয়, তাহলে প্রাথমিকভাবে এই সেক্টরে দক্ষতা উন্নয়নের দিকটায় জোর দেয়া দরকার। আমাদের দেশে প্রচুর ছেলেমেয়ে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করছে, অথচ সনাতন চাকরির বাজারে তাদের কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এক্ষেত্রে যদি তাদেরকে প্রয়োজনীয় ট্রেনিং দিয়ে আইসিটি সেক্টরে কাজ করার জন্য দক্ষভাবে যদি গড়ে তোলা যায়, তাহলে জাতীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং উন্নয়ন নিয়ে আসা সম্ভব। যদি আমি সাম্প্রতিককালের অন্যতম একটি পেশা অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং এর উদাহরন দেই, তাহলে দেখতে পাবো গত মাত্র ৪ বছরে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার’রা নিজেদের অভাবনীয় উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। গত বছর নভেম্বরে জাতিসংঘের ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্সে উপস্থাপিত ‘ইনফরমেশন ইকোনমি রিপোর্ট ২০১২’ তে বলা হয়েছে যে বাংলাদেশের প্রায় ১০ হাজার ফ্রিল্যান্স প্রোগ্রামার প্রতি বছর প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে থাকে, যা এই দেশের সফটওয়ার রপ্তানির বাজারের এক-চতুর্থাংশের সমান  এবং যদি আমরা ভেবে দেখি, এটা শুধুমাত্র প্রোগ্রামারদের উপার্জন। এছাড়া ডিজাইন, ব্যবসায় সার্ভিস, লেখালেখি ইত্যাদি বিষয়ের ফ্রিলান্সাররাও কিন্তু যথেষ্ট পরিমান আয় করছে। আরও বড় বিষয় হল, এই ফ্রিল্যান্সারদের সবাইকে কিন্তু ঢাকাতে এসেই কাজ করতে হচ্ছে না, তারা নিজেদের জেলায় বসে কাজ করছে, উপার্জন করছে, এবং জেলা পর্যায়ে অর্থনীতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। এখনি সময় এই সেক্টরে পুরোপুরি গুরুত্ব দেয়ার। তবে হ্যাঁ, প্রশিক্ষন দিয়েই শুধু হবে না, কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা- যেমন সহজলভ্য মুল্যে কম্পিউটার, সারা দেশে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এসব দিকেও সরকারের যথেষ্ট উন্নতি করার অবকাশ আছে। যদি যথাযথ প্রশিক্ষন এবং সব ধরনের সহায়তার মাধ্যমে আমরা আরও দক্ষ ফ্রিল্যান্সার গড়ে তুলতে পারি, তাহলেই আমরা আগামী ৫-১০ বছরের মাঝে বিশ্বের অন্যতম আইসিটি হাবে পরিনত হতে পারবো।

শুধু বাজেট বাস্তবায়ন নয়, তার সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এক্ষেত্রে নিশ্চিত করা দরকার, যেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষন দেয় এবং এই সেক্টরে নিয়ে আসার জন্য তাদেরকেই তৈরি করা হয় যাদের অন্যান্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা- যেমন আন্তর্জাতিক ভাষাজ্ঞান, প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ইত্যাদি থাকে। তাই এসব বিষয়েও গুরুত্ব দিতে আহ্বান জানান ফ্রিল্যান্সারদের কাছে আইডল খ্যাত সাইদুর মামুন খান।

ইমদাদুল হক

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top