শিরোনাম

বুধবার, ডিসেম্বর 13, 2017 - পোক ফিচারটি ফিরিয়ে আনছে ফেসবুক | বুধবার, ডিসেম্বর 13, 2017 - গ্রামীণফোনের প্যানেল আলোচনায় ডিজিটাল চট্টগ্রামের রূপরেখা | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - দেশের সবচেয়ে বড় গেমিং প্লাটফর্ম ‘মাইপ্লে’ চালু করলো রবি | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - রাজধানীতে টেকনোর আরও নতুন দুইটি ব্র্যান্ড শপের শুভ উদ্বোধন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীতে ল্যাপটপ মেলা | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - জরুরি সেবা ৯৯৯ এর উদ্বোধন করলেন জয় | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - নতুন অ্যাপ ‘ফাইলস গো’ চালু করেছে গুগল | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বাজারে এলো শাওমির নতুন দুই ফোন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বিশ্ব বিখ্যাত পাঁচ রাঁধুনি রোবট |
প্রথম পাতা / ওয়েব / তথ্যপ্রবাহে আরেক ধাপ

তথ্যপ্রবাহে আরেক ধাপ

বশির মিয়ার অনেক শখের গরু ‘লালু’ হঠাৎ করেই খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিল। কবিরাজের ওষুধেও যখন কাজ হলো না তখন ছুটলেন উপজেলা পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে। লক্ষণ শুনে ডাক্তার জানালেন, লালুর থাইলেরিয়াসিস হয়েছে। এ রোগ নির্ণয়ে দেরি হলে চিকিৎসায় তেমন উপকার হয় না। দ্রুত রোগ নির্ণয় করে গরুর শরীরে মাত্রামতো ইঁঢ়ধৎাধয়ঁড়হব, উরসরহধুবহব ফরধপবঃঁৎধঃব ইত্যাদি প্রয়োগ করতে হয়। সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে কিছু ভিটামিন ইনজেকশনও দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু এ তথ্য তিনি সময়মতো পাননি। তথ্যহীনতার অভাবে গ্রামের কৃষকরা কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এটি তার একটি ছোট ও বাস্তব উদারহণ। সব শ্রেণী-পেশার মানুষই তথ্যের অভাবে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য তৈরি করা হয়েছে জাতীয় ই-তথ্যকোষ।
ই-তথ্যকোষ কী?
ই-তথ্যকোষ মূলত সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের তথ্যের ভান্ডার। এ তথ্যভান্ডারে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইন ও মানবাধিকার, নাগরিক সেবা, অকৃষি উদ্যোগ, পর্যটন, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিল্প ও বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থান বিষয়ে চার হাজারের বেশি নিবন্ধ রয়েছে। সাধারণ মানুষের যেসব তথ্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় সেগুলো এ তথ্যকোষে পাওয়া যাবে। ই-তথ্যকোষটি মূলত দেখভাল করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন বা এটুআই প্রকল্প। এটুআই পরিচালক নজরুল ইসলাম খান জানান, জীবন-জীবিকা সংক্রান্ত যেসব তথ্য মানুষের বেশি প্রয়োজনীয় সেগুলোতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেকোনো ব্যক্তি একেবারে বিনা মূল্যে এ তথ্যকোষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি সংগ্রহ করতে পারবেন। তথ্যগুলোকে ওয়েব (এইচটিএমএল), ডকুমেন্টস (পিডিএফ), চিত্র, অডিও, ভিডিও এবং অ্যানিমেশন আকারে দেওয়া হয়েছে। ব্যবহারকারীরা যেকোনো ফরম্যাটের কনটেন্ট খুঁজে নিতে পারবেন ওয়েবের মাধ্যমে। ব্যবহারকারীরা যে বিষয়ে তথ্য খুঁজতে চান সেটি লিখে সার্চ করলেই হলো।
শুরুর কথা
সম্প্রতি দেশের চার হাজার ৫০১টি ইউনিয়নে চালু করা হয়েছে ইউনিয়ন তথ্যসেবাকেন্দ্র। গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে সহজেই বিভিন্ন ফরম ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে নেওয়াসহ নামমাত্র খরচে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করতে পারে সে লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে ল্যাপটপ কম্পিউটার, প্রিন্টার এবং অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে এসব ইউনিয়ন তথ্যসেবাকেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
‘গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে সহজে বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্টও দেখতে পারে এ জন্য সরবরাহ করা হয়েছে বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্টও। অ্যাকসেস টু ইনফরমেশনের সংগ্রহে যেসব তথ্য ছিল সেগুলো গ্রামের মানুষের জন্য যথেষ্ট নয়। এ জন্য সরকারিভাবে তৈরি করা ডিজিটাল কনটেন্ট এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা ডিজিটাল কনটেন্টগুলো একত্র করারও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আর সে উদ্যোগটিই বর্তমানে ই-তথ্যকোষ।’ জানালেন প্রকল্পটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা এটুআই কর্মকর্তা সুপর্ণা রায়।
তিনি আরো জানান, ই-তথ্যকোষের যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালের জুনে। প্রথম যাত্রায় এটুআই-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। প্রতিষ্ঠানগুলোও একে একে এগিয়ে আসে তাদের নিজস্ব তথ্যভা ার নিয়ে। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ সরকারের সব মন্ত্রাণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও বেসরকারি সংগঠনগুলো এ তথ্যকোষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে থাকেন এবং তাঁদের কনটেন্টগুলো নিজেরাই এ তথ্যকোষে আপলোড করতে শুরু করেন। এভাবেই বাড়তে থাকে ‘ই-তথ্যকোষ’-এর তথ্যভান্ডার।
যেভাবে পাওয়া যাবে
ই-তথ্যকোষ অনলাইন ও অফলাইন দুভাবেই পাওয়া যাবে। অনলাইনে ই-তথ্যকোষ ব্যবহার করা যাবে িি.িরহভড়শড়ংয.নধহমষধফবংয.মড়া.নফ থেকে। একই কনটেন্ট অফলাইনে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন তথ্যসেবাকেন্দ্রে পাওয়া যাবে। ই-তথ্যকোষ হতে সহজে কনটেন্ট খুঁজে পাওয়ার জন্য কিওয়ার্ড ও কনটেন্ট-ভিত্তিক একটি সার্চ ইঞ্জিন সংযুক্ত করা হয়েছে। গুগলে তথ্য খোঁজার মতোই এ তথ্যকোষের সার্চ ইঞ্জিনের বক্সে যে বিষয়ে তথ্য জানতে চান সেটি টাইপ করলেই হলো। ওই কিওয়ার্ড ধরে তথ্যকোষ থেকে সব নিবন্ধের লিংক আসবে। প্রতিটি নিবন্ধেরই একটি শিরোনাম এবং নিবন্ধের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। আর নিবন্ধগুলোতে বিশেষ ধরনের ডকুমেন্ট খোঁজার ব্যবস্থাও রয়েছে। ধরুন, টমেটোর ছবি প্রয়োজন আপনার। এখন সার্চ বক্সে বাংলায় টমেটো লিখে সার্চ বক্সে ওপর চিত্র লেখা বাটনটিতে ক্লিক করে এরপর ‘তথ্য খুঁজুন’ বাটনটিতে ক্লিক করতে হবে। চিত্রের মতো একইভাবে ভিডিও, অডিও এবং অন্যান্য ডকুমেন্টও সার্চ করা যাবে। এ ছাড়াও হোমপেইজের নিচ থেকে বিভাগভিত্তিক সব নিবন্ধ দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে।
অনলাইনে ই-তথ্যকোষের তথ্যগুলো নিয়মিত আপডেট হলেও অফলাইন সংস্করণগুলো তিন মাস পর পর আপডেট করে দেওয়া হবে। কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি যদি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ই-তথ্যকোষের অফলাইন সংস্করণ সংগ্রহ করতে চাইলে প্রশ্নের জবাবে সুপর্ণা রায় জানান, যেহেতু ই-তথ্যকোষ কেবলমাত্র যাত্রা শুরু করল তাই বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। শিগগিরই বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।
এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে
দেশের বৃহত্তম এ তথ্যভান্ডারে তথ্য প্রদানে সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে। নজরুল ইসলাম খান জানান, সাধারণ মানুষ যাতে সহজেই প্রয়োজনীয় সব ধরনের তথ্য পেতে পারে সে জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এটি একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রকল্প। সবার জন্য তথ্য নিশ্চিত করতেই আমরা এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ই-তথ্যকোষের অংশীদার হয়ে সাইটটিতে তথ্য যুক্ত করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে নিজের তথ্যগুলো যেমন ই-তথ্যকোষের সার্ভারে আপলোড করে দেওয়া যাবে আবার চাইলে নিজস্ব ওয়েবসাইটে রেখে সেগুলোর লিংকও ই-তথ্যকোষে যুক্ত করা যাবে। অংশীদার হতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে যঃঃঢ়://িি.িরহভড়শড়ংয.নধহমষধফবংয.মড়া.নফ/সবসনবৎ.ঢ়যঢ় গিয়ে নির্দেশাবলি অনুসরণ এবং অনলাইন একটি ফরম পূরণ করতে হবে।
সুপর্ণা রায় জানান, ব্যবহারকারীদের জমাকৃত ফরমটি প্রথমে তথ্যকোষের অ্যাডমিন প্যানেলে জমা হবে এবং অ্যাডমিন থেকে এ সদস্যপদ গ্রহণ করা হবে। তথ্যকোষের অ্যাডমিন থেকে ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড প্রদান করা হয়। ওই আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সদস্য সংগঠন তাদের কনটেন্ট এ তথ্যকোষে তুলতে পারবেন।
ইতিমধ্যে দুই শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ই-তথ্যকোষের অংশীদার হয়ে সাইটটিতে তথ্য দিয়েছে। আরো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে এটুআই অফিসে ১৫টি সেমিনারও হয়।
সংযোগ স্থাপন করবে কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে
দেশে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির কাজ করে। তবে এত দিন এসব কনটেন্ট নির্মাতার মধ্যে ছিল না কোনো যোগসূত্র। দেখা গেছে, একই রকম কনটেন্ট তৈরি করছে একাধিক প্রতিষ্ঠান। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর সময় নষ্ট এবং আর্থিক অপচয় হয়েছে। এটুআই কর্মকর্তারা জানান, ই-তথ্যকোষ এসব ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতার মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে তাঁরা দেখতে পারবেন অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো কোন কোন কনটেন্ট ইতিমধ্যে তৈরি করে ফেলেছে। এ ক্ষেত্রে তাঁরা নতুন কনটেন্ট তৈরির উদ্যোগ নিতে পারবেন। একইভাবে সব কনটেন্ট এক প্ল্যাটফরমে আসায় আর্কাইভিং সিস্টেমও চালু হয়ে যাবে।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্যও
ই-তথ্যকোষে বর্তমানে চার হাজারের মতো নিবন্ধ রয়েছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে এ নিবন্ধ সংখ্যা পাঁচ হাজারে পৌঁছবে। নিবন্ধগুলো বেশির ভারই ডকুমেন্ট আকারে রয়েছে। এটুআই কর্মকর্তারা জানান, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরাও যাতে ওয়েবসাইটের কনটেন্টগুলো ব্যবহার করতে পারেন সে কারণে স্ক্রিন-রিডিং সুবিধা সংযোজন করা হবে। একই সঙ্গে মোবাইলের মাধ্যমে এ কনটেন্ট শোনা এবং দেখার ব্যবস্থাও তৈরি করা হবে।

Comments

comments



One comment

  1. Online Job From Home:
    Here you can earn an extra stream of income by completing simple tasks; We have advertisers that will pay you real cash money to simply view their websites, and other advertisers will pay you even more to join their various programs!
    Here at microbizs you can earn an extra stream of income by completing simple tasks; We have advertisers that will pay you real cash money to simply view their websites, and other advertisers will pay you even more to join their various programs!
    For Details: 01719937243, 01677560561.
    E-mail: khan.taher21@gmail.com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top