শিরোনাম

সোমবার, ডিসেম্বর 18, 2017 - বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির নির্বাচন ১০ মার্চ | সোমবার, ডিসেম্বর 18, 2017 - ইন্দোনেশিয়ার ইউএসএম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঊদ্যোক্তা বিষয়ে বক্তব্য দিলেন মোঃ সবুর খান | সোমবার, ডিসেম্বর 18, 2017 - মোবাইল ডেটা ব্যবহারে এগিয়ে গ্রামীণফোন | সোমবার, ডিসেম্বর 18, 2017 - বিদেশ থেকে এখন ৮টি মোবাইল ফোন আনা যাবে | রবিবার, ডিসেম্বর 17, 2017 - গুগল-ফেসবুকের বিজ্ঞাপনে ডলার পাচার-রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার | রবিবার, ডিসেম্বর 17, 2017 - রাইড শেয়ারিং সার্ভিস ‘ডাকো’র প্রথম যাত্রী আশরাফুল | রবিবার, ডিসেম্বর 17, 2017 - বাংলাদেশে এলো মোবাইল এ্যাপস ‘ফ্ল্যাশট্যাগ’ | রবিবার, ডিসেম্বর 17, 2017 - আগামী বছর ঢাকায় আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা : রাশেদ খান মেনন | রবিবার, ডিসেম্বর 17, 2017 - ‘ল্যাপটপ ফর অল’ ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে এটুআই ও সিঙ্গারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক | শুক্রবার, ডিসেম্বর 15, 2017 - শুরু হলো আসুস আরওজি জেফ্রাস গেমিং ল্যাপটপের প্রি-বুকিং |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / বাংলা ভাষায় তথ্যপ্রযুক্তি বই প্রকাশনার ২৫ বছর
বাংলা ভাষায় তথ্যপ্রযুক্তি বই প্রকাশনার ২৫ বছর

বাংলা ভাষায় তথ্যপ্রযুক্তি বই প্রকাশনার ২৫ বছর

banglaএকটা সময় ছিল যখন বাংলাতে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বই পাওয়া যেত না। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বই মানেই ইংরেজিতে লেখা কোনো বিদেশি বই। আর এই ধরনের বই সংগ্রহ করতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হতো। বাংলা ভাষায় এই ধরনের সংকটকে কাটিয়ে দিয়েছেন প্রযুক্তি বিষয়ক লেখক মাহবুবুর রহমান। তার লেখা বই শুধু বাংলাদেশেই না বিদেশেও রয়েছে যথেষ্ট কদর। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে তার জনপ্রিয়তা অনেক। তার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ সব বিষয় উঠে আসে।
নব্বই দশকের পূর্বে এ দেশে বাংলাতে তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কিত বই পাওয়া যেত না। বাংলাদেশে, বাংলা ভাষাতে তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কিত বই প্রথম উপহার দেন মাহবুবুর রহমান। তার লেখা বই পড়ে বর্তমানে অনেকেই নামকরা প্রোগ্রামার, ডিজাইনার হয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অবদান রাখছেন। ১৯৯২ সালে তার লেখা প্রথম বই ‘ওয়ার্ড পারফেক্ট’ প্রকাশিত হয়। এই বইটিতে তিনি ব্যপক সাড়া পেয়ে ছিলেন। এর পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে তার বই প্রকাশিত হয়েই যাচ্ছে। বই লেখা ও প্রকাশ কার্যকে আরও সহজ করতে তিনি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন সিসটেক পাবলিকেশনস। তার লেখা বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে- মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এক্সেল, অ্যাডোবি ফটোশপ, অ্যাডোবি ইলেস্টেটর ইত্যাদি। প্রোগ্রামিং বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে ভিজ্যুয়াল বেসিক নামের বইটি। ইতোমধ্যে তার লেখা বই এসএসসি ভোকেশনালে পাঠ্য তালিকায় যুক্ত হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকেও যুক্ত হয়েছে ‘ উচ্চ মাধ্যামিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ নামক বইটি। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তার লেখা বই-এর সংখ্যা ছিল ১৬ টি। ২০১৭ সালে এসে বইয়ের সংখ্যা হয়েছে ১০৪ টি।

book-mahbubবর্তমানে বাংলা ভাষাতে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক বই পাওয়া যাচ্ছে অনেক। এই প্রসঙ্গে মাহবুবুর রহমান বলেন,‘বাংলাদেশে সম্ভবত আমিই একমাত্র প্রফেশনাল আইটি লেখক। পার্টটাইমে আমি লেকচারার হিসেবে বিভিন্ন যায়গায় ক্লাস নিয়ে থাকি। আমি অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। ব্যবসাতে ডেডিকেটেট না হওহাতে আমি আর্থিকভাবে সফল নই। লেখালেখিতে ব্যস্ত থাকার কারণে মার্কেটিং ও ম্যানেজমেন্টে অতোটা ভালো করতে পারিনি। অনেকেই আছেন যারা একটি দুইটি বই লিখে ব্যপক মার্কেটিং করে সফল হয়েছেন। আমি যতোটা সময় পাই তার বেশির ভাগ সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বই লেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকি।’ এখনতো অনেক লেখক-ই তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত বই লিখছে।

লেখক হিসেবে কতোটা সফল সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘লেখক হিসেবে বলতে গেলে বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গে আমি সফল। আমার জীবনে সবচেয়ে বড় সফলতা হলো- বাংলাভাষী লক্ষ লক্ষ পাঠক আমার লেখা বই পড়ে সহজেই কম্পিউটারের অনেক কিছু শিখতে পেরেছে। এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি আমি বাণিজ্যিক চিন্তা করে বই লিখি না। চাহিদা অনুযায়ী পাঠকরা যে বিষয়ে বই পড়ে শিখতে চায় আমি সেই বই-ই লিখি।’ বাজারে যে ধরনের বইয়ের চাহিদা থাকে এবং তিনি তা অনুধাবন করে তার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘ ১৯৯৬ সালে যখন ভাইরাসের আক্রমনে লক্ষ লক্ষ অচল হয়ে পরে ঠিক সে সময়ে মানুষের কাছে ভাইরাস সম্পকের্ সঠিক কোনো ধারনা ছিল না। ভাইরাস সম্পর্কে সঠিক ধারনা ও এর থেকে বাচার উপায় নিয়ে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে ‘কম্পিউটার ভাইরাস’ নামের বইটি প্রকাশ করি।’ তিনি আরও বলেন,‘ ল্যাপটপের ব্যপক প্রচলন হওয়া ও সামান্য কয়েকটি বিষয়ে নজর রাখলে এটি দীর্ঘদিন চালানো যায়। এ বিষয়ে বিভিন্ন টিউটেরিয়াল নিয়ে আমি রচনা করি ‘ল্যাপটপ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা গাইট’ নামে একটি বই।’ মাহবুবুর রহমানের লেখা বই পড়ে পাঠকরা অনেক উপকৃত হচ্ছেন। তারা নিজেরাই ঘরে বসে বই পড়ে নিজে নিজে শিখে নিতে পারে তার কাঙ্খিত বিষয় টি। এই প্রসঙ্গে মাহবুবুর রহমান বলেন,‘আমার লেখা বাংলা ভাষাতে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বইগুলো পড়ে পাঠকরা অনেক যে উপকৃত হচ্ছেন তার উদাহারন দিতে গিয়ে আমি দুইটি অভিজ্ঞতার বর্ণনা করছি।

palak-mahbubবিশ্বের বিখ্যাত গ্রাফিক্স সফটওয়্যার নির্মাতা অ্যাডোবি ইন কর্পোরেশনের তৈরি অ্যাডোবি ফটোশপ দুনিয়ার সেরা গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার। গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে হলে এই সফটওয়্যারটি জানতেই হবে। আশির দশকের কথা। আমেরিকা থেকে বশিরুল হাসান নামে একলোক এই সফটওয়্যারটি শিখে এসেছেন।

তিনি অনেকগুলো পেন্সিল একসাথে করে বাকিয়ে একটি ডিজাইন করেছিলেন।  ৯০ দশকে যারা এই সফটওয়্যার জানতো তাদের অনেক কদর ছিল। ঐ সময়ে এই সফটওয়্যার এর কাজ শিখতে লাগতো ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। ঐ সময়ে বাংলা ভাষাতে লেখা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বই পাওয়া যেত না। আমার মাথায় আসলো কীভাবে বাংলা ভাষায় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বই সহজভাবে প্রত্যাশিদের কাছে পৌছে দেওয়া যায়। আমি এক ইন্সিটিটিউটের প্রশিক্ষকের সাহায্য চাইলাম, তাকে বললাম আপনি একটি বই লিখে দেন অ্যাডোবি ফটোশটপ সম্পর্কে।

তিনি আমাকে বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে, এইতো লিখে দিচ্ছি, সব গুছিয়ে ফেলেছি বলে দুই বছর পার করে দিলো। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম আমি নিজেই এই বিষয়ের ওপর ধারনা নিয়ে যাচাই বাছাই করে বই লিখব। যাদের কাছেই গিয়েছি তার এত কঠিন করে উপস্থাপন করে যে এটা অনেক কঠিন ব্যপার। আমার কম্পিউটারে অ্যাডোবি ফটোশপ সফটওয়্যার ইন্সটল করলাম এবং বাজার থেকে অনেকগুলো ইংরেজিতে লেখা বই সংগ্রহ করলাম।

এরপর হেল্প মেন্যু দেখে দেখে এগুতে থাকলাম। আমার ছাত্র, ছোট ভাই ও অন্যদের দ্বারস্থ হয়ে নামাজ ও ঘুম ব্যাতীত সমস্ত সময় এর পিছনে ব্যয় করলাম। অবশেষে চার মাস পরে একটি পূর্ণাঙ্গ বই প্রকাশ পারলাম।’ তিনি আরও বলেন,‘ বই প্রকাশের পর থেকে ফটোশট জানা লোকের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং কোর্স ফি ২ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে চলে আসে। বরিশাল থেকে নিলয় নামের একটি ছেলে আমার লেখা বই পড়ে ২০ ডিজাইন করে একটি সিডিতে করে আমার নিকট পাঠিয়ে দেয়।’ তার প্রকাশনার শুরুর দিকের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন,‘প্রায় ২৫ বছর যাবৎ তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বাংলাভাষায় বিভিন্ন বই প্রকাশ করে আসছি।

mahbubbur১৯৯৮ সাল থেকে মাইক্রোসফটের জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভিজ্যুয়াল বেসিকের ব্যবহার শুরু হয়। সারা বিশ্বে তখন এই প্রোগ্রামিং ভাষাটির ব্যপক জনপ্রিয়তা। তখন আমাদের দেশে এই বিষয়ে জানা লোক নেই বললেই চলে। আমাদের প্রকাশনা থেকে যখন আমরা এই বিষয়ে বই প্রকাশের চিন্তা করি তখন এর লেখক খুজে পাইনি। বুয়েটের তিন জন তরুণ প্রভাষক এ বিষয়ে আগ্রহী হন। তাদেরকে আমি ভালো একটি পেমেন্ট অ্যাডভান্স দিয়েছিলাম। প্রায় তিন সপ্তাহ পরে কয়েক পৃষ্ঠার একটি ফর্দ ধরিয়ে দিয়ে যায়। আরও দুই সপ্তাহ পরে বলে তাদের দ্বারা এ কাজ সম্ভব নয়। আমাকে এই বিষয়ে শিখাতে তাদের মধ্যে থেকে একজনকে রাজি করাই। তাদের কাছে শিখতে শিখতে ইংরেজিতে লেখা ৫টি বই সংগ্রহ করি। প্রোগ্রামটির হেল্পমেন্যু থেকে অনেক সাহায্য পাই। দিন-রাত পরিশ্রমের বিনিময়ে প্রায় সাড়ে চার মাস পর একটি বই লিখে সম্পন্ন করি এবং পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত বই হিসেবে বাজারে বের করি। এটিই বাংলা ভাষায় কম্পিউটারের প্রথম ভিজ্যুয়াল বেসিক ল্যাংগুয়েজের বই ‘ভিজ্যুয়াল বেসিক’। বইটি কম্পিউটার প্রেমীদের ব্যপক সাড়া জাগায়। এই বইটির সাহায্য নিয়ে আজ অনেকে প্রতিষ্ঠিত কম্পিউটার প্রোগ্রামার।’ বাংলা ভাষাতে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বই প্রকাশ শুরু হওয়াতে এখন বিদেশ থেকে হাজার হাজার বই আসা বন্ধ হয়েছে এবং বাংলা ভাষায় লেখা বই পশ্চিমবঙ্গসহ পৃথিবীর অনেকগুলো দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top