শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 23, 2017 - এলো ডেলের নতুন ইন্সপাইরন এন৭৩৭০ ল্যাপটপ | বুধবার, নভেম্বর 22, 2017 - আবার স্মার্টফোনে ফিরছে ইন্টেল | বুধবার, নভেম্বর 22, 2017 - উবারের ৫ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের তথ্য চুরি হয়েছিল | বুধবার, নভেম্বর 22, 2017 - ৫০০০মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি সহ বাজারে আসতে চলেছে নোকিয়া’র নতুন ফোন | বুধবার, নভেম্বর 22, 2017 - অনলাইন শপিংয়ে সিম কার্ড | বুধবার, নভেম্বর 22, 2017 - রেকর্ড গড়ছে বিটকয়েন | বুধবার, নভেম্বর 22, 2017 - প্রধানমন্ত্রীর নিকট অ্যাসোসিও ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যাওয়ার্ড হস্তান্তর | মঙ্গলবার, নভেম্বর 21, 2017 - ‘ডাকছে থাইল্যান্ড’ নামে মেগা ক্যাম্পেইন রবি’র | মঙ্গলবার, নভেম্বর 21, 2017 - ডিজিটালাইজেশনে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলো এখনো পিছিয়ে | মঙ্গলবার, নভেম্বর 21, 2017 - ভলভোর ২৪,০০০ গাড়ি কিনছে উবার |
প্রথম পাতা / কর্পোরেট স্পেশাল / বিকাশ দিয়ে প্রতারণা
বিকাশ দিয়ে প্রতারণা

বিকাশ দিয়ে প্রতারণা

হিটলার এ. হালিম:মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের বিরুদ্ধে এজেন্টদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। সিম রিপ্লেস করে একাধিক এজেন্টের হিসাব থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে একাধিক। বিকাশ এবং বিকাশের ডিস্ট্রিবিউটর হাউজের কর্মকর্তাদের যোগ সাজসে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন ভূক্তভোগীরা। অন্যদিকে বিকাশ নির্ধারিত চার্জের চেয়েও গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি টাকা নেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে এজেন্টদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও সম্প্রতি সন্ত্রাসীরা বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণও আদায় করছে বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অতি সম্প্রতি মিরপুরের বিকাশ এজেন্ট রবিউজ্জামান বিপ্লব অভিযোগ করেছেন তার এজেন্ট নম্বর (০১৭৭৭৬৮৮৫৮৪) থেকে ৩১ মার্চ দুপুরে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৪০ টাকা বিভিন্ন নম্বরে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি বিকাশ কর্তৃপক্ষ, ডিস্ট্রিবিউটর হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যবসায়ী সমাজের পরামর্শে গ্রামীণফোন সেন্টারে গেলে আমাকে জানানো হয় সিমটি রিপ্লেস (ডিস্ট্রিবিউটর হাউজ সিমের কাগজপত্র জমা দিয়ে আরেকটি সিম তুলে নেয়) করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।’ এ বিষয়ে তিনি মিরপুরের পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি (২১১৪/৩১-০৩-১৩) করেছেন। তিনি জানান, ডিস্ট্রিবিউটর হাউজ (শুভ্র এন্টারপ্রাইজ, বাগবাড়ি, গাবতলী) তাকে বিকাশের এজেন্ট করার সময় মোবাইলফোনের সিমটি তার নামে নিবন্ধন না করে ডিস্ট্রিবিউটর হাউজের নামে করেছে। ফলে নিবন্ধনের কাগজপত্র প্রতিষ্ঠানটির কাছে থাকায় সহজেই তারা বিকাশের যোগ সাজশে তার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
সম্প্রতি বিকাশের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপকর্মের অভিযোগ উঠলে এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালায়। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরো ভয়াবহ সব তথ্য। এ ধরনের একাধিক ঘটনা আরো আগেই ঘটেছে। বাংলাদেশ মোবাইলফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের কাছেও প্রায়ই আসছে এমন অভিযোগ।
জানা গেছে, বিকাশের মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট গ্লোবাল টেলিকমের ০১৭৭৫৫৫২১০০ নম্বর থেকে ১৮ হাজার ২০০ টাকা, সানা ইউটিলিটি কালেকশনের ০১৭৬২৬২০০১৯ নম্বর থেকে ২৪ হাজার টাকা এবং মিম টেলিকমের ০১৭৭৬২৯৪২৪৪ নম্বর থেকে ৫৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। শেষোক্ত সিমটি ১২ দিনে চারবার রিপ্লেস করা হয়েছে বলে গ্রামীণফোন সেন্টার থেকে জানা গেছে। অন্যদিকে সানা ইউটিলিটি কালেকশনের সূত্রে জানা গেছে তাদের সরিয়ে ফেলা ২৪ হাজার টাকা তারা কুমিল্লা থেকে উদ্ধার করেছে। এ ছাড়াও এজেন্টদের ব্যক্তিগত ০১৮২৭৭০১৯৯১, ০১৮৫০৮৫৫২১৯, ০১৭১৩২২৬৮৩৩ ও ০১৯১৬৭৭৩৬৮৭ ফোন নম্বর থেকে (এই নম্বরগুলো নিবন্ধন করে অর্থ লেনদেন করা হতো) টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগীরা।
বাংলাদেশ মোবাইলফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রায়ই এ ধরনের অভিযোগ আসছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেও আমরা কোনো সাড়া পাচ্ছি না। এরই মধ্যে এভাবে পুঁজি হারিয়ে সংকটে পড়েছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।’ তিনি জানান, বিকাশের প্রধান নির্বাহী, হেড অব সেলস ডিস্ট্রিবিউশন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি, গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী, এফবিসিসিআই সভাপতি এবং মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের কাছে চিঠি পাঠিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এই অপকর্মের সঙ্গে ডিস্ট্রিবিউশন হাউজ এবং বিকাশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা জড়িত। বিকাশের কেউ জড়িত না থাকলে এটি করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কারণ পিন নম্বর একটা বড় ফ্যাক্টর।’ তিনি আরো জানান, সিমের নিবন্ধন ডিস্ট্রিবিউটর হাউজের নামে না হয়ে এজেন্টের নামে হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না।

bkash
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিকাশের প্রধান নির্বাহী কামাল কাদির বলেন, ‘সিম রিপ্লেস করা সম্ভব নয়। যারা অভিযোগ করেছেন তাদের দোকানের কর্মচারীরাও টাকা সরিয়ে নিতে পারে।’ অভিযোগকারীর দোকানে কোনো কর্মচারী নেই জানানো হলে কামাল কাদির নিশ্চুপ থাকেন। গ্রামীণফোন সেন্টার থেকে সিম রিপ্লেস করার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ধরনের অভিযোগ আসেনি। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’ তিনি জানান, সারা দেশে বিকাশের ৪২ হাজার এজেন্ট। প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ লেনদেন হয় (প্রায় ১৯ কোটি টাকার মতো)। এর মধ্যে একটা দুটা অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে গেলেও যেতে পারে।
এদিকে বিকাশের এজেন্টদের বিরুদ্ধে টাকা পাঠানোর সময় চার্জ বেশি নেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। শতকরা ১ দশমিক ৮৫ টাকা চার্জ নেয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নেয়া হচ্ছে ২ টাকা। এমনকি টাকা ডেলিভারি দেয়ার স্থানেও সার্ভিস চার্জ দাবি করা হয় হাজারে ৫ টাকা। এই প্রতিবেদক টাকা পাঠানোর সময় একাধিক বার এমন ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করলে কামাল কাদির বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটলে গ্রাহকরা যদি আমাদের কল সেন্টারে ফোন করেন তাহলে আমরা এর প্রতিকার করতে পারব।’ তবে তিনি আবারো বলেন, ‘তবে এজেন্টদের চার্জ বেশি নেয়ার কথা নয়।’
এ ব্যাপারে দেশের খ্যাতনামা একজন প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘ডিস্ট্রিবিউটর হাউজ এবং বিকাশের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারা এ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। কারণ তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের লোকজন জানেন কীভাবে পিন নম্বর বের করতে হয়।’
বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণও আদায় হচ্ছে!
গত ২৩ অক্টোবর দুপুরের ঘটনা। রাজধানীর একটি শপিং মল থেকে বের হয়ে পাশের চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে চা পান করছিলো ব্যবসায়ী হাসিব। এমন সময় পাশ থেকে হঠাৎ করে একজন ব্যক্তি তাকে ধাক্কা দেয়। তিনি স্যরি বললেও পাশ থেকে আরো চার পাঁচ যুবক এসে হাসিবের জামার কলার চেপে ধরে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে সামনের দিকে নিয়ে যায়। ওই ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে কারওয়ান বাজারের পেছনে একটি ভাঙা বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আরো পাঁচ ছয় যুবক তার মতো আরো কয়েকজনকে তুলে এনে চোখ বেঁধে বসিয়ে রেখে নির্যাতন করছে। অস্ত্রের মুখে হাসিবকে তুলে এনেও প্রথম পর্যায়ে নির্যাতন করা হয়। এরপর স্বজনদের বিষয়ে জানতে চান। স্ত্রীর কথা জানালে তাকে ফোন করতে বলেন। হাসিবের স্ত্রীর সঙ্গে একটি সিটিসেল নম্বরে (০১১৯০৪৭০৯০৫) যোগাযোগ করে ‘বিকাশ’ নম্বরে (০১৯৬১৪৬৪৫৮১) এক ঘণ্টার মধ্যে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। কোনো উপায়ান্তর না দেখে হাসিবের স্ত্রী একটি বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে অপহরণকারীদের দেয়া নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠান।
অপহরণকারীদের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে এসব তথ্য জানান হাসিব। সেখানে আরো কয়েকজন মিলে তিনজন ব্যক্তিকে আটকে রেখে মারধর করছে। তাদের কাছেও বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে তিনি জানতে পারেন।
হাসিব বলেন, নিয়ে যাওয়ার পর তারা আমাকে রড দিয়ে বেধড়ক পেটায়। এরপর ঢাকায় কে আছে জানতে চায়। আমি স্ত্রীর কথা জানালে তাকে ফোন করে ২০ হাজার টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। এক ঘণ্টার মধ্যে টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। এরই মধ্যে আমার স্ত্রী ১০ হাজার টাকা ওই বাংলালিংক নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে পাঠানোর পর চোখ বেঁধে কারওয়ানবাজারে এটিএন বাংলা অফিসের সামনে ছেড়ে দেয়। পুলিশ পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ায় পুলিশের কাছে আর অভিযোগ করার সাহস করেননি তিনি কিংবা তার স্ত্রী।
কেবল হাসিবই নন, এরকম আরও অনেকেই প্রতিনিয়ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিপণের জন্য অপহরণের শিকার হচ্ছেন। কাউকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীর পরিচয়ে, আবার কেউ অপহƒত হচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে। আর এই মুক্তিপণের অর্থ নিরাপদে নিতে টাকা পাঠানোর দ্রুততম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার জন্য মোবাইল ফিনান্সিয়াল মাধ্যম ‘বিকাশ’ ব্যবহার করা হচ্ছে । কেবল অপহরণের মুক্তিপণ আদায়েই নয়, বিভিন্ন সন্ত্রাসীগোষ্ঠী চাঁদাবাজির টাকা আদায়েও বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জাঁকালো বিজ্ঞাপন দিয়ে ‘বিকাশ’কে দ্রুত ও নিরাপদে টাকা পাঠানোর জনপ্রিয় মাধ্যম বলা হচ্ছে। এর জনপ্রিয়তা শুধু শহরেই নয় গ্রামে-গঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিকাশের মাধ্যমে ঝুঁকি ও ঝামেলা ছাড়াই খুব সহজেই সাধারণ মানুষ টাকা লেনদেন করতে পারায় এই মাধ্যমকে ব্যবহার করে অপরাধীরা চাঁদাবাজি, মুক্তিপণ আদায় এবং অস্ত্র ও মাদক কেনাবেচায় ব্যবহার করছে।
গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যেসব চাঁদাবাজি ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে, তার বেশিরভাগ টাকাই সন্ত্রাসীরা বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন করছে। শুধু একটি মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় টাকা উত্তোলন করার সুযোগ থাকায় সন্ত্রাসীরা এই মাধ্যমটি বেশি ব্যবহার করছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপহরণকারী ও চাঁদাবাজদের ধরতে পারছেন না। টাকা উত্তোলন করা সহজ হওয়ায় চাঁদাবাজি ও অপহরণের ঘটনাও আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাবি করেছে।
বিকাশের ব্যাপারে দ্রুতই বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি প্রতিবেদন দেয়ার কথা জানিয়ে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, প্রায়ই বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীদের তুলে নিয়ে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপন দাবির অভিযোগ পাওয়া যায়। তদন্ত করে দেখা যায়, বিকাশের মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও মুক্তিপণের টাকা উত্তোলন বন্ধ করতে হলে এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বাড়াতে হবে। অপরাধীরা সাধারণত ভুয়া পরিচয়পত্র ও ছবি ব্যবহার করে বিকাশের অ্যাকাউন্ট খোলে। এক্ষেত্রে যে মোবাইল নম্বরে বিকাশ করা হয়, তার রেজিস্ট্রেশনও থাকে ভুয়া। একবার চাঁদা কিংবা মুক্তিপণ আদায়ের পর তা ফেলে দেয় অপরাধী চক্র। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীদের সহজে শনাক্ত করতে পারে না। ফলে এ ধরনের অপরাধের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিকাশ অ্যাকাউন্ট করার জন্য পাসপোর্টের মতো ছবি তুলে এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলা হলে অপহরনের ঘটনা অনেক কমে যেত।
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্র (সিআইপিসি) সূত্র জানায়, বিকাশের বিরুদ্ধে করা একাধিক অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব বিষয় জনস্বার্থের পরিপন্থী ও স্পর্শকাতর হওয়ায় বিকাশকে বারবার সতর্ক করেছে তারা। তবে বিকাশ কোনো নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে যাকে তাকে অ্যাকাউন্ট খুলে অর্থ লেনদেনের সুযোগ করে দিচ্ছে।
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিকাশ এজেন্ট জানান, বিকাশের গ্রাহক সংখ্যা অনুযায়ী গ্রাহক সেবা খুবই কম। কোন সমস্যা বা অভিযোগের ক্ষেত্রে বিকাশের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মাত্র একটি হটলাইন রয়েছে। এই হটলাইনটিতে কথা বলতে হলে অন্তত দশ মিনিট থেকে এক ঘন্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়।
অন্যদিকে বিকাশের হটলাইনে ফোন দিয়ে চাঁদাবাজি, অপহরন ও এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে বলা হয়, বিষয়গুলো সাম্প্রতিক সময়ে তাদের নজরে আসতে শুরু করেছে। তারা অপরাধ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ এলে পুলিশকে সাধ্যমতো সাহায্য করেন বলে দাবি করা হয়।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top