শিরোনাম

বুধবার, ডিসেম্বর 13, 2017 - পোক ফিচারটি ফিরিয়ে আনছে ফেসবুক | বুধবার, ডিসেম্বর 13, 2017 - গ্রামীণফোনের প্যানেল আলোচনায় ডিজিটাল চট্টগ্রামের রূপরেখা | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - দেশের সবচেয়ে বড় গেমিং প্লাটফর্ম ‘মাইপ্লে’ চালু করলো রবি | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - রাজধানীতে টেকনোর আরও নতুন দুইটি ব্র্যান্ড শপের শুভ উদ্বোধন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীতে ল্যাপটপ মেলা | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - জরুরি সেবা ৯৯৯ এর উদ্বোধন করলেন জয় | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - নতুন অ্যাপ ‘ফাইলস গো’ চালু করেছে গুগল | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বাজারে এলো শাওমির নতুন দুই ফোন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বিশ্ব বিখ্যাত পাঁচ রাঁধুনি রোবট |
প্রথম পাতা / কর্পোরেট স্পেশাল / রাষ্ট্রের গোপন তথ্য পাচারের পথ খুলছে বিটিআরসি
রাষ্ট্রের গোপন তথ্য পাচারের পথ খুলছে বিটিআরসি

রাষ্ট্রের গোপন তথ্য পাচারের পথ খুলছে বিটিআরসি

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘ইন্টারনেট সেফটি সলিউশন ইন বাংলাদেশ’ নামে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সম্প্রতি রহস্যজনক কারণে তা থেকে সরে আসছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের আশংকা, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে রাষ্ট্রের সব ধরনের গোপন ও স্পর্শকাতর তথ্য ও সিদ্ধান্ত বিদেশীদের হাতে চলে যাবে। তাদের ধারণা হঠাৎ করে বিটিআরসির সিদ্ধান্ত পাল্টানোর নেপথ্যে বড় ধরনের রহস্য রয়েছে। এর সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল কোনো গোয়েন্দা সংস্থার হাতও থাকতে পারে।

BTRC-6400
হেফাজতে ইসলামীর মতিঝিল অপারেশনের পর জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দেশী-বিদেশী সংস্থা, জঙ্গি সংগঠন ও নানা অপরাধী চক্র ইন্টারনেট, ইউটিউব, অনলাইন, ব্লগ ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী নানা তৎপরতা চালিয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল এন্টি সোস্যাল, এন্টি রিলিজিয়াস ও এন্টি গভর্মেন্ট অপরাধ। সরকারের নির্দেশের পরও এসব অপরাধ বন্ধ করতে গিয়ে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল বিটিআরসিকে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, ইন্টারনেটকেন্দ্রিক অপরাধগুলো যেসব মাধ্যমে হয়ে আসছিল তাদের বেশির ভাগ সংস্থার সার্ভার দেশের বাইরে হওয়ায় ইচ্ছা করলেই বিটিআরসি দ্রুত তা বন্ধ করতে পারছিল না। এজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে চিঠি লিখে ও বিভিন্নভাবে যোগাযোগের পর তা বন্ধ করতে হয়েছিল। এতে নানাভাবে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় অনলইনকেন্দ্রিক এসব অপরাধ দ্রুত পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়।
এ অবস্থায় ইন্টারনেটকেন্দ্রিক এসব আধেয়গুলো বাংলাদেশে প্রবেশের আগেই তা ব্লক কিংবা বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি। গত বছরের ২২ অক্টোবর বিটিআরসি আন্তর্জাতিকভাবে দরপত্র আহবান করে। বিটিআরসির নিজস্ব ওয়েবসাইটেও এই দরপত্র প্রকাশ করা হয়। দরপত্রে জানানো হয়, যে সংস্থা এই কাজটি পাবে তারা বিটিআরসির নিজস্ব খরচে দেশের আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে)গুলোতে আইএসএস মেশিন (ইন্টারনেট সেফটি সলিউশন) বসাবে। এজন্য বিটিআরসিতে একটি বিশেষায়িত শাখা খোলা হবে। মেশিন ইন্সটলেশনের পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বিটিআরসির ওই বিশেষায়িত শাখার জনবলকে ট্রেনিং দেবে। সবগুলো মেশিনের তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে বিটিআরসি মনিটরিং করবে এবং সরকারবিরোধী যে কোনো অপপ্রচার, তথ্য, ছবি, রিপোর্ট, ব্লগ মুহূর্তে বন্ধ করে দেবে। ট্রেনিং শেষে ওই কোম্পানি চলে যাওয়ার পর বিটিআরসির বিশেষজ্ঞ টিম এই কাজ শুরু করবে। এতে বিটিআরসির সিদ্ধান্তগুলো বাইরে পাচার হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না। তবে মেশিনকেন্দ্রিক যে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে তা মেরামত করে দেবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি।
বিটিআরসির একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, টেন্ডার প্রকাশের কিছুদিন পরই হঠাৎ রহস্যজনক কারণে বিটিআরসি ও মন্ত্রণালয়ের কতিপয় শীর্ষ কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। বিভিন্ন বৈঠক ও সভায় তারা বলতে শুরু করেন, সরকারের এসব ঝুঁকিপূর্ণ তথ্য তাদের ঘাড়ে নেবেন না। তারা এর দায়ভার আউটসোর্সিং করে বিদেশী কোনো কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ অবস্থায় সিদ্ধান্ত হয়, নতুন করে আবার টেন্ডার আহবানের। এরপরই প্রথম টেন্ডারটি বাতিল করা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় চলতি বছরের ১০ এপ্রিল নতুন করে আবার টেন্ডার আহবান করা হয়। ১ জুনের মধ্যে দরপত্র জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু বিপত্তি হচ্ছে নতুন টেন্ডারে আগের দেয়া বেশির ভাগ শর্ত পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে।
বিটিআরসির প্রকাশিত টেন্ডারে দেখা গেছে এবার বিটিআরসি কারও কাছ থেকে কোনো আইএসএস মেশিন ক্রয় করবে না। দরদাতা প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব খরচে দেশের আইআইজিগুলোতে মেশিনগুলো বসাবে। এজন্য তারা আলাদা অফিস প্রতিষ্ঠা করে বিশেষজ্ঞ জনবল নিয়োগ দেবে। বিটিআরসি সরকারের নির্দেশে সমাজবিরোধী, ধর্মবিরোধী ও দেশবিরোধী যেসব তথ্য, ব্লগ ও ইউটিউব বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দেবে সংশ্লিষ্ট বিদেশী কোম্পানি তা বন্ধ করে দেবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা জানান, এটা বাস্তবায়ন হলে মুহূর্তে সব তথ্য দেশের বিরোধী চক্র কিংবা বিদেশীদের হাতে চলে যাবে। কিংবা পাচার হয়ে যাবে। এতে সংশ্লিষ্ট অপরাধী কিংবা গোষ্ঠী অন্যভাবে তা প্রচারের সুযোগ পাবে। এছাড়া বিদেশী কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে এত বড় একটি প্রকল্পের সুইচ থাকলে সরকারবিরোধী যে কেউ যে কোনো সময় এর অপব্যবহারের সুযোগ পাবে।
এ প্রসঙ্গে টেলিকম মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু বক্কর বলেন, রাষ্ট্রের গোপন তথ্য পাচার হয়ে যাবে এটা বলা ঠিক নয়। তবে তিনি মনে করেন, এ ধরনের একটি স্পর্শ কাতর প্রকল্পের চাবি সরকার কিংবা রেগুলেটরি কমিশনের হাতে থাকা উচিত। কারণ সরকারের যে কোনো সিদ্ধান্ত বাইরের কেউ জেনে গেলে সেটা আর গোপন থাকবে না। তাছাড়া এতে জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে না। বিষয়টি এখনও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আসেনি। বিটিআরসি দেখছে। তাছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এর সঙ্গে যুক্ত আছে। সচিব বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। 

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top