শিরোনাম

বুধবার, সেপ্টেম্বর 20, 2017 - দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারী ব্যাকআপ দিবে আইটেল পি ১১ স্মার্টফোন | বুধবার, সেপ্টেম্বর 20, 2017 - ভিসা এবং এসএসএলকমার্জ শুরু করলো অনলাইন ধামাকার দ্বিতীয় রাউন্ড | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - প্রতিশ্রুতিশীল প্রযুক্তি বিষয়ক স্টার্টআপের খোঁজে সিডস্টারস ওয়ার্ল্ড | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - ফেইসবুকে কাউকে বন্ধু করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - ম্যার্শম্যালো এখনো শীর্ষে | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - দীর্ঘক্ষণ ব্যাটারি ব্যাকআপ দেবে ওয়ালটনের নতুন ফোন | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - হ্যাকারের হানায় ঝুঁকিতে সিক্লিনার ব্যবহারকারীদের ডিভাইস | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল রিয়ালিটি শো “বাংলালিংক নেক্সট টিউবার” | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - ড্যফোডিল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের বৃত্তিপ্রাপ্তদের সংবর্ধনা | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 19, 2017 - এইচপি’র মাল্টিফাংশন কপিয়ার বাজারে |
প্রথম পাতা / স্থানীয় খবর / স্বপ্নের হাইটেক পার্ক তৈরির শুরুতেই দুর্যোগ:মন্ত্রীর কারণে বন্ধের উপক্রম
স্বপ্নের হাইটেক পার্ক তৈরির শুরুতেই দুর্যোগ:মন্ত্রীর কারণে বন্ধের উপক্রম

স্বপ্নের হাইটেক পার্ক তৈরির শুরুতেই দুর্যোগ:মন্ত্রীর কারণে বন্ধের উপক্রম

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রস্তাবিত দেশের প্রথম হাইটেক পার্ক নির্মাণ নিয়ে শুরুতেই জটিলতা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে পার্ক তৈরির নীতিমালা লঙ্ঘনের।কেটিপিসি (কুলিম) নামে মালয়েশিয়ার একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে এটি নির্মাণের কাজ পায়। কিন্তু সামিট নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে ‘মোটা অঙ্কের সালামির প্রতিশ্রতির বিনিময়ে‘ মানবিক কারণ দেখিয়ে এই কাজের একটি অংশ দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলে জানা গেছে। সামিটের পক্ষে সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী কলকাঠি নাড়ছেন।

doel

এই অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ইতিমধ্যে মাঠেও নেমেছে বলে জানা গেছে। কেটিপিসি বা কুলিমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাদী আবদুল্লাহ বলেনপার্ক কর্তৃপক্ষ যে প্রস্তাব দিয়েছে সেটা কখনোই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এটা বেআইনি এবং নীতিমালার লঙ্ঘন। টেন্ডারে কাজ পাওয়ার পর মানবিক আবেদনের নামে এ ধরনের অপচেষ্টার কোনো অর্থ নেই। সাদী আবদুল্লাহ বলেনতাঁরা সুন্দরভাবে কাজটি স¤পন্ন করবেন বলে আশা রাখেন। এ ধরনের অসংখ্য কাজের পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার একর জমির ওপর একটি হাইটেক পার্ক নির্মাণ ও পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের। এ ব্যাপারে সামিট গ্রপের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ খান জানানতাঁরা এই কাজের ব্যাপারে কোথাও কোনো মানবিক আবেদন করেননি। অন্য কেউ করেছে কি না সেটা তাঁর জানা নেই।

এ ব্যাপারে তিনি কোনো কিছুই অবগত নন বলে জানান। প্রকল্পের সঙ্গে স¤পৃক্ত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা  জানানমানবিক আবেদনটা সামিটের হয়ে মূলত তাঁরাই করেছেন। বলা চলেএকজন মন্ত্রীর অনুরোধে করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এখনো এ ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আজ বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি বৈঠকও আছে বলে তিনি জানান। হাইটেক পার্কের প্রকল্প পরিচালক আজিজুর রহমান বলেনতাঁরা এই কাজের ব্যাপারে কেটিপিসি বা কুলিমকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। কারণসামিট দরপত্রে কাজটি পায়নি। সামিটের প্রস্তাবে অনেক ফাঁকফোঁকর ছিল। সামিট বলেছেএটির নির্মাণ ব্যয় পড়বে চার হাজার ২০০ কোটি টাকা। অপরদিকেকুলিম নির্মাণ ব্যয় ধরেছে ৮০০ কোটি টাকা। ফলে অহেতুক বেশি খরচ করে কোনো লাভ নেই। সব দিক বিবেচনা করেই কাজ করা হচ্ছে। তিনি জানানআগামী মাসের দিকে প্রস্তাবটি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে যাবে। যথাসময় কাজ শুরু হলে ২০১৬ সাল নাগাদ তা শেষ হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতকে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কালিয়াকৈরে ২৩২ একর জমিতে হাইটেক পার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়ে গত বছর আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করা হয়। সেখানে প্রাথমিক বাছাইয়ে ১৫টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় এবং দুটি প্রতিষ্ঠান যোগ্য বিবেচিত হয়। ৮৯ দশমিক ২৯ নম্বর পেয়ে প্রথম যোগ্য হয় মালয়েশিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান কুলিম টেকনোলজি পার্ক করপোরেশন (কেটিপিসি)। সামিট ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিজি ৭৭ দশমিক ৯৩ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় হয়। বর্তমান সরকার এর নির্মাণ ব্যয় ৭০০ কোটি টাকা ধরে এটিকে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবেও ঘোষণা করে। এ ছাড়া অবকাঠামো নির্মাণে এ পর্যন্ত সরকার প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ও করেছে। একই মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানানসামিট এ ধরনের কাজে অভিজ্ঞ সিঙ্গাপুরের এপিজির অংশীদার হয় ২০০৭ সালে। অথচ সামিট এ কাজে অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে ২০০৬ সাল থেকে। এটি মিথ্যা তথ্য। ২০০৭ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে ২০১২ সালের ৩ মার্চ সময় পর্যন্ত তাদের চার বছর তিন মাসের কাজের অভিজ্ঞতা হয়। অথচ দরপত্রে চাওয়া হয়েছিল ১০ বছরে অভিজ্ঞতা।

সেই বিবেচনায়ও তারা গ্রহণযোগ্য নয়। অংশীদার এপিজির সঙ্গে সামিটের শেয়ার মাত্র ২.৫০ শতাংশ। তারা শুধু নকশা ও স্থাপনার কাজ করবে বলে তাদের নথিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া এপিজির আছে মাত্র ২৩৬ একর হাইটেক পার্ক। অপরদিকেকেটিপিসির কাজের অভিজ্ঞতা ১৯৭৯ সাল থেকেপ্রায় ৩০ বছর। আর কেটিপিসির হাইটেক পার্ক আছে ১১ হাজার ৫০০ একর। বাকি বিষয়গুলোতেও কেটিপিসি এগিয়ে এবং তারা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এত কিছুর পরও একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর চাপে পড়ে পার্ক কর্তৃপক্ষ এখন পার্ককে তিন ভাগ করে মাত্র এক ভাগ কুলিমকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বাকি এক ভাগ সামিটকেএক ভাগ সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। কুলিম কর্তৃপক্ষের কাছে পার্কের কর্মকর্তারা এ প্রস্তাবকে ‘ইমোশনাল অ্যাপিল‘ হিসেবে মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।কুলিম এ প্রস্তাব মেনে না নিয়ে বিষয়টি মালয়েশিয়া সরকারকে জানিয়েছে। জানা গেছেতারা এ ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তি মর্ন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানানএকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান এই কাজের টেন্ডার পাওয়ায় এবং দেশের স্বার্থ ভেবে তাঁরা প্রাথমিকভাবে ঘটনাটির ওপর নজর রাখছেন। একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী চাইছেনকাজটি সামিট পাক। বিশেষ করে এই ধরনের জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কুলিম যদি সেটা ছেড়ে দেয় তাহলে সামিট একাই কাজটি করার সুযোগ পাবে। এটাও এই জট তৈরির একটা কারণ বলে মনে হচ্ছে। কুলিম যদি আইনের আশ্রয় নেয় তাহলে পুরো প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে তিনি মনে করেন। উল্লেখ্যএই স্বপ্নের প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে সরকারি খরচে তৈরি হয়েছে মূল প্রশাসনিক ভবনগেটওয়েঅভ্যন্তরীণ রাস্তাবৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রটেলিফোন সাব এক্সচেঞ্জগভীর নলকূপসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। বিটিসিএলের সহায়তায় নিশ্চিত করা হয়েছে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ। উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ঢাকা থেকে সরাসরি পার্কে চলাচলের জন্য শাটল ট্রেন চালুর। এ ছাড়া বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করতে পার্কের অদূরে ৫০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top