ঢাকা | বুধবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১২ মাঘ ১৪২৯ |
২১ °সে
|
বাংলা কনভার্টার
walton

অনলাইনে কেনাকাটায় মাত্র ২২ শতাংশ ক্রেতা প্রতিশ্রুত পণ্য পান

অনলাইনে কেনাকাটায় মাত্র ২২ শতাংশ ক্রেতা প্রতিশ্রুত পণ্য পান
অনলাইনে কেনাকাটায় মাত্র ২২ শতাংশ ক্রেতা প্রতিশ্রুত পণ্য পান

বৃহত্তর ঢাকা নগরে অনলাইনে কেনাকাটায় প্রায় ৫১ শতাংশ ভোক্তা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর অনলাইন কেনাকাটায় পুরুষের চেয়ে বেশি সন্তুষ্ট নারীরা। তবে মাত্র ২২ শতাংশ ক্রেতা প্রতিশ্রুত পণ্য পান অনলাইনে কেনাকাটায়।

‘ফ্যাক্টরস ডিটারমাইনিং স্যাটিশফেকশন অব অনলাইন কাস্টমারস ইন ঢাকা সিটি, বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় এতথ্য জানা গেছে। গত ১১ ডিসেম্বর গবেষণা প্ল্যাটফর্ম রিসার্চগেটে নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়।

গবেষণাতে উল্লেখ করা হয়, অনলাইন কেনাকাটায় নারী ক্রেতাদের ৬২ শতাংশ ও পুরুষ ক্রেতাদের ৪৩ শতাংশ সন্তুষ্ট। তবে ৪৯ শতাংশ গ্রাহক অনলাইনে পণ্য কিনতে অস্বস্তিবোধ করেন।

গবেষণাটি ‘জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি জার্নাল অব বিজনেস রিসার্চ’ এর ২২ নম্বর ভলিউমে অন্তর্ভুক্ত।

অনলাইনে কেনাকাটায় নয়টি সূচক গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পণ্য দেওয়া, সশরীরে কেনাকাটার সঙ্গে অনলাইনে দামের সামঞ্জস্য, পণ্যের লিখিত ও দৃশ্যমান বিবরণ, গ্রাহক সেবা ও সমস্যা সমাধান, সময়মতো পৌঁছানো, ডেলিভারি মূল্য, দ্রব্য বা অর্থ ফেরত নীতিমালা, বিক্রেতা ও ডেলিভারি ম্যানের আচরণ এবং পণ্যের ওয়ারেন্টি সেবাগ্রহীতাদের সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি নির্ধারণে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে বলছে গবেষণা।

এর মধ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পণ্য সূচকটির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে দামের সামঞ্জস্য এবং তৃতীয় সূচকটি হলো পণ্যের দৃশ্যমান ও লিখিত বিবরণী।

গবেষণায় দাবি করা হয়, ঢাকা শহরে অনলাইন কেনাকাটায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পণ্য পান ২২ দশমিক ৪৫ শতাংশ ক্রেতা। গ্রহণযোগ্য মূল্যে কেনাকাটা করেন ১৬ শতাংশ। আর বিবরণ অনুযায়ী পণ্য পান ১৪ শতাংশ অনলাইন ক্রেতা। যেখানে পণ্য ডেলিভারির মূল্য গড়ে পণ্যমূল্যের ২২ শতাংশ।

গবেষণাপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, সময়ের স্বল্পতা, অবস্থানগত সুবিধা, পণ্যের প্রকরণ ও ভিন্নতা—এ তিনটি কারণে অনলাইনে কেনাকাটা করের মানুষ। গত পাঁচ বছরে অনলাইনে কেনাকাটা বহুগুণ বেড়েছে। দেশে বর্তমানে ছয় হাজারের বেশি ‘সেলার রেটিংসহ’ সক্রিয় অনলাইন সাইট রয়েছে।

মেমবার রেকর্ড বুক অব মার্কেট প্লেস বাংলাদেশের তথ্যমতে, দেশে প্রায় ৪৫ হাজার অনলাইন বিক্রেতা আছেন, যারা অল্প কয়েক ধরনের পণ্য বিক্রি করে আসছেন।

বিভিন্ন বয়স, পেশা ও আর্থসামাজিক অবস্থান থেকে উঠে আসা ক্রেতাদের ওপর এ জরিপ চালানো হয়। কমপক্ষে এক বছর অনলাইনে কেনাকাটা করেছেন— এমন ১৫৬০ জনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এদের মধ্যে ৯৩৬ জন পুরুষ ও ৬২৬ জন নারী রয়েছেন। গবেষণায় শুধুমাত্র নন-ফুড পণ্যদ্রব্যকে বিবেচনা করা হয়।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) অধ্যাপক এস এম ইখতিয়ার আলম।

তিনি বলেন, ‘বিদেশে অনলাইন ব্যবস্থার সুফল দেখে দেশে একের পর এক অনলাইন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। কিন্তু আমাদের দেশের লোকজন তো তাদের মতো না। দেশের অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্য বিক্রির নামে প্রতারণা করে যাচ্ছেন।’

এ অধ্যাপক আরও বলেন, ‘অনলাইন কেনাকাটায় অনেক ক্ষেত্রেই পণ্য বুঝে নেওয়ার আগেই টাকা পরিশোধ করতে হয়। এক পণ্য দিতে চেয়ে আরেক পণ্য দেওয়ার ঘটনা তো আছেই। এমনকি পণ্যের পরিবর্তে ফাঁকা বাক্স হাতে ধরিয়ে দেওয়ার নজিরও কম নয়। এটা এক ধরনের ফৌজদারি অপরাধ। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা কাজ করছে না।’

অনলাইনে কেনাকাটা,৫১ শতাংশ ভোক্তা সন্তোষ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়