ঢাকা | বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ |
২৮ °সে
|
বাংলা কনভার্টার
walton

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নির্বিচার অপপ্রয়োগ হচ্ছে:মানবাধিকার সংগঠন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নির্বিচার অপপ্রয়োগ হচ্ছে:মানবাধিকার সংগঠন
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নির্বিচার অপপ্রয়োগ হচ্ছে:মানবাধিকার সংগঠন

মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) বলেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নির্বিচার অপপ্রয়োগ হচ্ছে। মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসীদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ সত্ত্বেও এ আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে সংগঠনটি। প্রতিবেদনে ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফের সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

এমএসএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাতটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় একজন সাংবাদিকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ মামলাগুলোয় মোট ২০ অভিযুক্ত ব্যক্তির মধ্যে ৯ জন গণমাধ্যমকর্মী, ১ জন আইনজীবী, ১ জন যুবদল কর্মী, ৭ জন যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ও ২ জন সাধারণ নাগরিক।

এমএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কোনো বক্তব্য বা মতামতকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে যেভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, তা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে এ আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধন করার কথা বলা হলেও আলোচিত-সমালোচিত ধারাগুলোতে পরিবর্তন না এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের খসড়া নীতিমালায় সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ আইনের যে ধারাগুলো পরিষ্কারভাবে হয়রানিমূলক, সরকারের উচিত দ্রুত সেগুলো বাতিল করা। নয়তো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অপব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।’

এমএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারি মাসের চিত্র ছিল উদ্বেগজনক। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় অন্তত ৪৩ সাংবাদিক নানাভাবে হত্যার হুমকি, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত হয়ে আহত হয়েছেন ৩০ সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ এবং সন্ত্রাসীদের পক্ষ থেকে ৯ সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন চারজন। ২ ফেব্রুয়ারি রাতে বান্দরবানের রুমায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে সেনাবাহিনীর সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্যদের গোলাগুলিতে এক সেনাসদস্যসহ চারজন নিহত এবং এক সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধ হন। ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে উখিয়ার ৪ নম্বর রাজাপালং ইউনিয়নের জলিলের গোদা আমবাগান নামক স্থানে মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে আসা কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মাদক কারবারিদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও কোনো হতাহত হয়নি। সেখান থেকে দুই লাখ ইয়াবা জব্দ করা হয় বলে দাবি করা হয়।

এমএসএফ বলে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেআইনি, অসাংবিধানিক ও ফৌজদারি অপরাধ, যা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। ফেব্রুয়ারি মাসে পুলিশি নির্যাতনে একজনের মৃত্যু, পুলিশি গুলিবর্ষণ ও পুলিশ কর্তৃক এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বলে জানায় এমএসএফ। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে থানা–পুলিশের নির্যাতনে উজির মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগে এলাকাবাসী জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবিতে লাশ নিয়ে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক অবরোধ করেন।

ফেব্রুযারি মাসে কারা হেফাজতে ১ শিশুর আত্মহত্যা, ২ নারীসহ ১৪ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে মোট পাঁচজন, ঢাকা কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন নারীসহ তিনজন এবং চুয়াডাঙ্গা কারাগারে একজন নারীসহ দুজন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। দেশের অন্য তিন জেলা কারাগারে তিনজন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। এমএসএফের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারি মাসে সীমান্তে হত্যা-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন পাঁচজন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন,অপপ্রয়োগ,মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়