ঢাকা | শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮ |
৩৩ °সে
|
বাংলা কনভার্টার

উদ্ভাবনী-কেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রচেষ্টার মূলে দেশীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম:পলক

উদ্ভাবনী-কেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রচেষ্টার মূলে দেশীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম:পলক
উদ্ভাবনী-কেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রচেষ্টার মূলে দেশীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম:পলক

উদ্ভাবনী-কেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রচেষ্টার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে দেশীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ইমপ্যাক্ট এক্সিলারেটর (এসডিজিআইএ) ২য় কর্মসূচির সমাপনী এবং বাস্তবায়ন পর্বের শুরু উপলক্ষে ৮ জুলাই আয়োজিত ভার্চুয়াল ডেমো ডে’তে বক্তব্য দিতে গিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, এমপি, এই কথা বলেন।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত চার বছরে বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ খাতে বিশেষত ফিনটেক, লজিস্টিকস এবং ডিজিটাল কমার্স স্টার্ট-আপ মিলিয়ে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিদেশী বিনিয়োগ দেশে আনতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “অনলাইন খাতে জনবলের সরবরাহে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ এবং বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সব স্টার্ট-আপ এবং প্রযুক্তিগত উদ্যোগের উন্নয়নের পাশাপাশি উদ্ভাবনী প্রজন্ম তৈরিতে কাজ করছে বাংলাদেশ।”

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা আইসিটি খাতের ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং বিশ্বে নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে সারাদেশে ৩৯টি হাইটেক পার্ক, ৬৪টি শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার, ৩০০টি স্কুল অব ফিউচার, ৩৫ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব নির্মাণ করছি। এছাড়াও আমারা সেন্টার ফর ফোরথ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এবং শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজির তৈরি করছি যা ২০২৫ সালের মধ্যে চালু হবে।”

করোনার মধ্যেও গতবছর জিডিপির ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম দেশ উল্লেখ করে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মহামারী চলাকালীন সময়ের মধ্যে সরকারি সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, কৃষি, বিনোদন, এবং অন্যান্য ব্যক্তি উদ্যোগের ব্যবসায়সহ সকল ক্ষেত্রে ডিজিটাল স্থানান্তর প্রক্রিয়া দ্রুতকরণের ফলে এটি সম্ভব হয়েছে। ১২ বছর আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন প্রদানের মাধ্যমে এ যাত্রা শুরু হয়েছিল। ডিজিটাল বাংলাদেশের নির্মাতা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় এর নির্দেশিত কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি ২০২১ আওতায় চারটি স্তম্ভ বা ব্লক ডিজিটাল গর্ভনেন্স, কানেক্টিভিটি, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট, এবং আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশন বাস্তবায়ন অব্যাহত আছে।”

দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং স্টার্ট-আপগুলো কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চলমান রাখতে একটি অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছে। টেলিমেডিসিন, লাইভ আপডেট, সেলফ টেস্টিং টুলস, ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক, জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩, ই-নথি, এআই পাওয়ার চ্যাটবট, কন্টাক্ট ট্রেসার, মোবাইল ফান্যানসিয়াল সার্ভিস, ডিজিটাল কর্মাস, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং ভিডিও মহামারি মধ্যে মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, বলেন তিনি। এসডিজিআইএ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দলগুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ডিজিটাল কৃষি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া উদ্যোগগুলোকে সহায়তার জন্য এসডিজি ইমপ্যাক্ট এক্সিলারেটর (এসডিজিআইএ) কে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তুরস্ক সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ইমপ্যাক্ট এক্সিলারেটর (এসডিজিআইএ) কর্মসূচি উগান্ডার ডিজিটাল কৃষি এবং বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সমাধানের জন্য কাজ করা উদ্যোক্তাদের এবং উদ্ভাবকদের উৎসাহ যোগাবে। তারা আশা করেন, বিশ্বের বিনিয়োগকারী, পরামর্শদাতা, এবং অংশীদারদের সহায়তায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উদ্ভাবকদেরকে ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানে স্টার্ট আপগুলোকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে তুরষ্কের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী এবং ইইউ বিষয়ক পরিচালক অ্যাসেন আলটু, উগান্ডার বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিষয়ক মন্ত্রী ড. ম্যাক্সওয়েল ওতিম ওনপা, ইউএনডিপির তুরস্কের আবাসিক প্রতিনিধি লুইসা ভিটন এবং ইউএন টেকনোলজি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোশুয়া সেতিপা, বাংলাদেশে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান, এবং উগান্ডায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত কারেম অ্যালপ বক্তব্য প্রদান করেন।

ভার্চুয়াল ডেমো ডে’র শুরুতে বাংলাদেশ ও উগান্ডার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের দশটি স্টার্ট-আপের প্রতিনিধিরা তাদের সমাধান উপস্থাপন করেন। ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশন দলের বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশের দুটি স্টার্ট-আপ ‘ভালো’ ও ‘স্বাধীন’ এবং ডিজিটাল এগ্রিকালচার দলের বিজয়ী দুটি টিম হলো তানজানিয়ার ‘ফ্লেমিংগু ফুডস’ এবং ভারত/নেদারল্যান্ডসের ‘বোরলাগ ওয়েব সার্ভিসেস’। প্রতিযোগীতায় অংশ নেওয়া অন্যান্য স্টার্ট-আপগুলো হলো- বাংলাদেশের মাইক্যাশ, ভারতের ডব্লিউএইচআরআরএল, ভারত ও যুক্তরাজ্যের ফান্ডফিনা, উগান্ডার অ্যাগ্রো সাপ্লাই ও নামপ্যা ফার্মারস মার্কেট, এবং তুরস্কের ফরফার্মিং। এর মধ্যে বিজয়ী চারটি দল স্টার্ট-আপ বাস্তবায়ন পর্বের জন্য ১০০,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইক্যুইটি-ফ্রি অনুদান পাবেন।

স্টার্টআপ,পলক
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়