ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮ |
২৬ °সে
|
বাংলা কনভার্টার

অর্থনীতিতে অবদান রেখেও উপেক্ষিত এসএমই খাত

অর্থনীতিতে অবদান রেখেও উপেক্ষিত এসএমই খাত
অর্থনীতিতে অবদান রেখেও উপেক্ষিত এসএমই খাত

আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতকে পুনরায় সচল করতে সরাসরি কোনো নগদ প্রণোদনার প্রস্তাব আসেনি। এ খাত সংশ্লিষ্ট লাখো লোক কাজ হারালেও, বাজেটে সরকার কেবল স্বল্প আকারে কিছু কর মওকুফের প্রস্তাব করেছে।

বরং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২১-২২ সালের বাজেট প্রস্তাবনায় এ খাতে এর আগের এক লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।

গত বছর করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হলে সিএমএসএমই ও অনানুষ্ঠানিক খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মতে, এ খাতগুলোতে আগের প্রণোদনা প্যাকেজগুলো খুব একটা কাজে লাগেনি।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে এ খাতের ওপর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর একটি জরিপে দেখা গেছে, উত্তরদাতাদের ২২ দশমিক ৩৯ শতাংশই ততদিনে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মহামারির আগের ৩০ লাখ বেকার যোগ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় যে দেশের প্রায় এক কোটি ৩৫ লাখ লোক গত বছর কর্মহীন হয়েছেন, যা দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় এক পঞ্চমাংশ।’

এর মধ্যে বেশিরভাগ লোক কাজ হারিয়েছেন এই এসএমই খাতেই। এ ছাড়া, গত বছর বিদেশে চাকরি হারিয়ে প্রায় চার লাখ অভিবাসী শ্রমিক দেশে ফিরেছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) দেশের তিন হাজার ৩৪৮টি পরিবারের ওপর একটি জরিপ চালায়। জরিপে দেখা যায়, দেশের ভেতরে অন্য এলাকায় গিয়ে কাজ করা অন্তত ৪৯ শতাংশ মহামারির কারণে গত বছরের মার্চ-ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ হারিয়েছেন, বেতন পাননি কিংবা বেতন কমেছে।

করোনার কারণে আত্মকর্মসংস্থান করা প্রায় ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নির্দিষ্ট বেতনে চাকরি করা ৩৪ দশমিক দুই শতাংশ মানুষের আয় কমে গেছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা আগের আয়ে ফিরতে পারেননি।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনা মহামারির কারণে দেশে আড়াই থেকে তিন কোটি মানুষ নতুন দরিদ্র হয়েছে এবং এজন্য আগামী অর্থবছরে অগ্রাধিকারের তালিকায় প্রথমে থাকা উচিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

নগদ প্রণোদনার কথা উল্লেখ করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ব্যবসা ফিরিয়ে আনতে এবং লাখো মানুষের চাকরি ধরে রাখতে এসএমই খাতের মালিকদের হাতে নগদ টাকা থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘ট্যাক্স কমানোর সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ের কাঁচামাল কিনতে বা আমদানি করতে সহায়তা করবে। কিন্তু, ব্যবসা ফিরিয়ে আনতে এবং কর্মী ধরে রাখতে ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাইলে সরাসরি নগদ সহায়তা বা প্রণোদনা লাগবে।’

সিএমএসএমই খাতে সরকারের কমপক্ষে ৫০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত প্রণোদনা প্যাকেজ বরাদ্দ করা উচিত বলে গবেষক গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন। তিনি বলেন, ৫০ হাজার কোটি টাকার ৩০ শতাংশ রাখা উচিত নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য।

প্রণোদনা হিসেবে সরকার কুটির-ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য এ পর্যন্ত ২৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, যার ৭২ শতাংশ বিতরণ করা হয়েছে।

এসএমই মালিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক কোটিরও বেশি উদ্যোক্তার ১৫ শতাংশ উদ্যোগ বন্ধ হয়ে গেছে এবং প্রায় অর্ধেক টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে।

এসএমই,অর্থনীতি
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়